২৪ গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক জকোভিচকে হারিয়ে ১৯ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ানের ইতিহাস
নোভাক জকোভিচের রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বপ্ন আবারও ধাক্কা খেল। শুক্রবার (২৯ মে) ফ্রেঞ্চ ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডে ব্রাজিলের কিশোর জোয়াও ফনসেকার কাছে ৪-৬, ৪-৬, ৬-৩, ৭-৫, ৭-৫ ব্যবধানে পরাজিত হন।
এই পরাজয়ের ফলে ৩৯ বছর বয়সী সার্বিয়ান কিংবদন্তির সামনে মার্গারেট কোর্টের ২৫টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপার রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। একদিন আগে টেনিসের বর্তমান নম্বর ওয়ান ইয়ানিক সিনারের অপ্রত্যাশিত বিদায়ের পর এবার জকোভিচের হারের পর প্যারিসের ড্র আরও বেশি উন্মুক্ত হয়ে গেল।
পাঁচ ঘণ্টার চেয়ে মাত্র সাত মিনিট কম সময় ধরে চলা এই মহাকাব্যিক লড়াইয়ে জয় নিশ্চিত করে ফনসেকা ইতিহাস গড়েন। তিনি গ্র্যান্ড স্ল্যামে জোকোভিচকে হারানো প্রথম কিশোর খেলোয়াড়। ১৯ বছর বয়সী ফনসেকা প্রমাণ করলেন যে এবারের ফরাসি ওপেনের শিরোপা জয়ের দাবিদারদের মধ্যে তিনিও একজন।
৩৯ বছরে পা দেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ পর খেলতে নামা জোকোভিচ ম্যাচের শুরুতে দুর্দান্ত খেলেন। যেন নিজের তরুণ বয়সের প্রতিচ্ছবিই দেখা যাচ্ছিল তার মধ্যে। তিনি প্রথম ছয় গেমের মধ্যে পাঁচটিতে জয় পেয়ে রৌদ্রোজ্জ্বল কোর্ট ফিলিপ-শাত্রিয়েতে প্রথম সেটে নিজের আধিপত্যের ঘোষণা দেন।
এই সময়ে তিনি একটি অসাধারণ লব, কয়েকটি শক্তিশালী ফোরহ্যান্ড উইনার এবং দুটি চমৎকার ড্রপ শট মারেন। মনে হচ্ছিল, প্যারিসের ক্লে কোর্টে কীভাবে খেলতে হয়, সে বিষয়ে তিনি তার ১৯ বছর বয়সী প্রতিপক্ষকে পাঠ দিচ্ছেন। শেষ দিকে ফনসেকা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও জোকোভিচ প্রথম সেট জিতে নেন।
জোকোভিচ ২০০৮ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে যখন নিজের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতেছিলেন, তখন প্রতিপক্ষ ফনসেকার জন্মও হয়নি। তবু দ্বিতীয় সেটে তরুণ ব্রাজিলিয়ান অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করেন। কিন্তু পঞ্চম গেমে নিজের সার্ভিস হারিয়ে বসেন।
এটাই ছিল জোকোভিচের প্রয়োজনীয় সুযোগ। তৃতীয় বাছাই খেলোয়াড় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে তুলে নেন। ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর তিনি গর্জন করে ওঠেন এবং মাঝখান দিয়ে একটি নিখুঁত পাসিং শটে সেট জয়ের পর মুষ্টিবদ্ধ হাতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
তৃতীয় সেটে ফনসেকা নিজের খেলার মান আরও উঁচুতে নিয়ে যান এবং একটি সেট ফিরিয়ে আনেন। এরপর চতুর্থ সেটের শুরুতেই তিনি ব্রেক আদায় করেন, যা তাঁর সমর্থকদের কাছ থেকে বজ্রধ্বনির মতো করতালি পায়। আগ্রাসী ও শক্তিশালী শটের মাধ্যমে তিনি ম্যাচকে দুই সেট সমতায় নিয়ে আসেন। তার কিছু শট দেখে জোকোভিচকেও বিস্মিত মনে হচ্ছিল।
নির্ধারণী পঞ্চম সেটে ফনসেকা ১-৩ পিছিয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়ে তিনি ১০ গেম শেষে সমতা বজায় রাখেন। এরপর গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্রেক করে ৬-৫ ব্যবধানে এগিয়ে যান। সেই ব্রেকই তাকে ঐতিহাসিক জয়ের দরজায় পৌঁছে দেয়। শেষ গেমে টানা তিনটি এস মেরে তিনি ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় জয়টি নিশ্চিত করেন।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: