[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৪ঠা জুন ২০২৬
২০শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মালদ্বীপের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৪-২ গোলের জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২৬ ২২:০৫ পিএম

সাফে টানা দুই শিরোপা বাংলাদেশের। বর্তমান চ্যাম্পিয়নও তারাই। কিন্তু খেলায় তার ছিটেফোটও দেখা গেল না। ভারত যে দলটিকে হারিয়েছে ১১-০ গোলে। সেই মালদ্বীকে হারাতে গলদঘর্ম হতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে আজ বৃহস্পতিবার গোয়ার পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে ৪-২ গোলের এক ম্যাড় ম্যাড়ে জয় পেয়েছেন মারিয়া মান্দা-আফঈদা খন্দকাররা। লাল সবুজের হয়ে আনিকা রানীয়া সিদ্দিকী, উমেহলা মারমা, সুরভী আকন্দ প্রীতিও কোহাতি কিস্কু গোল চারটি করেন। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন অধিনায়ক মারিয়া মান্দা।

মারিয়া মান্দার নেতৃত্বে প্রথমবার সাফে খেলছে লাল সবুজের মেয়েরা। মালদ্বীপের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে রেফারি শুরুর বাশি দেওয়ার পরই আচমকা গোল। ম্যাচের মাত্র তখন ১৩ সেকেন্ড। মালদ্বীপের মেয়েরা যখন বাংলাদেশকে আটকানোর ছক কষছে, ঠিক ওই সময়ে রুপকথার গোল করে লাল সবুজ শিবিরকে আনন্দে মাতিয়ে তোলেন সুইডেন প্রবাসী ফুটবলার আনিকা রানীয়া সিদ্দিকী। লাল সবুজের জার্সিতে এটাই আনিকার প্রথম গোল। জানা গেছে, এটাই বাংলাদেশের ইতিহাসে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে দ্রুততম গোলের রেকর্ড।

আগে খেলতেন উইঙ্গার পজিশনে। কিন্তু সাফে প্রথমবার তাকে স্ট্রাইকিং পজিশনে খেলাচ্ছেন কোচ পিটার বাটলার। তার গোলের উৎস আরেক ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমা। সতীর্থের কাছ থেকে ক্রসে বল পেয়ে আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী শট করে পরাস্ত করেন মালদ্বীপর গোলকিপার ফাতিমাথ সৌসানকে (১-০)। সেই সঙ্গে কোচের আস্থার প্রতিদানও দেন আনিকা। গত সাফে ৫ গোল করা তহুরা খাতুনকে বসিয়ে আনিকার উপর আস্থা রেখে একাদশে সুযোগ দিয়েছিলেন কোচ।

বিশ্ব ফুটবলেই কিক-অফের মাত্র ১৩ সেকেন্ডে গোল হওয়ার ঘটনা কালেভদ্রে ঘটে। আর বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে পুরুষ বা নারী, কোনো বিভাগেই এর চেয়ে দ্রুতগতির গোলের নজির আছে কি না, তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণার প্রয়োজন হতে পারে। কারণ, দেশের ফুটবলে এমন নিখুঁত রেকর্ডের ইতিহাস বেশ দুর্লভ।

ম্যাচের ৩৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুন করেন উমহেলা মারমা। সতীর্থের কাছ থেকে বল পেয়ে ঢুকে পড়েন বক্সে। ফাঁকা বক্স পেয়ে সরাসরি শটে পরাস্ত করেন মাতিমাথকে (২-০)। প্রচন্ড গরমে হাসফাস করা পিপাষার্ত মেয়েদের তৃষ্ণা মেটাতে ৩৬ মিনিটে কুলিং ব্রেক দেন রেফারি। ৩৮ মিনিটে বক্সের ২০ গজ দূর থেকে আফঈদা খন্দকারের দূর পাল্লার শটটি লাফিয়ে উঠে রুখে দেন ফাতিমাথ। নইলে ব্যাবধান আরও বাড়তে পারত। ৪৩ মিনিটে এক গোল শোধ দেন মারিয়াম নুরা। বক্সের ৩০ গজ দূর থেকে শট নিলে বল ক্রস বারে লেগে নীচে পড়ে গোললাইন অতিক্রম করে। বাংলাদেশের গোলকিপার লাফিয়ে উঠেও বলের নাগাল পাননি। রেফারি কামানি রাচানা গোলের বাশি দেন (১-২)। পুরো প্রথমার্থে এই একবারই বাংলাদেশের বিপদ সীমানায় বল নিতে পারে মালদ্বীপ। আর তাতেই বাজিমাত।

বড় জয়ের আশায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দুটি পরিবর্তন আনেন কোচ পিটার। মৌমিতা খাতুনকে উঠিয়ে নামান সুরভী আকন্দ প্রীতিকে এবং শামসুন্নাহার জুনিয়রের জায়গায় নামান সাগরিকাকে। কিন্তু তাতে কোন কাজে আসেনি। বরং বুমেরাং হয়েছে। গোল শোধে মরিয়া মালদ্বীপ ৫৭ মিনিটে সমতায় ফেরে। আমিনাথ ফাজলার শট গেলকিপার মিলি আক্তার শুয়ে পড়েও রুখতে পারেননি (২-২)। হতাশ বাটলার এবার আরও দুটি বদল আনেন। ১৩ সেকেন্ডে গোল করা আনিকা রানিয়ার বদলে তহুরা খাতুন ও উমহেলা মারমার বদলে শাহেদা আক্তার রিপাকে নামান। এবার শক্তিশালী হয় ফরোয়ার্ড পজিশন। ৬৪ মিনিটে ঋতুপর্ণার অ্যাসিস্ট থেকে দুর্দান্ত এক কিকে বল জালে জাড়ন সুরভী আকন্দ প্রীতি (৩-২)। ফের এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ম্যাচের শেষ মিনিটে গোল করে লাল সবুজদের আরও এগিয়ে দেন কোহাতি কিস্কু (৪-২)। ব্যাস, ওই পর্যন্তই। বার বার মালদ্বীপের জালমুখে আক্রমন করেও ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। সুযোগ নষ্ট করেছেন ঋতুপর্ণা। গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন অন্য ফরোয়ার্ডরাও। ৩১ মে একই মাঠে বি-গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে খেলতে নামবে বাংলাদেশ।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর