বাংলাদেশে কি বিশ্বকাপ দেখা যাবে?
ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো টুর্নামেন্টটির অফিশিয়াল সম্প্রচারস্বত্ব চূড়ান্ত হয়নি। যা নিয়ে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মনে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে সম্প্রচার বিশেষজ্ঞ এবং বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে ‘বিশ্বকাপ ব্ল্যাকআউট’ বা খেলা দেখা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। দেশীয় স্পোর্টস চ্যানেল, বিটিভি এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠানের দরকষাকষি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এবারের বিশ্বকাপে টিকিটের দাম থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাপী সম্প্রচারস্বত্বের মূল্যও আকাশচুম্বী। বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের জন্য প্রাথমিক স্বত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক মিডিয়া সংস্থা 'স্প্রিংবক'। অভিযোগ উঠেছে, এই প্রতিষ্ঠানটি ও তাদের দেশীয় সহযোগীরা অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় বিটিভির কাছে ট্যাক্স ও ভ্যাটসহ প্রায় ১৫১ থেকে ২০০ কোটি টাকা (১০ মিলিয়ন ডলার) দাবি করেছে। এর বাইরে স্যাটেলাইট ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে আরও ৮ মিলিয়ন ডলার, প্রায় ৯৮ কোটি টাকা আয়ের পরিকল্পনা ছিল তাদের।
কিন্তু বিটিভির বার্ষিক মোট বাজেট ৩০০ কোটি টাকা হওয়ায়, একক কোনো টুর্নামেন্টের জন্য এত বিশাল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করা বিটিভির পক্ষে অসম্ভব বলে জানিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাছাড়া, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সময় ৯৮ কোটি টাকায় স্বত্ব কিনে রাষ্ট্রীয় এই টেলিভিশন চ্যানেলটি বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছিল, যা এবার তাদের পিছিয়ে আসার অন্যতম বড় কারণ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিঙ্গাপুরের ‘অ্যাভমোর’ এবং বাংলাদেশের একটি প্রভাবশালী চক্র কাতার বিশ্বকাপের সময় বিটিভিকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বাড়তি খরচ করতে বাধ্য করেছিল। যার ফলে ফিফার কাছে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন বাজারের একটি ভুল ও অতিমূল্যায়িত চিত্র গেছে।
এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বত্ব নির্ধারণেও সেই সিন্ডিকেটটি সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রতিনিধি ফাহাদ করিম, সাবেক বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, সাবেক ফুটবল কর্মকর্তা আবু নাঈম সোহাগ এবং আতাউল ইসলাম মানিকের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম এই চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। একটি বিশেষ মহল নিজেদের স্বার্থে ‘বিশ্বকাপ ব্ল্যাকআউট’-এর ভীতি ছড়িয়ে সরকারি পর্যায়ে চাপ তৈরির চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
এই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর হলো— দেশের প্রথম বেসরকারি ক্রীড়া চ্যানেল টি-স্পোর্টস এখনো বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে আশাবাদী। স্বত্ব কেনার বিষয়ে তারা আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে জোরালো ও সক্রিয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন বাজারের বাস্তবতায় এবারের স্বত্বের যৌক্তিক মূল্য হওয়া উচিত ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে, যা দেশীয় বেশ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত।
সময় যত ঘনিয়ে আসে, ফিফা সাধারণত তত বাস্তবসম্মত মূল্যে নেমে আসে। সম্প্রতি সময়ের বিশাল ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও ফিফা চীনের 'চায়না মিডিয়া গ্রুপ' (সিএমজি)-এর সঙ্গে শেষ মুহূর্তে আলোচনা চূড়ান্ত করেছে। এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এখনো সম্প্রচারস্বত্ব চূড়ান্ত হয়নি, কারণ সেখানেও ফিফার মাত্রাতিরিক্ত দাম নিয়ে দরকষাকষি চলছে।
বাংলাদেশের মতো বিশাল ফুটবল উন্মাদনার বাজারকে ফিফা কখনো সম্পূর্ণ বঞ্চিত করবে না। তাই বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শেষ মুহূর্তে বাণিজ্যিক স্বার্থেই ফিফা কোনো বিকল্প পথ বের করবে এবং দেশীয় কোনো বেসরকারি টেলিভিশন বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই বাংলাদেশের দর্শকরা প্রিয় দলের খেলা পর্দায় দেখতে পাবেন।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: