গোয়ায় শিরোপা মিশনে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ
নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর আগেই অনুশীলন মাঠের মান ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দল। তবু প্রতিকূল পরিস্থিতিকে পাশ কাটিয়ে মালদ্বীপের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী সাবিনা-ঋতুপর্ণাদের উত্তরসূরিরা।
বাংলাদেশ দলের জন্য নির্ধারিত হয়েছে গোয়ার ব্যাম্বোলিম অ্যাথলেটিক ক্লাব মাঠ। কিন্তু মাঠের অবস্থা দেখে হতাশ হয়েছেন কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়রা। টিম হোটেল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের এই মাঠে পৌঁছাতে বেশ সময় লেগে যায়। তার ওপর বৃষ্টিভেজা মাঠের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে ছিল, যা খেলোয়াড়দের অনুশীলনের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি।
মঙ্গলবার সকাল ৭টায় অনুশীলনের সময়সূচি থাকলেও মাঠে পৌঁছানোর পর ড্রেসিং রুমের পরিবেশ নিয়েও অসন্তোষ দেখা যায়। গুমোট ও অস্বস্তিকর পরিবেশের কারণে অনেক খেলোয়াড় ড্রেসিং রুম ব্যবহার না করে বাইরে বসেই প্রস্তুতি নেন। এ সময় মাঠের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে দৃশ্যত বিরক্ত হন প্রধান কোচ পিটার জেমস বাটলার। যদিও গণমাধ্যমের প্রশ্নে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, ‘নো কমেন্টস।’
দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শিউলি আজিমও থাইল্যান্ডে সাম্প্রতিক প্রস্তুতি ক্যাম্পের সঙ্গে গোয়ার অনুশীলন সুবিধার তুলনা টেনে বলেন, থাইল্যান্ডের সুবিধা তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো ছিল। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং মাঠের অজুহাত দাঁড় করাতে চায় না।
দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য রাইট ব্যাক শিউলি আজিম মনে করেন, অতীতের সাফল্য নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। গত দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হলেও এবার নতুন করে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে। তার মতে, এবারের আসরে ভারত ও নেপাল সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তবে বাংলাদেশও নিজেদের সেরাটা দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যাবে।
বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ আগামী বৃহস্পতিবার মালদ্বীপের বিপক্ষে। এর আগে ভারত নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে মালদ্বীপকে ১১-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শক্তির জানান দিয়েছে। সেই ফলাফল নিয়ে আলোচনা এখন পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই। তবে বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড শাহেদা আক্তার রিপা আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে জানিয়েছেন, তাদেরও লক্ষ্য বড় ব্যবধানে জয় তুলে নেওয়া। তার কথা, ‘ভারতের ১১ গোলের রেকর্ড দেখেই আমরা মাঠে নামব না। বরং আমরা সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে আরও ভালো কিছু করার চেষ্টা করব।’ তার বিশ্বাস, মালদ্বীপের বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারলে তা ভারতের জন্যও একটি বার্তা হয়ে দাঁড়াবে।
সম্প্রতি থাইল্যান্ডে প্রায় ১৫ দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্প শেষ করে গোয়ায় এসেছে বাংলাদেশ দল। খেলোয়াড়দের মতে, এই প্রস্তুতি তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। দলের সবাই এখন এক লক্ষ্যেই ঐক্যবদ্ধ—সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ধরে রাখা এবং টানা তৃতীয়বারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করা।
প্রতিকূল অনুশীলন পরিবেশ, দীর্ঘ যাতায়াত এবং সুবিধার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের মেয়েরা তাই এখন তাকিয়ে আছে মাঠের লড়াইয়ের দিকে। তাদের বিশ্বাস, সব বাধা পেরিয়ে আবারও শিরোপা জয়ের হাসি হাসতে পারবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: