২২ বছর পর জাতীয় তায়কোয়ান্দোতে নেই চ্যাম্পিয়ন সেনাবাহিনী
২০০৩ সাল থেকে জাতীয় তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপের পুরুষ বিভাগে সেরা দল ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। কিন্তু বৃহস্পতিবার শহিদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে শুরু হওা জাতীয় তায়কোয়ান্দোতে অংশ নিচ্ছে না সার্ভিসেস এই দলটি।
মূলত ফেডারেশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন করায় সেনাবাহিনীর প্রায় আটজন তায়কোয়ান্দোকাকে বহিষ্কার করা হয়। এতেই টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয় তারা। সেনাবাহিনীর কোচ সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘খেলার একদিন আগে (মঙ্গলবার) আমাদের তায়কোয়ান্দোকাদের বহিষ্কার করা হয়। তাই দীর্ঘ ২২ বছর পর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবার সেনাবাহিনী অংশ নিতে পারছে না।’
গত বছরের ১৫ অক্টোবর শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে ফেডারেশনের সকল কর্মকান্ড থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল নেপাল এসএ গেমসে দেশের হয়ে প্রথম স্বর্ণজয়ী তায়কোয়ান্দোকা দীপু চাকমাকে। এর প্রতিবাদে ২২ অক্টোবর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারের সামনে রীতিমতো ফেডারেশনের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং দূর্নীতির অভিযোগ তুলে ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করেন তায়কোয়ান্দোকারা। যেখানে সেনাবাহিনী, আনসার ও বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের ক্রীড়াবিদরাও উপস্থিত ছিলেন। এরপর খগড় নামে এই তায়কোয়ান্দোকাদের উপর। গত ২৫ ডিসেম্বর সেনাবাহিনীর সাতজন তায়কোয়ান্দোকাকে চিঠি দিয়ে বহিষ্কার করে ফেডারেশন। যারপ্রেক্ষিতে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয় চ্যাম্পিয়ন সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনীর কোচ মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘টুর্নামেন্টের একদিন আগে নির্বাহী কমিটির সভায় হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে বহিষ্কারাদেশের বহাল থাকায় রাখা হয়। যে আদেশের মধ্যে সেনাবাহিনীর তারকা তায়কোয়ান্দোকারাও ছিল। ফলে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয় সেনাাবহিনী।’
ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) এরশাদুল হকের কথা, ‘এসএ গেমসের ক্যাম্প থেকে বের হয়ে মানববন্ধন করে শৃংখলা ভঙ্গ করেছে ওই তায়কোয়ান্দোকারা। তাদেরকে আগে বহিস্কার করা হয়েছিল। তবে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে খেলানো যায় কিনা এ নিয়ে মঙ্গলবার নির্বাহী কমিটির সভা হয়েছে। সভায় ৯০ ভাগ সদস্য হাজির ছিলেন। সেখানেই ১৪-৩ ভোটের ব্যবধানে বহিষ্কৃত খেলোয়াড়দের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
তিনি যোগ করেন, ‘সভায় ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল মো. হাবিব উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। ডিসিপ্লিনভঙ্গকারীদের ব্যাপারে এমন সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। কারণ দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ দিয়ে বিকেএসপিতে এসএ গেমসের অনুশীলন করানো হয়েছিল। যদিও গেমস স্থগিত হওয়ায় পুরো টাকাটাই জলে গেছে। উপরন্তু তাদের এমন ঘটনা আমাদেরকে মর্মাহত করেছে। তাই এমন সিদ্ধান্ত নিতে আমরা বাধ্য হয়েছি। তবে আমি অবাক হয়েছি, সেনাবাহিনীর অন্যরা কেন খেলতে আসেনি এবং নাম নিবন্ধন করেও কেন পরে তা প্রত্যাহার করল।’
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: