বিতর্কে বাফুফে: নারী দলের ম্যানেজার ও মিডিয়া বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন
গোয়া (ভারত) থেকে: বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আবারও বিতর্কের মুখে পড়েছে নারী ফুটবল দলের ম্যানেজারের আচরণ এবং সাম্প্রতিক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোচিং স্টাফের পরিচয় সংক্রান্ত ভুল তথ্য প্রকাশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের দাবি, এসব ঘটনা দেশের ফুটবলের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বর্তমানে হ্যাটট্রিক সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল ভারতের গোয়ায় অবস্থান করছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমীকে ঘিরে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিদেশ সফরে তার আচরণ নিয়ে অতীতেও প্রশ্ন উঠেছিল এবং সাম্প্রতিক সফরেও সে ধরনের বিতর্কের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।
দলের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ব্যাংককে অনুষ্ঠিত কন্ডিশনিং ক্যাম্প শেষে গোয়ায় যাওয়ার সময় ডিউটি-ফ্রি দোকান থেকে কেনা মদ সঙ্গে নিয়ে আসেন নওমী। পরে গোয়ার টিম হোটেলে বাইরের দোকান থেকে কেনা মদ নিয়ে প্রবেশ করতে গেলে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, হোটেলের নিয়ম অনুযায়ী বাইরের মদ ভেতরে আনা নিষিদ্ধ ছিল।
আরও জানা গেছে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টালের পক্ষ থেকে বাফুফের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তবে এ বিষয়ে বাফুফের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নারী ফুটবলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত নওমী আগে দলের মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ ও ২০২৪ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশ নারী দলের সফরেও তিনি দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে তাকে দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে বাফুফে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে আরেকটি ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছে বাফুফের মিডিয়া বিভাগ। সম্প্রতি সান মারিনোতে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ উপলক্ষে দল ঘোষণার সময় প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান কোচ টমাস ডুলিকে ভুলবশত ‘সহকারী কোচ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করলে পরে বাফুফের মিডিয়া বিভাগ সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এবং ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে।
ফুটবল সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্বকারী একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রশাসনিক ভুল অনাকাঙ্ক্ষিত। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী ফুটবলার হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে পুরুষ ফুটবলে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে নারী ফুটবলও ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
এমন সময়ে কর্মকর্তাদের আচরণ ও প্রশাসনিক ত্রুটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়াকে ভালোভাবে দেখছেন না ফুটবল অনুরাগীরা। তাদের মতে, মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি পেশাদার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাও জরুরি। বাফুফের প্রতি তাদের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বাফুফের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে চিত্রটি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: