দুইবার বিশ্বকাপ ফাইনাল হারের বিরল তালিকায় মেসি, তবু আলাদা এক কিংবদন্তি
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে আরেকটি বেদনাদায়ক অধ্যায় যোগ হলো লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে দুইবার ফাইনালে হেরে রানার্সআপ হওয়া ফুটবলারদের বিরল তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
এটি ছিল মেসির ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মারাকানায় জার্মানির কাছে হেরে প্রথমবার রানার্সআপ হন তিনি। এরপর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ শিরোপা জেতেন। তবে ২০২৬ সালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে হেরে আবারও ফাইনাল পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেলেন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে দুইবার ফাইনাল হেরে রানার্সআপ হওয়া খেলোয়াড়ের সংখ্যা খুবই কম। মেসিকে নিয়ে সেই তালিকার সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে। এর আগে নেদারল্যান্ডসের ১৫ জন এবং পশ্চিম জার্মানির ১২ জন ফুটবলার এই বিরল পরিসংখ্যানের অংশ ছিলেন।
নেদারল্যান্ডস ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানি এবং ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার কাছে ফাইনাল হারে। ওই দুই আসরের রানার্সআপ দলে ছিলেন ইয়ান ইয়ংব্লুড, পিট শ্রাইভার্স, রুড ক্রল, ইয়োহান নিসকেন্স, আরি হান, জনি রেপ, রব রেনসেনব্রিঙ্ক, ভিলেম ফন হানেগেমসহ আরও কয়েকজন।
অন্যদিকে পশ্চিম জার্মানি ১৯৮২ সালে ইতালি এবং ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনার কাছে ফাইনালে পরাজিত হয়। সেই দুই দলের সদস্য ছিলেন লোথার ম্যাথাউস, রুডি ফ্যোলার, কার্ল-হাইঞ্জ রুমেনিগে, টনি শুমাখার, পিয়েরে লিটবার্সকি, হান্স-পিটার ব্রিগেলসহ একাধিক কিংবদন্তি ফুটবলার।
তবে এই তালিকায় মেসির অবস্থান একেবারেই ব্যতিক্রম। কারণ তাঁর আগে দুইবার বিশ্বকাপ ফাইনালে হারা ২৭ ফুটবলারের কেউই মাঝের কোনো আসরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারেননি। মেসি ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা আগেই পূরণ করেছিলেন। ফলে দুইবার রানার্সআপ হলেও বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মর্যাদা তাঁর অর্জনকে আরও অনন্য করে তুলেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি ছিলেন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে প্রভাবশালী খেলোয়াড়দের একজন। তাঁর নেতৃত্বেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠে আলবিসেলেস্তেরা। তবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের দৃঢ় রক্ষণভাগ ভেদ করতে ব্যর্থ হয় আর্জেন্টিনা।
ফাইনালের এই হার মেসির বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে আরেকটি আক্ষেপ হয়ে থাকলেও, ফুটবল ইতিহাসে তাঁর অবস্থানকে তা ম্লান করতে পারেনি। বরং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি দুইবার রানার্সআপ হওয়ার বিরল অভিজ্ঞতা তাঁকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম অনন্য চরিত্র হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: