[email protected] রবিবার, ১৯শে জুলাই ২০২৬
৪ঠা শ্রাবণ ১৪৩৩

অ্যাডহক কমিটি গঠনে কারসাজির অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০৮:০৭ এএম

দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনে প্রায় দেড় বছর ধরে অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্বাচনকালীন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আবারও নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এই কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অস্বচ্ছতা ও কারসাজির অভিযোগ উঠেছে।

সংগঠকদের অভিযোগ, নতুন অ্যাডহক কমিটি কোথায় এবং কীভাবে গঠন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো স্বচ্ছতা নেই। এমনকি কমিটি কারা চূড়ান্ত করছেন, সেটিও অধিকাংশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানেন না। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কর্মকর্তারাও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো তথ্য না থাকার কথা জানিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যে প্রায় ২১টি ক্রীড়া ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটির তালিকা এনএসসিতে জমা দেওয়া হয়েছে।

একাধিক সূত্রের অভিযোগ, এসব কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে অনৈতিক অর্থ লেনদেন হয়েছে এবং এতে সাধারণ সম্পাদক ফোরামের কয়েকজন নেতার প্রভাব রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি কমিটির সঙ্গে যুক্ত একজন সাবেক ফুটবলার এবং তার কয়েকজন সহযোগী বিভিন্ন ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটি গঠনে ভূমিকা রাখছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে কয়েকটি ফেডারেশনে বর্তমান সাধারণ সম্পাদকদের পদ বহাল রাখা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক ফোরামের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের নামও অভিযোগে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটি গঠনে তারাই মূল সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন।

এদিকে রবিবার অন্য একটি সভায় কমিটি ভাঙা-গড়ার খেলা নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেন বেশ কিছু ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকরা। সভায় উপস্থিত এক সাধারণ সম্পাদক প্রশ্ন তোলেন, ‘সব জায়গায় পরিবর্তনের কথা বলা হলেও বক্সিং ফেডারেশনে এমএ কুদ্দুস খান এবং উশু ফেডারেশনে দিলদার হোসেন দিলু কীভাবে নিজেদের পদে বহাল থাকলেন? তাহলে অন্যরা কী দোষ করলেন?’ ওই সদস্যের মতে, যদি পরিবর্তনের নীতি গ্রহণ করা হয়, তাহলে তা সব ফেডারেশনের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান বলেন, ‘আমি এসব কমিটি গঠনের বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে আমার কাছে কয়েকজন সংগঠক সম্পর্কে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমি শুধু তাদের সাংগঠনিক দক্ষতা সম্পর্কে জানিয়েছি। এর বাইরে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

অন্যদিকে ওঠা সব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন সাধারণ সম্পাদক ফোরামের সভাপতি ও বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এমএ কুদ্দুস খান। তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। প্রতিপক্ষই এ ধরনের কথা ছড়াচ্ছে। আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। আমি শুধু বলেছিলাম, যদি নতুন কমিটি করা হয়, তাহলে যেন যোগ্য ও ভালো মানুষকে রাখা হয়। এর বাইরে আমার কোনো ভূমিকা নেই।’

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর