[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নতুন বছরে ক্রীড়াবিদদের চাওয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০১ এএম

মহাকালের গর্ভে প্রবশ করল আরও একটি বছর। বিদায় ২০২৫। আজ নতুন বছর শুরু। নতুন বছরের শুভলগ্নে দাঁড়িয়ে অতীতের স্মৃতিচারন করেছেন এবং নতুন বছরে নিজেদের চাওয়া নিয়েই কথা বললেন দেশের ক্রীড়াবিদরা।


শেখ মোরসালিন (ফুটবল): ২০২৫ ভালই গেছে। কিছু ভাল ম্যাচ খেলেছি। কিছু বাজে খেলেছি। কিছু ম্যাচে হেরেছি। এএপসিতে কোয়ালিফাই করতে পারিনি। এশিয়ান গেমসে কোয়ালিফাই করতে পারিনি আমরা। এই দিক দিয়ে বাজে বছর গেছে আমাদের। নতুন বছরে পা দিয়েছি আমরা। আশাকরি এই বছরে আমরা ভাল খেলতে পারব। দেশকে জয় উপহার দিতে পারব। দেশের মানুষকে ভাল কিছু খেলা উপহার দিতে পারব বলেই আশাকরি।

মাবিয়া আক্তার সীমান্ত (ভারোত্তোলন) : গেল বছরে অনেক প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি ছিল আমার। তাই নতুন বছর আমাদের জন্য ভাল হোক, তাই চাই। গেল বছরে যা অপ্রাপ্তি ছিল নতুন বছরে যেন প্রাপ্তি হয়। অনেক কিছু পাওয়া না পাওয়ার মধ্য দিয়ে বছর গেছে। ক্যারিয়ারে অনেক কিছুই পাওয় হয়নি। প্রাপ্র্য সম্মানটুকু যেন নতুন বছরে ফিরে পাই। দেশ সব সময়ের জন্য ভাল থাকুক। তাহলেই আমরা ভাল থাকবো। নতুন বছরে এটাই আমার চাওয়া।

শিরিন আক্তার (অ্যাথলেটিক্স) : আলহামদুল্লিাহ। গেল বছর ভাল-মন্দের মধ্য দিয়েই কেেেটছে। অনেক শিক্ষা, অনেক কষ্ট, অনেক খারাপও কেটেছে। আবার অনেক ভাল কিছুও পেয়েছি। গেল বছরে যে ভুলগুলো ছিল, নতুন বছরে তা শুধরে নিতে চাই। ২০২৬ এ সুস্থ একটি ক্রীড়াঙ্গণ চাই। সবক্ষেত্রে সুস্থ ও সবল ক্রীড়াঙ্গণ যেন হয়। সবার মানসিকতা ভাল হোক। তাহলেই আমরা ভাল করতে পারব। সবাইকে শুভ নববর্ষ।

উর্মি আক্তার (ব্যাডমিন্টন): ভাল মন্দের মিশেলেই একটি বছর কাটিয়েছি। শুরুর দিকে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা হারিয়েছি। শেষ দিকে এসে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ব্রোঞ্জ জিতেছি। তবে নতুন বছরে আরও ভাল কিছু চাই। আমাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্যাম্প চাই। ভাল কিছু টুর্নামেন্ট চাই। সবচেয়ে বড় কথা, আমি যেন ভাল ফলাফল করতে পারি, সেটাই নতুন বছরে আমার চাওয়া। সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।

সুরভী জারা (খো খো): বছর আসে, বছর যায়। আমাদের কাছে কিছু স্মৃতি রেখে যায়। গেল বছর আমার অম্ল-মধুর কেটেছে। কখনো ভাল সময়, আবার কখনো খারাপ সময় কেটেছে। নতুন আরেকটি বছরে পা দিলাম। আশাকরি নতুন বছরটি আমাদের ক্রীড়াবিদদের জন্য ভাল কাটবে। আমাদের জন্য নতুন নতুন খেলার আয়োজন হবে। আমরা ভাল খেলবো, এটাই চাই। সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।

আমিরুল ইসলাম (হকি) : ২০২৫ সালে যুব হকি বিশ্বকাপে দারুণ খেলেছিল বাংলাদেশ। চ্যালেঞ্জার ট্রফি জিতে ফিরেছিল ঘরে। ওই আসরে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন ডিফেন্ডার আমিরুল ইসলাম। বিশ্বকাপে ১৮ গোল করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। নতুন বছরে আমিরুলের চাওয়া হকিটা যেন হারিয়ে না যায়। বিশ্বকাপের মাধ্যমে আলোচনায় আসা প্রিয় খেলাটা যেন বেঁচে থাকে। ঘরোয়া লিগ, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ যেন মাঠে গড়ায়। খেলোয়াড়রা যেন স্বাবলম্বী হতে পারে। কারণ মাঠে খেলা থাকলে প্লেয়াররা বেঁচে থাকবে। তাদের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হবে। আগামী বছর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসবে এটা জানা আমিরুলের। নতুন সরকারের কাছে তার চাওয়া হকিটা যেন মাঠে থাকে, সবাই যেন এই খেলাটার উন্নয়নে আন্তরিকভাবে উদ্যোগী হয়।

তানভীর ইসলাম তন্ময় (ভলিবল) : জাতীয় দল এবং বয়সভিত্তিক দলের নিয়মিত মুখ তানভীর ইসলাম তন্ময়। পাশাপাশি ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটিরও সদস্য তিনি। নতুন বছরে তানভীরের চাওয়া, সামনে যত জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ রয়েছে তাতে যেন দল অংশ নেয়। বয়সভিত্তিক দলগুলোর খেলাও যেন বাদ না পড়ে। কোর্টে খেলা থাকলে ভলিবল তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাবে বিশ্বাস তানভীরের। বর্তমানে অ্যাডহক কমিটির অধীনে চলছে ফেডারেশন। সামনে নির্বাচন হবে। যারাই নির্বাচনের মাধ্যমে ফেডারেশনে আসবে, তারা যেন আন্তরিকতার সঙ্গে খেলাটাকে এগিয়ে নেওয়ার কাজ করেন নতুন বছরে এটাই প্রত্যাশা তানভীরের।

মো. সেলিম হোসেন (বক্সিং) : জাতীয় বক্সিংয়ে চ্যাম্পিয়ন মো. সেলিম হোসেন। ২০২৫ সালেও দুর্দান্ত এক বছর পার করেছেন রাজশাহী এ বক্সার। নতুন বছরে সেলিমের প্রত্যাশা নিয়মিত জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক আসরগুলোতে অংশ নেওয়া, ভালো খেলে দেশের জন্য পদক নিয়ে আসা। ২০২৬ সালে এশিয়ান গেমস এবং কমনওয়েলথ গেমসের মতো বড় আসর রয়েছে। এই আসরগুলোতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভালো করার জন্য ফেডারেশন থেকে আরও বেশি সহযোগিতা, ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিজ প্রত্যাশা সেলিমের। সেই সঙ্গে নতুন নতুন বক্সার যেন ওঠে আসে, তার জন্য ফেডারেশন যাতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে সেই ভাবনার কথাটাও জানিয়ে রাখলেন। সেলিমের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হচ্ছে দেশের পরিস্থিতি যেন ঠিক হয়। নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার এসে যেন সবকিছু ঠিক করে, দেশের বক্সিং এবং বক্সারদের এগিয়ে নিতে যেন কাজ করে। বক্সাররা যেন বেঁচে থাকার ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা পায়, সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুবিধা পায়।

আবদুল জহির তানভীর (ব্যাডমিন্টন) : ২০২৫ সাল বাংলাদেশের ব্যাডমিন্টনের জন্য স্মরণীয় এক বছর। গত বছর আন্তর্জাতিক কোনো আসর থেকে প্রথমবার স্বর্ণপদক জেতে লাল-সুবজের দেশ। যাদের হাত ধরে এ সাফল্য আসে তাদের একজন আবদুল জহির তানভীর। বছরের প্রান্তে ইউনেক্স-সানরাইজ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল সিরিজ টুর্নামেন্টে গৌরব সিংহকে সঙ্গী করে ডাবলসে স্বর্ণ জেতেন তানভীর। নতুন বছরে দেশকে আরও সাফল্য এনে দিতে চান। তানভীরের প্রত্যাশা ফেডারেশন যাতে আরও বেশি আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নেয়। বছরে অন্তত ১০-১২টা। ট্রেনিং থেকে বিদেশি কোচ- সবকিছু যেন শাটলারদের জন্য বরাদ্দ থাকে। তানভীর মনে করেন, দল যতবেশি ট্রেনিংয়ে থাকবে, ততবেশি উন্নতি করবে। ২০২৫ সালে ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ এবং সিরিজ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ যে ভালো ফল করেছে তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ট্রেনিং, বিদেশি কোচের ভূমিকা। এ জন্য ফেডারেশনকে ধন্যবাদও জানান। একই সঙ্গে নতুন বছরে সবাইকে শুভেচ্ছা, শুভকামনা জানান সিলেটের এ শাটলার।

মো. সাগর ইসলাম (আরচারি) : বাংলাদেশের আরচারিকে বিশ্ব দরবারের পরিচিত করতে মো. সাগর ইসলামের ভূমিকার কথা কারোর অজানা নয়। ২০২৪ সালে প্যারিস অলিম্পিকে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন রাজশাহীর ছেলে। ২০২৫ সালে নিজের পারফরম্যান্সে খুব বেশি ঝলক দেখাতে না পারলেও ২০২৬ সালে ভালো কিছুর প্রত্যাশা তার। কারণ নতুন বছরে অনেক ইভেন্ট রয়েছে। মার্চে এশিয়া কাপ, এরপর বিশ্বকাপের বিভিন্ন স্টেজ এবং এশিয়ান গেমস। সবগুলো আসরে ভালো করার প্রত্যাশা এ আরচারের। বর্তমানে ছুটিতে নিজ জেলা রাজশাহীতে অবস্থান করছেন। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের খেলা বাতিল হওয়াতে কিছুটা সময় পেয়েছেন নতুন করে চাঙ্গা হওয়ার। তবে সাগরের প্রত্যাশা, নতুন বছর হবে আরচারির বছর, আরচারির সাফল্যের বছর। সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন সাগর ইসলাম।

 

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর