ভিসা জটিলতা
আফঈদারা ব্যাংককে গেলেও এখনো ঢাকায় রুপনা-মিলিরা
টানা তৃতীয়বারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার প্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে দেশ ছেড়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। তবে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের এই গুরুত্বপূর্ণ যাত্রার শুরুতেই বড় ধরনের প্রশাসনিক জটিলতায় পড়েছে দলটি।
ভিসা সমস্যার কারণে জাতীয় দলের দুই গোলকিপার রুপনা চাকমা ও মিলি আক্তারসহ সাপোর্ট স্টাফের ৯ সদস্য ঢাকাতেই আটকে পড়েছেন, যা টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দলের প্রস্তুতির অস্বস্তির ছাপ ফেলেছে। তবে আজকের মধ্যে ভিসা পাওয়ার আশা ব্যক্ত করে দলের মিডিয়া ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ বলেণ, ‘আশাকরি আজকের মধ্যে ভিসা পেয়ে যাব। আজ ভিসা পেলে কাল দুই ফুটবলারসহ আমরাও উড়াল দেব।’
যখন দলের একাংশ বিমানবন্দরে অপেক্ষায়, ঠিক তখনই অধিনায়কত্বের নেতৃত্বে বাকি সদস্যরা থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে উড়াল দেন প্রস্তুতি ক্যাম্পে অংশ নিতে। সেখানে আগামী ২০ মে পর্যন্ত নিবিড় অনুশীলনের পর ২১ মে দলটি যাবে ভারতের গোয়ায়, যেখানে ২৫ মে শুরু হবে অষ্টম সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ।
এই আসরে বাংলাদেশের সামনে শুরু থেকেই অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ মালদ্বীপ ও স্বাগতিক ভারত। ফলে টুর্নামেন্টে ভালো শুরু পাওয়ার জন্য প্রস্তুতির প্রতিটি দিনই ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর ঠিক সেই সময়েই ভিসা জটিলতা দলের পরিকল্পনায় অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে মাঠের বাইরের এই সমস্যা দলের আত্মবিশ্বাসে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে বাংলাদেশ নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। টানা দুই আসরে ফাইনালে নেপালকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের স্মৃতি এখনো দলের বড় অনুপ্রেরণা। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এবারও হ্যাটট্রিক শিরোপার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
সাফকে সামনে রেখে দলটি দীর্ঘদিন ধরেই প্রস্তুতি চালিয়ে আসছিল। চট্টগ্রামের কোরিয়ান ইপিজেডে অনুষ্ঠিত নিবিড় ক্যাম্পে ফিটনেস, ট্যাকটিকস ও ম্যাচ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছেন কোচিং স্টাফরা। ঢাকায় ফিরে শেষ দুটি অনুশীলন সেশন শেষ করেই বিদেশযাত্রা করে দল।
এখন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ দ্রুত ভিসা জটিলতার সমাধান করা। কারণ টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই রুপনা চাকমা, মিলি আক্তার ও আটকে পড়া স্টাফদের দলের সঙ্গে যোগ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাফের মতো বড় আসরে ছোট একটি প্রশাসনিক ত্রুটিও কখনো কখনো মাঠের পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবু সব বাধা পেরিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা আবারও দক্ষিণ এশিয়ার মুকুট নিজেদের মাথায় রাখতে পারবে কি না, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় অপেক্ষা।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: