[email protected] রবিবার, ১৯শে জুলাই ২০২৬
৪ঠা শ্রাবণ ১৪৩৩

১০ গোলের মহারণে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় ইংল্যান্ড, এমবাপ্পের বিশ্বরেকর্ডও

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬ ০৭:০৭ এএম

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ সাধারণত সান্ত্বনার লড়াই হিসেবেই বিবেচিত হয়। কিন্তু মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স এমন এক ম্যাচ উপহার দিল, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম রোমাঞ্চকর লড়াই হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ১০ গোলের অবিশ্বাস্য থ্রিলারে ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।

এই জয়ে গত ৬০ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা সাফল্য পেল ইংলিশরা। আর ম্যাচের নায়ক ছিলেন বুকায়ো সাকা। আর্সেনাল তারকার হ্যাটট্রিকের সঙ্গে একটি করে গোল করেন ডেক্লান রাইস, এজরি কনসা ও জুড বেলিংহাম।

অন্যদিকে হারলেও ব্যক্তিগত কীর্তিতে ইতিহাস গড়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২২-এ নিয়ে যান। এর মাধ্যমে ২১ গোল করা লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন ফরাসি অধিনায়ক। একই সঙ্গে চলতি আসরে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও সবার ওপরে উঠে যান তিনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল ইংল্যান্ডের একচেটিয়া আধিপত্য। মাত্র তৃতীয় মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে দলকে এগিয়ে দেন ডেক্লান রাইস।

১৮ মিনিটে রাইসের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজরি কনসা। ৩৭ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় গোল করে ৩-০ করেন বুকায়ো সাকা।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে কনসার পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ইংল্যান্ডকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন সাকা। বিশ্বকাপে এই প্রথম কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধেই চার গোল হজম করল ফ্রান্স।

তবে বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫২ মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে গোল করে ফ্রান্সকে ম্যাচে ফেরান এমবাপ্পে। দুই মিনিট পর এমবাপ্পের পাস থেকেই ব্যবধান আরও কমান ব্র্যাডলি বারকোলা।

৬৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে স্কোরলাইন ৪-৩ করেন এমবাপ্পে। এই গোলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নেন তিনি।

ফ্রান্স যখন সমতায় ফেরার স্বপ্ন দেখছে, তখন ৮৪ মিনিটে জেড স্পেনসকে বক্সের ভেতরে ফাউল করেন মাত্তেও গাস্তো। পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহাম নিজে শট না নিয়ে হ্যাটট্রিকের সুযোগ করে দেন সাকাকে। ৮৭ মিনিটে স্পটকিক থেকে গোল করে ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ইংলিশ উইঙ্গার।

যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে উসমান দেম্বেলে গোল করে আবারও ব্যবধান কমান (৫-৪)। কিন্তু ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে জুড বেলিংহামের গোলে সব আশা শেষ হয়ে যায় ফ্রান্সের। ৬-৪ ব্যবধানে জয় নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করে ইংল্যান্ড।

শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের আগের এই সান্ত্বনার লড়াইই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল পুরো টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা বিনোদন। গোলের বন্যা, নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা, সাকার হ্যাটট্রিক এবং এমবাপ্পের বিশ্বরেকর্ড—সব মিলিয়ে মায়ামির রাতটি বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিশেষ এক অধ্যায় হয়ে থাকবে।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর