[email protected] মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই ২০২৬
৬ই শ্রাবণ ১৪৩৩

সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের আসরে গোল, পাস, সেভে নতুন ইতিহাস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬ ১০:০৭ এএম

স্পেনের হাতে বিশ্বকাপের ট্রফি উঠলেও আক্রমণাত্মক ফুটবলের পরিসংখ্যানে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। প্রথমবার ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে একাধিক নতুন রেকর্ড গড়ে। ম্যাচের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে গোল, পাস, সেভ ও ব্যক্তিগত অর্জনের সংখ্যাও।

১০৪ ম্যাচের এই বিশ্বকাপে মোট ৩০৮টি গোল হয়েছে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ম্যাচপ্রতি গোলের গড় ছিল ২ দশমিক ৯৬।

দলগত গোলের হিসাবে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছে সেমিফাইনালিস্ট ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। দুই দলই করেছে ২০টি করে গোল। রানার্সআপ আর্জেন্টিনা ১৯ গোল করে রয়েছে তাদের পরেই। তবে শিরোপাজয়ী স্পেন আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণেও ছিল সবচেয়ে কার্যকর। পুরো টুর্নামেন্টে তারা করেছে ১৪ গোল, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র একটি।

এমবাপ্পের গোলের নতুন রেকর্ড

ব্যক্তিগত গোলের তালিকায় সবার ওপরে জায়গা করে নিয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। ১০ গোল করে তিনি টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ের কীর্তি গড়েছেন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম। বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যাও দাঁড়িয়েছে ২২-এ।

এবারের আসরে গোলের দৌড়ে এমবাপ্পের পরেই ছিলেন লিওনেল মেসি, জুড বেলিংহ্যাম ও আর্লিং হালান্ড।

অ্যাসিস্টেও নতুন ইতিহাস

সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়েছেন ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসে। সাতটি অ্যাসিস্ট করে তিনি ৫৬ বছর ধরে অক্ষুণ্ন থাকা পেলের রেকর্ড ভেঙেছেন।

চারটি করে অ্যাসিস্ট করেছেন এমবাপ্পে, মেসি, মার্টিন ওডেগার্ড, ব্রাহিম দিয়াজ ও ব্রুনো গুইমারেস।

সেভে আলোচনায় মার্টিনেজ

গোলরক্ষকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ফাইনালেই তিনি ১২টি সেভ করে দলকে লড়াইয়ে রাখেন। তবে পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ২৩টি সেভ করেছেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক ওরলান্দো হিল।

সেভের তালিকায় তাঁর পরের অবস্থানে রয়েছে কুরাসাও, সুইজারল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার গোলরক্ষকেরা।

রক্ষণে স্পেনের আধিপত্য

রক্ষণে সবচেয়ে সফল দল ছিল চ্যাম্পিয়ন স্পেন। আট ম্যাচের মধ্যে সাতটিতেই তারা প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি।

ক্লিনশিটের তালিকায় স্পেনের পরেই রয়েছে ফ্রান্স, কলম্বিয়া ও মেক্সিকো। এই তিন দলই চারটি করে ম্যাচে নিজেদের জাল অক্ষত রেখেছে।

অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ১২টি করে গোল হজম করেছে ইরাক, তিউনিসিয়া ও ইংল্যান্ড। উজবেকিস্তান ও নরওয়ে গোল খেয়েছে ১১টি করে।

সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে মার্টিনেজ

মাঠে সবচেয়ে বেশি সময় কাটানো খেলোয়াড়ও আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। পুরো আসরে তিনি খেলেছেন ৯৩৪ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড। তাঁর পরেই রয়েছেন সতীর্থ আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার।

স্পেনের মার্ক কুকুরেলা, পাউ কুবারসি ও উনাই সিমনও প্রায় সমান সময় মাঠে ছিলেন।

পাসিংয়ে রদ্রির আধিপত্য

বল দখল ও পাসিং ফুটবলেও আধিপত্য ছিল স্পেনের। গোল্ডেন বলজয়ী রদ্রি টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৭৯৯টি সফল পাস দিয়েছেন।

সেরা উদীয়মান ফুটবলারের পুরস্কারজয়ী পাউ কুবারসি সফলভাবে ৬৯০টি পাস সম্পন্ন করে এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন।

সব মিলিয়ে, প্রথমবারের ৪৮ দলের বিশ্বকাপ শুধু নতুন চ্যাম্পিয়নই উপহার দেয়নি, পরিসংখ্যানের দিক থেকেও হয়ে উঠেছে ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় আসর। গোল, রেকর্ড, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও দলীয় পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য রেখে গেল অসংখ্য নতুন ইতিহাস।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর