ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল বিশ্বকাপ জেতে না, আর্জেন্টিনা কি ইতিহাস বদলাবে
সবশেষ ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ফ্রান্সকে হটিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এক নম্বর দল হিসেবেই বিশ্বকাপ শুরু করবেন লিওনেল মেসিরা। আপাতদৃষ্টিতে এটিকে সুবিধা হিসেবে মনে হলেও, ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা।
১৯৯২ সালে ফিফা র্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালুর পর থেকে কোনো দলই বিশ্বকাপে এক নম্বর র্যাঙ্কিংধারী হিসেবে অংশ নিয়ে শিরোপা জিততে পারেনি। বরং শীর্ষস্থান যেন অনেক সময় বাড়তি চাপ ও হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিল জার্মানি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত সেই আসরে ট্রফি জিতেছিল ব্রাজিল। চার বছর পর ফ্রান্স বিশ্বকাপেও এক নম্বর দল হিসেবে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল, কিন্তু ফাইনালে স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে সেলেসাওরা।
২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের আগে শীর্ষে ছিল ফ্রান্স। কিন্তু শিরোপাধারী দলটি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। সেখান থেকেই যেন ‘এক নম্বরের অভিশাপ’-এর গল্প আরও স্পষ্ট হতে শুরু করে।
২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপের আগে আবারও ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিল ব্রাজিল। কিন্তু দুই আসরেই তাদের যাত্রা থেমে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে। ২০১৪ বিশ্বকাপে স্পেন এক নম্বর দল হিসেবেই অংশ নেয়। ইউরো ২০০৮, বিশ্বকাপ ২০১০ এবং ইউরো ২০১২ জয়ের ঐতিহাসিক সাফল্যের পর তাদের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে ধরা হচ্ছিল। কিন্তু ব্রাজিল বিশ্বকাপে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়ে সবাইকে হতবাক করে।
২০১৮ বিশ্বকাপের আগে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিল জার্মানি। রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত সেই আসরেও তাদের বিদায় ঘটে গ্রুপ পর্ব থেকেই। এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের আগে এক নম্বর দল ছিল ব্রাজিল। কিন্তু তারাও ফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, ফলে অভিশাপের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
২০২৬ সালে কি ভাঙবে ইতিহাস?
আসন্ন বিশ্বকাপের ঠিক আগে স্পেনকে হটিয়ে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছে ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্টে ফেবারিটের তালিকায়ই আছে দেশটি। র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে থাকার অভিশাপ দলটি কাটাতে পারে কি না সেটিই এবার দেখার বিষয়।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: