৩৯ বছরেও মেসির পায়ে নতুন ইতিহাস
রেকর্ড আর লিওনেল মেসি যেন একে অন্যের সমার্থক। মাঠে নামলেই কোনো না কোনো কীর্তি এসে ধরা দেয় তার পায়ে। বিশ্বকাপেও সেই গল্পের শুরু দুই দশক আগে। ২০০৬ বিশ্বকাপে সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে গোল ও অ্যাসিস্ট করে টিনএজার মেসি লিখেছিলেন নতুন ইতিহাস। এরপর সময় যত গড়িয়েছে, বিশ্বকাপের রেকর্ড বইয়ে ততই উজ্জ্বল হয়েছে আর্জেন্টাইন মহাতারকার নাম।
বয়স এখন ৩৯। কিন্তু মেসির রেকর্ড গড়ার নেশায় যেন এতটুকু ভাটা পড়েনি। ২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার সাফল্যের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন তিনি। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার কীর্তি আগেই নিজের করে নিয়েছেন। সর্বোচ্চ জয় পাওয়া ফুটবলার হিসেবেও তার অবস্থান অনন্য। এবার আরও একটি পরিসংখ্যানে গত ৬০ বছরের সবাইকে পেছনে ফেললেন রোজারিওর জাদুকর।
গ্রুপসেরা হয়ে নকআউট পর্বে ওঠা আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে সুইজারল্যান্ডের। রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় কানসাসের মাঠে শুরু হওয়া ম্যাচে একটি অ্যাসিস্ট করেই নতুন ইতিহাস গড়েছেন মেসি।
বিশ্বকাপে এটি মেসির দশম অ্যাসিস্ট। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে আর কোনো ফুটবলার এত বেশি গোল করাতে পারেননি। এই তালিকায় মেসির সবচেয়ে কাছাকাছি আছেন আরেক আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। তার অ্যাসিস্ট ৮টি। অর্থাৎ নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়েও দুই অ্যাসিস্ট এগিয়ে মেসি।
শুধু অ্যাসিস্টের রেকর্ডেই থেমে নেই মেসির কীর্তি। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে তার মোট গোল অবদান এখন ১৫টি। গত ৬০ বছরে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ফুটবলারের গোল অবদান এত বেশি নয়। ১৪টি গোল অবদান নিয়ে মেসির ঠিক পেছনে আছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের দশম মিনিটেই মেসির পা থেকে আসে রেকর্ড গড়া সেই অ্যাসিস্ট। পরপর দুটি কর্নার পেয়েছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয় কর্নারটি নিতে এগিয়ে যান মেসি। তার নিখুঁতভাবে ভাসানো বলে সবার চেয়ে ওপরে উঠে হেড করেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। বল জালে জড়াতেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
এবারের বিশ্বকাপে এটিই আর্জেন্টিনার দ্রুততম গোল। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে সুইজারল্যান্ড।
দুই দশক আগে বিশ্বকাপের মঞ্চে কিশোর মেসির যে রেকর্ডযাত্রা শুরু হয়েছিল, ৩৯ বছর বয়সেও তা থামেনি। প্রজন্ম বদলেছে, প্রতিপক্ষ বদলেছে, বিশ্বকাপের মঞ্চে এসেছে নতুন নতুন তারকা। কিন্তু ছয় দশকের পরিসংখ্যান বলছে, নকআউট পর্বে গোল তৈরির ক্ষেত্রে মেসির ধারেকাছেও এখনো কেউ নেই।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: