জাতীয় হুইলচেয়ার বাস্কেটবলের দুই বিভাগেই লাল দল চ্যাম্পিয়ন
তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষ্যে জাতীয় হুইলচেয়ার বাস্কেটবলের পুরুষ ও মেয়েদের দুই বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লাল দল।
মঙ্গলবার ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশের (এনপিসি) উদ্যোগে সাভারের সেন্টার ফর দি রিহ্যাবিলিটেশন অফ দি প্যারালাইজডে (সিআরপি) অনুষ্ঠিত ছেলেদের চ্যাম্পিয়ন লাল দলের আটজনকে আটটি স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। প্রথম রানার্সআপ সবুজ দল ও দ্বিতীয় রানার্সআপ নীল দল। অন্যদিকে মেয়েদের বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে লাল দলের খেলোয়াড়গণ স্বর্ণপদক এবং রানার আপ হয়ে সবুজ দলের খেলোয়াড়গণ রুপা জেতেন। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ভেলরি এন টেইলর। এ সময় সিআরপির নির্বাহী পরিচালক ও এনপিসি বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য ড. মোহাম্মদ সোহরাব হোসাইন, এনপিসি বাংলাদেশের মহাসচিব ড. মারুফ আহমেদ এবং এনপিসির যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক ক্রিকেটার সানোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ভেলরি এন টেইলর অংশগ্রহণকারী সকল খেলোয়াড়দের জন্য উৎসাহ ও উপদেশমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, খেলাধুলা শুধু প্রতিযোগিতার জন্য নয়, এটি উপভোগের জন্যও হওয়া উচিত যাতে সকলের মনে আনন্দ পেতে পারে। ততিনি খেলয়াড়দের প্রতিদিন ধীরে ধীরে নিজেদের উন্নতির প্রতিও গুরুত্ব প্রদান করেন। সকলের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন। বিশেষ অতিথি তার বক্তব্যে খেলোয়াড়সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং উৎসাহ প্রদান করেন। তিনি খেলাধুলাকে পুনর্বাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে উঠতে সকলকে সচেষ্ট হতে উৎসাহ প্রদান করেন। সিআরপির ট্রাস্টি বোর্ড (টিআরপি) সদস্য জনাব আমিনুল হক তার বক্তব্যে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গণে হুইলচেয়ার বাস্কেটবলের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরেন, বিশেষত ৪ বছর আগে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের পারফর্ম্যান্স এর প্রশংসা করেন। ভবিষ্যতে এই খেলাকে এগিয়ে নিতে এনপিসি বাংলাদেশের সাথে থাকবেন বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। এনপিসি বাংলাদেশের মহাসচিব খেলোয়াড়, সিআরপি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। সকলকে খেলায় অংশগ্রহণ ও উপভোগে স্বাগত জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ (সোমবার) সকাল ৭:৩০ টা থেকে রাত ৮:০০টা এবং ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ (মঙ্গলবার) সকাল ৭:৩০ টা থেকে বিকেল ৫:০০টা পর্যন্ত খেলা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম অধিবেশনে ৪ জন কোচ, ৩ জন আম্পায়ার ও ৪ জন ক্লাসিফায়ার ও স্বাস্থকর্মীর সমন্বয়ে গঠিত অভিজ্ঞ দলের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের ক্লাসিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরপরই শুরু হয় মূল চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতা। পুরুষ খেলোয়াড়দের সর্বমোট ৭টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় যার মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোরকারী ২ টি টিম ফাইনালে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। নারী খেলোয়াড়দের ২ টি টিম পরস্পর ২ টি ম্যাচে অংশগ্রহণ করে যার স্কোরের উপর ভিত্তি করে চ্যাম্পিয়ন নির্বাচিত হয়।
পুরুষ খেলোয়াড়দের ৪টি টিম ও নারী খেলোয়াড়দের ২টি টিমের প্রতি টিমে ৮ জন করে সর্বমোট ৪৮ জন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী খেলোয়াড় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করেন।
২য় দিন বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠিত হয় জাকজমকপূর্ণ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভেলরি এ টেইলর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিআরপির নির্বাহী পরিচালক ও এনপিসি বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য ড. মোহাম্মদ সোহরাব হোসাইন, সিআরপির চিফ অফ এডমিন মোঃ আতাউর রহমান, প্রশিকার প্রধান নির্বাহী জনাব সিরাজুল ইসলাম, এবং সিডিডি এর নির্বাহী সদস্য মেজর মোঃ জহিরুল ইসলাম (অব.)।
হুইলচেয়ার খেলোয়াড়দের চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ সহজতর করতে ও খেলার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলকে উদ্ভুদ্ধ করতে এনপিসি বাংলাদেশ করতে খেলোয়াড়দের ২ দিনের থাকার ব্যবস্থা, যাতায়াত ও আপ্যায়নের সকল ব্যবস্থা করা হয়। বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে প্যারা খেলয়াড়দের অংশগ্রহণ ও দেশের ভাবমুর্তি সমুন্নত করতে এনপিসি বাংলাদেশ সর্বদা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। যার ফলশ্রুতিতেহুইলচেয়ার বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন প্যারা স্পোর্টস আয়োজনের মাধ্যমে খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রচেষ্টার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে যা এক্ষেত্রে সুন্দর ভবিষ্যতের ইঙ্গিত প্রদান করে।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: