[email protected] মঙ্গলবার, ১৬ই জুন ২০২৬
২রা আষাঢ় ১৪৩৩

স্পেনের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো কেপ ভার্দে গোলরক্ষকের অনন্য রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬ ০৯:০৬ এএম

আটলান্টা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়ে বসলো কেপ ভার্দে। শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই গোলশূন্য ড্র করে চমক দেখাল আফ্রিকার এই নবাগত দল। আর এই অবিশ্বাস্য ফলের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় নাম হয়ে উঠলেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক জোসিমার জোসে ইভোরা দিয়াস, যিনি ফুটবল বিশ্বে ‘ভোজিনিয়া’ নামেই পরিচিত।

ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল স্পেনের। ইউরোর বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা একের পর এক আক্রমণে কেপ ভার্দের রক্ষণ ভেঙে ফেলতে চাইলেও শেষ দেয়ালে গিয়ে থেমে যায় সব চেষ্টা। রদ্রি, পেদ্রি, গাভি, লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসদের নিয়ে গড়া স্প্যানিশ আক্রমণভাগের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান ভোজিনিয়া।

প্রথমার্ধেই স্পেন বেশ কয়েকটি নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করে। ৩৯ মিনিটে ফেরান তোরেসের জোরালো শট পোস্টে লেগে ফেরে গেলে ফিরতি বলেও গোলের সুযোগ নষ্ট হয় তারই আরেক প্রচেষ্টায়। কিন্তু সেখানেও চমৎকার সেভ করে দলকে রক্ষা করেন ভোজিনিয়া। প্রথমার্ধের শেষ দিকে লাপোর্তের হেডও ঠেকিয়ে দেন তিনি। এই সেভগুলোই স্পেনের আক্রমণাত্মক ছন্দে ভাঙন ধরায়।

দ্বিতীয়ার্ধে চিত্র আরও একতরফা হয়ে ওঠে। পুরো ম্যাচে স্পেন ২৩টি শট নেয়, যার মধ্যে ৮টি ছিল লক্ষ্যে। বল দখলে তারা এগিয়ে ছিল প্রায় ৭৪ শতাংশের বেশি। তবু গোল আসেনি। কারণ গোলপোস্টের নিচে ছিলেন এক অনড় প্রাচীর ভোজিনিয়া।

ম্যাচজুড়ে তিনি করেন অন্তত ৭টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ, একটি ক্লিয়ারেন্স এবং আকাশে বল দখলের লড়াইয়েও জেতেন একাধিকবার। স্পেনের পেদ্রি, ফাবিয়ান রুইস, মেরিনো কিংবা কুকুরেয়ার শট সবই একে একে ফিরিয়ে দেন এই ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক। শেষ মুহূর্তেও স্পেনের আক্রমণ থামিয়ে দেন তিনি।

পরিসংখ্যানও বলছে তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের গল্প। স্পেনের প্রত্যাশিত গোল (xG) ছিল ২.২৯, কিন্তু স্কোরবোর্ডে ছিল শূন্য। ৮০০’র বেশি পাস, শতাধিক আক্রমণ সবই ব্যর্থ করে দেন কেপ ভার্দের রক্ষণ ও বিশেষ করে ভোজিনিয়া।

ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন তিনিই। ৪০ বছর ১২ দিন বয়সে বিশ্বকাপ অভিষেকে ক্লিনশিট রেখে তিনি গড়েছেন বিশেষ এক রেকর্ড। চল্লিশোর্ধ্ব গোলরক্ষকদের মধ্যে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সেভের তালিকাতেও উঠে এসেছে তার নাম, যেখানে ১৯৮৬ সালে প্যাট জেনিংসের পর এমন পারফরম্যান্স খুব কমই দেখা গেছে।

তবে এই সাফল্যের পেছনে আছে দীর্ঘ এক সংগ্রামী জীবন। পর্তুগালের জিডি শাভেসসহ বিভিন্ন দেশের ছোট-বড় ক্লাবে খেলেছেন তিনি। আঙ্গোলা, সাইপ্রাস, মলদোভা, স্লোভাকিয়া ঘুরে বেড়িয়েছেন বহু লিগে। কখনোই বড় তারকা না হলেও জাতীয় দলের গোলপোস্টে তিনি ছিলেন দীর্ঘদিনের ভরসা।

ভোজিনিয়ার ব্যক্তিগত জীবনও সমানভাবে অনন্য। শৈশবে দাদা-দাদির কাছে বড় হওয়ার কারণে তার ডাকনাম ‘ভোজিনিয়া’, যার অর্থ ‘ছোট দাদি/নানি’। কঠিন শৈশব, দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তা পেরিয়ে ফুটবলে উঠে আসা এই গোলরক্ষক ২৫ বছর পর্যন্ত খেলেছেন কেবল ঘরোয়া লিগে, পরে ধীরে ধীরে জায়গা করে নেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর