আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তদন্ত করবে ফিফা
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। দেশটির সরকার ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের দাবি জানায়। পরে ফিফা নিশ্চিত করে যে, বিষয়টি নিয়ে স্বাধীন ডিসিপ্লিনারি কমিটি তদন্ত শুরু করেছে।
ফিফার এক মুখপাত্র আল জাজিরাকে বলেন, ‘স্বাধীন ডিসিপ্লিনারি কমিটি ম্যাচ কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে। ফিফার শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে কি না, তা পর্যালোচনা শেষে সিদ্ধান্ত হবে।’
কী হতে পারে শাস্তি?
ফিফার আচরণবিধি অনুযায়ী, ক্রীড়া আসরে রাজনৈতিক, আদর্শিক, ধর্মীয় বা আপত্তিকর বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এ কারণে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। এ ধরনের অপরাধে সাধারণত ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রয়েছে।
ব্রিটিশ ব্যবসামন্ত্রী পিটার কাইল ঘটনাটিকে ফিফার নিয়মের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র বলেন, ‘বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের। দ্বীপবাসীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারই চূড়ান্ত, এবং ফকল্যান্ডের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি কখনো টলবে না।’
দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড (আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের বিরোধ দীর্ঘদিনের। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা দ্বীপপুঞ্জটি দখল করলে ব্রিটেন সামরিক অভিযান চালিয়ে পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। ওই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন।
রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের ঘটনায় অতীতেও শাস্তি পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ২০১৪ বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে একই স্লোগান প্রদর্শনের কারণে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনকে ৩০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করেছিল ফিফা।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: