ইমরানুরের মুকুট অক্ষুন্ন শিরিনের পুনরুদ্ধার
নতুন কাউকেই পাওয়া যায়নি। উঠে আসছেন না নতুন কোন অ্যাথলেট। ইমরানুর রহমান ও শিরিন আক্তারের গন্ডিতেই ফের আবদ্ধ দেশসেরার মুকুট।
রোববার জাতীয় স্টেডিয়ামে ট্র্যাকে ঝড় তুলেছেন নৌবাহিনীর এই দুই অ্যাথলেট। ১০.৫৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্রুততম মানবের খেতাব অক্ষুণœ রাখলেন ইংল্যান্ড প্রবাসী অ্যাথলেট ইমরানুর রহমান। জাতীয় ও সামার মিট মিলিয়ে ছয়বার এই মুকুট মাথায় পড়লেন তিনি। ইমরানুরের এই সাফল্যে উদ্ভাসিত উপস্থিত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও। তাইতো ইমরানুরকে ক্রীড়াভাতার আওতায় আনার ঘোষণা দেন তিনি। অন্যদিকে ১২.১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে ফের দ্রুততম মানবীর মুকুট নিজের মাথায় তুলে নিলেন শিরিন আক্তার। যা তিনি গত বছরের আগষ্টে সামার অ্যাথলেটিকসে হারিয়েছিলেন সতীর্থ সুমাইয়া দেওয়ানের কাছে। এবারের আসরে ১৭তম দ্রুততম মানবীর খেতাব জিতে সাবেক দ্রুততম মানবী নাজমুন নাহার বিউটির সমান্তরে দাঁড়ালেন শিরিন।
সেরার মুকুট জিতলেও তাদের পারফরম্যন্স চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে দেশের অ্যাথলেটিকসের দৈন্যদশা। গত সামার অ্যাথলেটিকসে ১০.৬৪ সেকেন্ড সময় দ্রুততম মানবের খেতাব পুনরুদ্ধার করেছিলেন ইমরানুর। আর এবার সময় নিয়েছেন ১০.৫৮ সেকেন্ড। ঘরোয়া আসরে উন্নতীর লক্ষ্যন দেখা গেলেও আদোতে উন্নতি নয়, বরং অবনতিই হয়েছে ইমরানুরের। কারণ ২০২৩ সালে লন্ডনে একটি আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্টে ১০.১১ সেকেন্ড সময় নিয়েছিলেন তিনি। ফলে অবনতিই হয়েছে ইমরানুরের। বিষয়টি স্বীকারও করলেন তিনি, ‘সব সময় ভাল টাইমিং দেওয়া যয় না। আমি এরচেয়েও ভাল পারফরম্যান্স করতে পারি।’ এশিয়ান গেমস নিয়ে ইমরানুরের কথা, ‘ভাল অনুশীলন হলে রেজাল্টও ভাল হবে। আশাকরি এশিয়ান গেমসের আগে ভাল প্রস্তুতি নিতে পারব, তাহলেই ভাল ফল করতে পারব।’
দ্রুততম মানবীর খেতাব পুনরুদ্ধার করলেও টাইমিংয়ে একই দশা শিরিনেরও। এবার ১২.১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্রুততম মানবীর শিরোপা পুনরুদ্ধার করেন তিনি। যদিও ২০২২ সালে সামার অ্যাথলেটিকসেই ছিল তার ক্যারিয়ার সেরা টাইমিং ছিল ১১.৯৫। গত বছর সামারে সুমাইয়া দেওয়ানের কাছে হেরেছিলেন। বিয়ের পর ফের সেই তখতে বসলেন শিরিন। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘মনেতো বিয়ে ভাগ্য আমার ভাল।’ নিজের স্বামী সম্পর্কে শিরিন বলেন, ‘আমার স্বামী বিমানবাহিনীর হয়ে বাস্কেটবল খেলে থাকেন। তিনি আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা দেন। শুধু তাই নয়, ঈদুল ফিতরে শশুর বাড়ি পাবনাতে ঈদ করেছি। সেখানেও স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছি। আমার স্বামী সেখানেও অনুশীলনে সহযোগিতা করেছেন।’
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: