[email protected] রবিবার, ১৯শে জুলাই ২০২৬
৪ঠা শ্রাবণ ১৪৩৩

মেসির উত্থানের যে গল্পে জড়িয়ে মিশরের নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০২৬ ১৯:০৭ পিএম

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে লিওনেল মেসির যাত্রা শুরু হয় ২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে, যে ম্যাচে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাকে। তবে ২০০৫ সালের অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচটি তার ক্যারিয়ারের এক বিশেষ অধ্যায়। কারণ, সেটিই ছিল আলবিসেলেস্তের হয়ে বিশ্বকাপে তার প্রথম গোলের ম্যাচ।

সেই বিশ্বকাপের শুরুটা আর্জেন্টিনার জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথম ম্যাচে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায়। ব্যবধান আরও বাড়তে পারত, যদি মার্কিন তারকা ফ্রেডি আদু পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারতেন। তবে তার শট লেগেছিল গোলরক্ষক অস্কার উস্তারির পোস্টে।

সেই ম্যাচে আদুকেই দুই দলের সবচেয়ে বড় প্রতিভা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। মাত্র ১৪ বছর বয়সে এমএলএসে অভিষেক হওয়া এই ফুটবলারকে অনেকে 'নতুন পেলে' বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, মেসির তখন  বার্সেলোনার হয়ে অভিষেক হয়ে গেছে এবং তার গায়েও ছিল 'নতুন ম্যারাডোনা'র তকমা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে তিনি দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমেও ম্যাচের চিত্র বদলাতে পারেননি।
 
ম্যাচ শেষে মাঠ থেকে ড্রেসিংরুমে যাওয়ার টানেলে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) তৎকালীন সভাপতি হুলিও গ্রন্দোনা কোচ পাঞ্চো ফেরারোর সঙ্গে দেখা করেন। গ্রন্দোনা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, 'শোনো ফেরারো, এমন লাথি মারব যে সোজা বুয়েনস আইরেসে গিয়ে পড়বে! কী করছ তুমি? মেসিকে শুরু থেকেই খেলাচ্ছ না কেন?'
ফেরারো জবাব দেন, 'দেখুন গ্রন্দোনা, আপনি যদি আমার দল সাজাতে আসেন, তাহলে আমি এখনই পদত্যাগ করছি।'

এর জবাবে গ্রন্দোনা বলেন, 'বলতে হবে না, তোমাকে বরখাস্ত করা হলো...'

অবশ্য এই হুমকি কখনোই বাস্তবে কার্যকর হয়নি।

এই সংলাপটি সাংবাদিক (এবং পরবর্তীতে এএএ'র মুখপাত্র) এরনেস্তো চেরকিস বিয়ালোর বর্ণনা অনুযায়ী প্রচলিত। চলতি বছরের মার্চে তিনি মারা যান। তবে কোচ ফেরারো এই ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

ক্লারিনকে তিনি বলেন, 'শেষ অনুশীলনে আমরা ১৫ মিনিটের একটি প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেছিলাম। সেখানে মেসিকে তার স্বাভাবিক ছন্দে দেখিনি। এরপর দলের ডাক্তার ড্যানিয়েল মার্তিনেস এসে আমাকে জানান, তার পেশিতে টান লেগেছে। তাই আমি ওকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। প্রয়োজন হলে পরে নামাব, এই পরিকল্পনাই ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে ওকে নামিয়েছিলাম, কিন্তু তাতেও অন্তত ড্র করা সম্ভব হয়নি।'

উল্লেখ্য, সেই ড্যানিয়েল মার্তিনেসই ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের মেডিকেল স্টাফের সদস্য।

ফেরারো শেষ পর্যন্ত মেসিকে একাদশে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ঠিক কী কারণে, তা আজও স্পষ্ট নয়। সেটা কি গ্রন্দোনার চাপে, নাকি দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলোচনার পর, যাদের মতও গ্রন্দোনার মতোই ছিল। সাংবাদিক আরিয়েল সেনোসিয়াইনের বই 'মেসি, দ্য ইনকম্প্লিট জিনিয়াস'–এ  মেসির সাবেক সতীর্থ লুকাস বিগলিয়া উল্লেখ করেছেন? নাকি ফেরারো নিজেই উপলব্ধি করেছিলেন যে মেসির শুরু থেকেই খেলা উচিত? কারণ, ওই বছরের জানুয়ারিতে কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপেও তিনি বেশিরভাগ সময় দ্বিতীয়ার্ধে নামতেন, যখন ফেরারো হুগো তোকাল্লির কোচিং স্টাফে ছিলেন।

যাই হোক, মিশরের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে মেসি প্রথম একাদশে সুযোগ পান। ম্যাচের ৪৭তম মিনিটে হুলিও বারোসোর ক্রস থেকে তিনি গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। সেটিই ছিল বিশ্বকাপে মেসির প্রথম গোল। পরে পাবলো জাবালেতা আরও একটি গোল করলে আর্জেন্টিনা ২-০ ব্যবধানে জয় পায় এবং শেষ ষোলোতে ওঠার পথে এগিয়ে যায়। ম্যাচ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে মেসির পরিবর্তে মাঠে নামেন লুকাস বিগলিয়া।

সেই প্রথম একাদশে খেলা ম্যাচের মাত্র আড়াই সপ্তাহ পরই মেসি হয়ে ওঠেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল রত্ন। তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন, ছয় গোল করে জেতেন গোল্ডেন বুট। যার মধ্যে দুটি ছিল ফাইনালে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে এবং সেমিফাইনালে একটি ব্রাজিলের বিপক্ষে। পাশাপাশি আর্জেন্টিনা জেতে বিশ্ব শিরোপা। সেটিই ছিল আলবিসেলেস্তের জার্সিতে মেসির প্রথম সত্যিকারের তারকাখচিত পারফরম্যান্স।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর