[email protected] মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই ২০২৬
৬ই শ্রাবণ ১৪৩৩

এটাই কি মেসির শেষ বিশ্বকাপ? বিদায়ের প্রশ্নে আবেগঘন ইব্রা-অঁরিদের শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২৬ ১০:০৭ এএম

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে ট্রফি মঞ্চে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসির অশ্রুসিক্ত মুখ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। আর সেই দৃশ্যই নতুন করে জন্ম দিয়েছে একটি প্রশ্ন—জাতীয় দলের জার্সিতে এটাই কি মেসির শেষ বিশ্বকাপ?

৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে ব্যক্তিগতভাবে ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। পুরো টুর্নামেন্টে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে টেনে তুলেছিলেন ফাইনালে। তবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের সংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে কার্যকর হতে পারেননি তিনি। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা অন-টার্গেটে কোনো শট নিতে পারেনি।

ফাইনালের পর ফক্স স্পোর্টসের আলোচনায় মেসিকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য করেন সাবেক সুইডিশ তারকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। তিনি বলেন, “এই বিশ্বকাপে আমরা ওকে মন ভরে উপভোগ করেছি। শিরোপা জিততে না পারায় ও অবশ্যই কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টে ও যা করেছে, তা অবিশ্বাস্য। একা হাতে দলকে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। এটা ছিল জাদুকরি এক পারফরম্যান্স।”

ইব্রাহিমোভিচ আরও বলেন, “কখনো মনে হয়েছে সে এই পৃথিবীর মানুষই নয়, আবার কখনো আমাদের মতোই একজন মানুষ। এটাই মেসির সৌন্দর্য।”

সাবেক ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরিও মেসির পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর মতে, “মেসির বিপক্ষে বাজি ধরা যায় না। আর্জেন্টিনাকে হারাতে হলে স্পেনের মতো অসাধারণ একটি দলই প্রয়োজন ছিল।”

মেসির কান্নার প্রসঙ্গ টেনে অঁরি বলেন, “যারা বলে এই বয়সে ওর জয়ের ক্ষুধা কমে গেছে, তারা শুধু ওর চোখের জল দেখুক। এত কিছু জয়ের পরও দেশের জন্য হার মানতে না পারার কষ্টই ওর ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।”

ডেনমার্কের সাবেক গোলরক্ষক ক্যাসপার স্মাইকেলের মতে, বিশ্বকাপের ফল দিয়ে মেসির ক্যারিয়ার বিচার করা ঠিক নয়। তিনি বলেন, “ফুটবল মানে শুধু ট্রফি নয়। ফুটবলকে আপনি কী দিয়েছেন, সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। আর সেই জায়গায় মেসির অবদান অতুলনীয়।”

একই মত প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফুটবলার অ্যালেক্সি লালাস। তাঁর ভাষায়, “আজকের হারের জন্য মেসি হতাশ হবেই, কারণ চ্যাম্পিয়নরা সবসময় জিততে চায়। কিন্তু এই একটি ম্যাচ দিয়ে তাঁর অবদানকে বিচার করা যায় না। তিনি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আইকন।”

ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার পিটার ক্রাউচ বলেন, “আজ স্পেনের যে ফুটবলাররা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তাদের অনেকেই ছোটবেলায় মেসিকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছে। এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার। যদি এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ হয়, তাহলে আমরা ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলারের বিদায় দেখলাম।”

মেসি এখনো জাতীয় দল থেকে অবসরের কোনো ঘোষণা দেননি। ফলে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা চলছেই। তবে একটি বিষয় নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই—ফাইনালের ফল যাই হোক, ২০২৬ বিশ্বকাপেও নিজের প্রতিভা, নেতৃত্ব ও লড়াকু মানসিকতা দিয়ে আরও একবার ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছেন লিওনেল মেসি।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর