[email protected] রবিবার, ১৯শে জুলাই ২০২৬
৪ঠা শ্রাবণ ১৪৩৩

আজ কাঁদবেন কে, মেসি নাকি সালাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০২৬ ১৮:০৭ পিএম

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও মিশর। একদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখা মিশর। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় আটলান্টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার অনুশীলন ঘিরে ছিল বাড়তি কৌতূহল। নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টারও বেশি দেরিতে মাঠে আসে দলটি। শুরুতে অনুশীলনে নামেননি অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কোচ লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে কিছুক্ষণ আলাদা আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন তিনি। পরে সেই আলোচনা শেষ করে সতীর্থদের সঙ্গে যোগ দেন মেসি। অনুশীলনের পুরো সময়ই তাকে বেশ প্রাণবন্ত দেখা যায়। সতীর্থদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা আর হালকা খুনসুটিতে ব্যস্ত ছিলেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।

শেষ ষোলোর আগে সূচির ব্যস্ততা নিয়েও অসন্তুষ্টি লুকাননি স্কালোনি। মায়ামিতে নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচ খেলার পর খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে আবার দীর্ঘ বিমানযাত্রা করে আটলান্টায় এসে খেলতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গরম আবহাওয়া এবং একেক স্টেডিয়ামে একেক ধরনের মাঠের অবস্থা। সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপকে আগের আসরগুলোর তুলনায় বেশি কঠিন বলেই মনে করছেন তিনি।

স্কালোনির ভাষায়, অতিরিক্ত গরম, দীর্ঘ ভ্রমণ এবং ভিন্ন ভিন্ন মাঠের পরিবেশের কারণে কোনো দলকেই আলাদা করে ফেবারিট বলা যাচ্ছে না। তার মতে, এই টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া দলগুলোর শক্তির ব্যবধান খুবই কম। সামান্য ভুলই যে কোনো দলকে বিদায় করে দিতে পারে।

অন্যদিকে মিশর তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি বিশ্রামের সুযোগ পেয়েছে। তবে সেটিকে বড় সুবিধা হিসেবে দেখছে না দু’দলের কেউই। মিশরের কোচ হোসাম হাসান বলেন, তার দল এখন দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা সময় পার করছে এবং সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান তারা। খেলোয়াড়ি জীবনে অনেক অর্জন করা এই সাবেক স্ট্রাইকার কোচ হিসেবে দেশের মানুষকে নতুন সাফল্য উপহার দেয়ার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছেন।

আর্জেন্টিনাকে যথেষ্ট সম্মান করলেও ভয় পান না বলে জানিয়েছেন হাসান। তার মতে, মেসির মতো কিংবদন্তি ফুটবলার থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা বদলাতে চান না তারা। বরং নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চান। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে লড়াইয়ে নিজেদের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন মিশর কোচ।

দু’দলের ইতিহাসও আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে। এর আগে মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছিল দু’দল। ২০০৮ সালের সেই ম্যাচে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অতীতের পরিসংখ্যান খুব বেশি গুরুত্ব বহন করে না বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।

আর্জেন্টিনার একাদশেও কয়েকটি পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। চোট কাটিয়ে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর ফেরার সম্ভাবনা প্রবল। আক্রমণভাগে লাওতারো মার্টিনেজের পরিবর্তে শুরু থেকেই সুযোগ পেতে পারেন হুলিয়ান আলভারেজ। মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেসেরও ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্কালোনি অবশ্য নিজের দলকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। কেপ ভার্দের বিপক্ষে আগের ম্যাচের ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে বিশ্বকাপ যাত্রা এখানেই শেষ হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, কোনো ম্যাচে পরিস্থিতি প্রতিকূলে গেলেও ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা আর্জেন্টিনার ডিএনএর অংশ। তবে শুধু সেই মানসিকতা যথেষ্ট নয়, মাঠে ভালো খেলতেও হবে। আগের ম্যাচের মতো পারফরম্যান্স হলে বিদায় এড়ানো সম্ভব হবে না।

আটলান্টার বাইরে তীব্র গরম থাকলেও ম্যাচে তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়ামেই অনুষ্ঠিত হবে শেষ ষোলোর বহুল প্রতীক্ষিত এই লড়াই। ফলে সব আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে দু’দলের ফুটবল, আর নজর থাকবে বিশ্বের দুই তারকা লিওনেল মেসি ও মোহাম্মদ সালাহর দিকে।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর