[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৪ঠা জুন ২০২৬
২০শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সুলিভান ব্রাদার্সের পর বাংলাদেশ দলে আসছেন ওয়াহিদ ব্রাদার্স

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৭ মে ২০২৬ ০৭:০৫ এএম

বাংলাদেশ ফুটবলে প্রবাসী প্রতিভা অন্তর্ভুক্তির ধারাবাহিকতায় আরও একটি সুখবর এসেছে। ইংল্যান্ডে খেলা দুই ফুটবলার ফারহান আলী ওয়াহিদ ও রায়ান আলী ওয়াহিদ বাংলাদেশের হয়ে খেলতে সম্মতি দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম।

এক ভিডিও বার্তায় ফাহাদ করিম জানান, দুই ফুটবলারের বাবা আব্দুল ওয়াহিদ এবং ফারহান-রায়ানের সম্মতি পাওয়ার পরই এই সুখবর প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে হামজা চৌধুরী, শমিত সোম এবং সুলিভান ব্রাদার্সের পর আরও দুই প্রতিভাবান প্রবাসী ফুটবলারের বাংলাদেশ দলে যোগ দেওয়ার পথ খুলে গেল।

ফারহান আলী ওয়াহিদ বর্তমানে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব ফুলহ্যামের অনূর্ধ্ব-২১ দলে খেলছেন। এর আগে তিনি চেলসির একাডেমিতেও ছিলেন। প্রতিভাবান এই উইঙ্গার চলতি মৌসুমে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স করে নজর কেড়েছেন এবং মৌসুমসেরা ফুটবলারের সংক্ষিপ্ত তালিকায়ও জায়গা পেয়েছেন। অন্যদিকে তার ছোট ভাই রায়ান আলী ওয়াহিদ ইংল্যান্ডের ওক ইং এফসির হয়ে খেলছেন। তিনি মূলত অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেললেও গোল করা এবং সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর দক্ষতার জন্য পরিচিত।

দুই ভাইয়ের বাবা-মা বাংলাদেশি হলেও তারা ইংল্যান্ডেই বেড়ে উঠেছেন। ফারহান একসময় ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৫ দলের ডাকও পেয়েছিলেন। যদিও সে সময় কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অংশ নেননি। ফলে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ এখনও উন্মুক্ত রয়েছে।

বর্তমানে তাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট এবং ফিফার প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা চলছে। বাফুফে আশা করছে, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতেই ফারহান ও রায়ানের বাংলাদেশ দলের জার্সিতে অভিষেক হতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমের মতো খেলোয়াড়দের আগমনে জাতীয় দলের মান ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বেড়েছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। সেই ধারাবাহিকতায় ওয়াহিদ ব্রাদার্সের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।

বিশেষ করে ইউরোপিয়ান ফুটবল পরিবেশে গড়ে ওঠা এই দুই তরুণের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা জাতীয় দলের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা, কবে লাল-সবুজ জার্সিতে মাঠে নেমে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেবেন ওয়াহিদ ব্রাদার্স।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর