বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ক্রীড়াবিদের স্মৃতিচারন
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বেশ ক্রীড়ানুরাগী ছিলেন। আপোসহীন এই নেত্রী দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার মৃত্যুতে শোকাহত ক্রীড়াঙ্গনের সবাই।
আপোসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার আপন খালাতো বোন ছিলেন সাবেক তারকা অ্যাথলেট সামিমা সাত্তার মিমু। খালাত বোন সাবেক প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে স্মৃতিচারন করতে গিয়ে শোকে মুহ্যমান মিমো বলেন, ‘নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমার রক্তের সম্পর্ক ছিল। আমার আপন খালাতো বোন ছিলেন তিনি। যদিও আমি রাজনীতির সঙ্গে কখনো জড়িত হইনি। তবে ওনাদের পরিবারের সবাই খেলাধূলা ভালবাসত। তারেক জিয়া ছোট বেলায় ক্রিকেট ও ফুটবল খেলতো। আরাফাত রহমান কোকো বিসিবির সভাপতি ছিলেন। মোদ্দাকথা খেলাধূলাকে প্রচন্ড ভাল বাসতেন খালেদা জিয়া।’ সাবেক এই ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক যোগ করেন, ‘আমার সঙ্গে দেখা হলেই খালেদা জিয়া বলতেন, খেলাধূলা নিজে করবি। অন্যদেরকে খেলাধূলায় উৎসাহিত করবি। কারন খেলাধূলা করলে নাম হয়। বিদেশে রাষ্ট্রকে পরিচয় করিয়ে দেন একজন ক্রীড়াবিদ। তাই খেলাই হতে হবে তারুন্যের প্রথম মূলমন্ত্র।’
জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আলফাজ আহমেদও শোকাতুর। স্মৃতিচারন করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘২০০১ সালে প্রথমবার বিশ^কাপ ফুটবলের ট্রফি এসেছিল বাংলাদেশে। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। আমি সোনার এই ট্রফিটি উনার হাতে তুলে দিলাম। হতে ট্রফি নিয়ে একটি হাসি দিলেন। ওই হাসি দেখে মনে হল, আমরাই যেন বিশ^কাপ জিতেছি।’ সাবেক দেশসেরা এই ফরোয়ার্ড বলেন, ‘খুবই ক্রীড়ানুরাগী ছিলেন খালেদা জিয়া। ট্রফি হাতে নিয়ে তিনি বলেছিলেন, দেশের ফুটবলকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।’ ২০০৩ সালে প্রথমবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ওই সময় দলের সবাইকে পাঁচ কাঠার একটি করে প্লট দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এমন সম্মান আর কখনো পাননি বলে জানান ওই সাফজয়ী দলের অধিনায়ক হাসান আল মামুন। সেই সঙ্গে উপহারের চার লাখ টাকা সরকারী কিস্তি দিয়েই ফুটবলাররা জমির মালিক হয়েছিলেন।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: