আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে পর্তুগিজ রেফারি পিনেইরো
ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন পর্তুগালের রেফারি জোয়াও পিনেইরো।
রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে শেষ চারে ওঠার এই লড়াই। বিশ্বকাপে এবারই প্রথম আর্জেন্টিনার কোনো ম্যাচে বাঁশি বাজাবেন ৩৮ বছর বয়সী এই রেফারি। তবে গ্রুপ পর্বে তিনি সুইজারল্যান্ডের একটি ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন। টিওয়াইসি স্পোর্টস
পর্তুগালের ভিলা নোভা দি ফামালিকাও শহরে জন্ম নেয়া পিনেইরো ২০১৫ সালে দেশটির শীর্ষ লিগে রেফারিং শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের অবস্থান শক্ত করেন তিনি। ২০২২-২৩ মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেকের পর থেকে নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনা করছেন। এবারই তার প্রথম বিশ্বকাপ, যেখানে ইতোমধ্যে দুটি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন।
গ্রুপ পর্বে সুইজারল্যান্ড ও বসনিয়ার ম্যাচে রেফারি ছিলেন পিনেইরো। সেই ম্যাচে সুইজারল্যান্ড ৪-১ ব্যবধানে জয় পায়। ম্যাচে তিনি তিনটি হলুদ কার্ড দেখানোর পাশাপাশি বসনিয়ার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান। পরে শেষ ষোলোর কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেই ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখালেও বড় কোনো বিতর্কের জন্ম হয়নি।
তবে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে পিনেইরোর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে সর্বশেষ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বায়ার্ন মিউনিখ ও প্যারিস সেন্ট–জার্মেইনের ম্যাচ পরিচালনার পর। ম্যাচের প্রথমার্ধে পিএসজি ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় বায়ার্নের খেলোয়াড়েরা অভিযোগ করেন, পিএসজির মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেস নিজেদের বক্সে হ্যান্ডবল করেছেন। কিন্তু পিনেইরো পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি। শুধু তাই নয়, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) থেকেও তাকে ঘটনাটি পুনর্বিবেচনার জন্য ডাকা হয়নি। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয় এবং ইউরোপীয় ফুটবলে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পিনেইরোর পথচলা শুরু হয় ২০১৬ সালে। এরপর থেকে উয়েফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। গত বছরের আগস্টে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইন ও টটেনহ্যাম হটস্পারের মধ্যকার উয়েফা সুপার কাপের ফাইনালেও রেফারির দায়িত্ব পালন করেন। ওই ম্যাচে চারটি হলুদ কার্ড দেখালেও তার সিদ্ধান্ত নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো বিতর্ক হয়নি।
বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ এই কোয়ার্টার ফাইনালে পিনেইরোর সহকারী হিসেবে থাকবেন তারই স্বদেশি ব্রুনো জেসুস ও লুসিয়ানো মাইয়া। চতুর্থ রেফারির দায়িত্ব পালন করবেন কানাডার ড্রু ফিশার। এখন দেখার বিষয়, আলোচিত এই পর্তুগিজ রেফারির পরিচালনায় আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের হাইভোল্টেজ লড়াই কতটা বিতর্কমুক্ত থাকে।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: