কোচ কোলম্যানের বিষয়ে রাজি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়
জাতীয় দলের কোচ নিয়োগে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) নাটকীয়তা করলেও ব্রিটিশ কোচ ক্রিস কোলম্যানের বিষয়ে রাজি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। কোলম্যানের যাবতীয় খরচার বিষয়ে ওয়াকিবহাল রয়েছে তারা।
রোববার জাতীয় অ্যাথলেটিকসের উদ্বোধন করতে এসে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘শর্টলিস্টে থাকা কয়েকজন বিদেশি কোচের মধ্যে কোলম্যানকে নিয়েই ইতোমধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার সম্মতি দেওয়া হয়েছে।’ আমিনুল হক আরও জানান, বাফুফে বর্তমানে শর্টলিস্টে থাকা কোচদের এজেন্টদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আপনারা কোলম্যানের কথা শুনেছেন, রবার্ট ব্র্যাডস্টক রয়েছেন, আরও কয়েকজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে থেকে যাকে নেওয়ার জন্য আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি, সেই কোলম্যানের বিষয়ে ইতোমধ্যে বাফুফে সহযোগিতা চেয়েছে এবং আমরা সেই সম্মতি দিয়েছি।’
তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি এজেন্ট পর্যায়ের আলোচনার বিষয়টি তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘বাফুফে সভাপতির সঙ্গে কথা বলে যতটুকু বুঝেছি, কোলম্যানের এজেন্টের সঙ্গে কিছু বিষয়ে এখনো বোঝাপড়া শেষ হয়নি। সেটি সম্পন্ন হলেই আমরা নিশ্চিত হতে পারব কোলম্যানকে পাওয়া যাবে কি না।’ তিনি আরও বলেন, কোলম্যানকে নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে বিকল্প পরিকল্পনাও প্রস্তুত রয়েছে। ‘আমাদের সেকেন্ড চয়েসও প্রস্তুত আছে। নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেই বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা এবং ফুটবল সংশ্লিষ্টদের চাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা কোলম্যানকেই চাই,’ তিনি যোগ করেন।
নতুন কোচের নাম কবে ঘোষণা হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল হক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি চাই আগামীকালকের (আজ) মধ্যেই হয়ে যাক। কিন্তু যেহেতু এজেন্টের সঙ্গে আলোচনা রয়েছে, তাই সেটা শেষ হলেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।’
এদিকে দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোর সংস্কার নিয়েও কথা বলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। পল্টনসহ বিভিন্ন মাঠ ও স্টেডিয়ামের ঘন ঘন সংস্কারে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটি মাঠ যদি বারবার সংস্কার করতে হয়, তাহলে সেখানে নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে। আমি চাই এমনভাবে কাজ হোক যাতে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সেটি ভালোভাবে সার্ভিস দিতে পারে।’
তিনি জানান, শুধু সংস্কার নয়, ভবিষ্যতে রক্ষণাবেক্ষণের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। তার মতে, নিয়মিত মেইনটেন্যান্স নিশ্চিত করা গেলে প্রতি বছর সংস্কারের নামে বড় অঙ্কের ব্যয় অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
অ্যাথলেটিক্স প্রসঙ্গেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানান আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের পরিকল্পনায় অলিম্পিকে পদকের জন্য কাজ করতে। এজন্য ফেডারেশনগুলোকে বার্ষিক পরিকল্পনা দিতে বলা হয়েছে। অ্যাথলেটিক্সে ভালো সম্ভাবনা আছে এবং তারা পরিকল্পনা দিলে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: