[email protected] সোমবার, ১৫ই জুন ২০২৬
১লা আষাঢ় ১৪৩৩

কুরাসাওকে ব্রাজিলের ৭-১ গোলের স্মৃতি ফিরিয়ে দিলো জার্মানি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬ ০৯:০৬ এএম

হিউস্টনের মাঠে শুরুটা ছিল চমক জাগানো। জনসংখ্যার হিসাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ কুরাসাও যেন বড় এক স্বপ্ন নিয়েই নেমেছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে। কিন্তু সেই স্বপ্নে প্রথম ধাক্কাটা আসে মাত্র ছয় মিনিটেই। ফ্লোরিয়ান ভির্টজের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় বক্সের ভেতর জায়গা করে নিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জার্মানিকে এগিয়ে দেন ফেলিক্স এনমেচা।

তবে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে খুব বেশি সময় নেয়নি কুরাসাও। ম্যাচের ২১তম মিনিটে জার্মান রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন রাইটব্যাক লিভানো কোমেনেনসিয়া। অভিজ্ঞ ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে আসা এই গোল শুধু সমতারই নয়, বিশ্বকাপের মঞ্চে কুরাসাওয়ের ইতিহাসে প্রথম গোলও। গ্যালারিতে নীল জার্সিধারীদের উচ্ছ্বাসে তখন হিউস্টনের বাতাস যেন বদলে যায়।

সমতায় থাকা জার্মানি এরপর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ৩৮ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে নিখুঁত হেডে গোল করেন নিকো শ্লটারবেক। আবারও এগিয়ে যায় জার্মানি। এর কিছু সময় পরই প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আসে পেনাল্টির সুযোগ। কুরাসাওয়ের বক্সে ফাউলের শিকার হন ফেলিক্স এনমেচা। স্পট কিক থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন কাই হাভার্টজ। ফলে বিরতিতে জার্মানি যায় ৩-১ ব্যবধানে।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান আরও বড় হতে বেশি সময় নেয়নি জার্মানি। বিরতির পরপরই ইয়োশুয়া কিমিখের পাস ধরে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন জামাল মুসিয়ালা। স্কোরলাইন তখন ৪-১, আর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি জার্মানদের হাতে।

এরপর শুরু হয় গোলবন্যা। ম্যাচের ৬৮ মিনিটে জার্মানির পঞ্চম গোলটি করেন নাথানিয়েল ব্রাউন। কিছুক্ষণ পর ৭৮ মিনিটে ডেনিজ উনদাভ ব্যবধান আরও বাড়ান। উল্লেখযোগ্য বিষয়, জার্মানির প্রথম ছয়টি গোলই আসে ছয়জন আলাদা খেলোয়াড়ের পা থেকে যা আক্রমণভাগের গভীরতা ও বৈচিত্র্যকে আরও স্পষ্ট করে।

সবশেষে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন কাই হাভার্টজ। এটি ছিল জার্মানির সপ্তম গোল, যা একসময়কার সেই বিখ্যাত ব্রাজিলের বিপক্ষে ৭-১ ব্যবধানের স্মৃতিকেই যেন ফিরিয়ে আনে। কুরাসাওয়ের সাহসী শুরু এবং একটি ঐতিহাসিক গোল থাকলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি পরিণত হয় জার্মানদের একপেশে আধিপত্যে।

তবে ম্যাচের আলোচনায় কেবল গোলই নয়, উঠে এসেছে দুই কোচের বয়সের ব্যবধানও। কুরাসাওয়ের ৭৮ বছর বয়সী অভিজ্ঞ কোচ ডিক অ্যাডভোকাটের বিপক্ষে জার্মানির ৩৮ বছর বয়সী ইউলিয়ান নাগেলসমান, ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপ ম্যাচে দুই প্রধান কোচের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় বয়সের ব্যবধান।

সব মিলিয়ে হিউস্টনের এই রাত ছিল একদিকে কুরাসাওয়ের স্বপ্নময় শুরু আর অন্যদিকে জার্মানির শক্তির নির্মম প্রদর্শনী যেখানে শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইনই লিখে দেয় ব্যবধানের গল্প।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর