[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৪ঠা জুন ২০২৬
২০শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আরচ্যারি ফেডারেশনের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ঐক্যের ডাক প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০৪ এএম

আরচ্যারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদের ওপর অনাস্থা এনেছিলেন ফেডারেশনের এডহক কমিটির ১০ জন। উদ্ভুত সংকটে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ফেডারেশনের সকলকে ডেকেছিলেন। সন্ধ্যার পর ঘন্টা দুয়েক রুদ্ধদ্বার সভা হয়েছে। এতে চলমান দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি দূর করে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

সভা শেষে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কিংবা মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রতিনিধি কথা বলেননি। আরচ্যারি ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য কাজী রাজিবউদ্দিন আহমেদ চপল মিডিয়ায় ব্রিফ করেন। তিনি সভার সিদ্ধান্ত ও নিজে ব্রিফ করার কারণ সম্পর্কে বলেন, ‘আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ছিল, সেটা নিরসন হয়েছে। এই কমিটির সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে বলেছেন মাননীয় মন্ত্রী। আগে যিনি কোষাধ্যক্ষ ছিলেন, তাকে কোষাধ্যক্ষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। মন্ত্রী মহোদয় আমাকে (চপলকে) মিডিয়ায় বিষয়টি অবহিত করতে বলেছেন।’

আরচ্যারি ফেডারেশনে এডহক কমিটি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ দিয়েছিল। ফেডারেশন নিজেদের মধ্যে সভা করে কোষাধ্যক্ষ বদল করে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই। ফেডারেশনের সভাপতি মোখলেসুর রহমান সাবেক জনপ্রশাসন সচিব। তিনি এত বড় আমলা হয়েও ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আইনের বাইরে গিয়েছেন। এর কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন হলে সেটাও চপল উত্তর দিয়ে বলেন, ‘ওই সময় ওয়ার্ল্ড আরচ্যারির এফিলিয়েশন ফি ও আরও কিছু জরুরি অর্থ প্রয়োজন ছিল এজন্য এটা করা হয়েছে। এটার হিসাব ও প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা আমরা দিয়েছি।’

কোষাধ্যক্ষ পরিবর্তনের বিষয়টি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে চিঠি দিয়েছিলেন সাধারণ সম্পাদক তানভীর। মিডিয়ায় এ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এর প্রেক্ষিতেই মূলত আরচ্যারি ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটি তার বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিলেন। এই ভুল বোঝাবুঝি নিয়ে চপল বলেন, ‘আমাদের ছোট ভাই তানভীর একটা বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেটা তার হয়ে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আমি ভুল এবং দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা সবাই আরচ্যারির সঙ্গে এক সঙ্গে কাজ করব।’তানভীর যখন মিডিয়ার সামনে বক্তব্য দিতে আসেন, তখন প্রক্রিয়াগত ভুল হয় সেটি পুনরায় বলেন। তখন পাশে দাঁড়ানো চপল বিষয়টি পুনরায় জটিলতা পরিহারের পরামর্শ দেন। এই দুই জনের অবস্থানে খানিকটা স্পষ্ট প্রতিমন্ত্রী একতার বাণী দিলেও বাস্তবে সেটা কতটুকু কার্যকর হয়।

ফেডারেশনের সভাপতি মোখলেসুর রহমান সবশেষে মিডিয়ার সামনে আসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বেশ সুন্দর আলোচনা হয়েছে, তিনি (প্রতিমন্ত্রী) যে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সেটা খুব দ্রুত জরুরি মিটিং করে বাস্তবায়ন করব। আমাদের সভা বা সিদ্ধান্তগুলো এখন থেকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও মন্ত্রণালয়কে জানাব।’

জনপ্রশাসনের সাবেক সচিব হয়েও অবশেষে বোধোদয় হয়েছে এত জল ঘোলার পর। আগের কোষাধ্যক্ষকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত ফেডারেশনের সভাপতির জন্য বড় এক শিক্ষাই মনে করছেন ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর