কোচ পিটারের মতো, ‘বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ ৫০-৫০’
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ যে স্বাগতিক ভারত। তাই অনুশীলনে শিষ্যদের নিয়ে একটু বেশিই মনযোগি গুরু বাটলার। তবে ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের প্রধান এই কোচ। তার মতে, দুই দলের শক্তি ও সামর্থ্য বিবেচনায় ম্যাচটি হবে পুরোপুরি ‘৫০-৫০’ লড়াই।
একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সেমিফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ নিয়ে তার দলের কোনো ভাবনা নেই; বরং প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেওয়াই তাদের লক্ষ্য। আজ শনিবার অনুশীলন শেষে পিটার বাটলার বলেন, ‘ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলা সবসময়ই একটি বড় সুযোগ। এ ধরনের ম্যাচ খেলোয়াড়দের নিজেদের সামর্থ্য যাচাই করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভিজ্ঞতা দেয়।’ তিনি জানান, দল আগের ম্যাচের ভিডিও বিশ্লেষণ করছে এবং ভারতের বিপক্ষে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নামবে।
কোচ আরও জানান, আগের ম্যাচের তুলনায় একাদশে কয়েকটি পরিবর্তন আসতে পারে। ইনজুরি কাটিয়ে মনিকার ফেরার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘দলে এখন বিকল্পের সংখ্যা বেড়েছে এবং বিভিন্ন পরিস্থিতির জন্য আলাদা পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে।’
সেমিফাইনালে স্বাগতিক নেপালের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পিটার বাটলার বলেন, ‘কোনো দলকে এড়িয়ে চলার মানসিকতা আমার নেই। টুর্নামেন্ট জিততে হলে শেষ পর্যন্ত শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষেই খেলতে হবে। তাই নেপাল, ভারত বা অন্য যে কোনো দলের মুখোমুখি হতে আমরা প্রস্তুত।’
আগের ম্যাচে সুযোগ নষ্ট হওয়ায় কিছু খেলোয়াড়কে হতাশ দেখালেও সেটিকে স্বাভাবিক বলে মনে করেন বাংলাদেশ কোচ। তার মতে, দল ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং আরও বড় ব্যবধানে জয়ের সুযোগ ছিল। বিশেষ করে ঋতুপর্ণা চাকমার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, খারাপ দিন সবারই আসতে পারে। তবে তার বিশ্বাস, ঋতুপর্ণা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা উইঙ্গার এবং ভবিষ্যতে আরও উজ্জ্বল পারফরম্যান্স উপহার দেবে। ভারতের আক্রমণভাগের শক্তিমত্তা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে পিটার বাটলার বলেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশ দল ২০২৪ সালের দলের তুলনায় অনেক বেশি পরিণত ও ভারসাম্যপূর্ণ। তার মতে, দলে এখন বেশ কয়েকজন ম্যাচ-উইনার রয়েছে এবং তরুণ ফুটবলারদের উত্থান দলকে নতুন শক্তি দিয়েছে।’ সবশেষে তিনি বলেন, ‘ভারতের আক্রমণভাগ ভালো, তবে আমাদেরও নিজেদের শক্তি আছে। আমরা আক্রমণ করতে পারি, আবার প্রয়োজন হলে শক্ত রক্ষণও গড়তে পারি। মাঠে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।’ ভারতের বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে এখন আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় প্রত্যয়ের বার্তাই দিলেন বাংলাদেশ নারী দলের এই ইংলিশ কোচ।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: