[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৪ঠা জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ফ্যাসিস্ট সোহাগের বিদায়ের রাগিনী!

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:০২ পিএম

এ বিষয়ে সংগঠক আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, ‘আমরা জেনেছি, জার্মানিতে নেওয়ার কথা বলে একটি গ্র“পের কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন সোহাগ। ওই গ্র“পটিই সুযোগ বুঝে সোহাগের ওপর চড়াও হয়েছিল। অথচ সংগঠকদের ওপর এই দায় চাপাতে চাইছেন তিনি।’

দেড় বছর ধরে দেশের জাতীয় খেলা কাবাডি ফেডারেশনে ‘ওয়ানম্যান শো’ দেখিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক এসএম নেওয়াজ সোহাগ। সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাবেক নির্বাহী পরিচালকের ছত্রছায়ায় নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রেখেছিলেন তিনি। অবশেষে মাটিতে নেমে আসতে বাধ্য হয়েছেন সোহাগ। কাবাডি থেকে তার বিদায়ের রাগিনী বেজে উঠেছে। শনিবার জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে মারধরের শিকার হন সোহাগ। জানা গেছে, বিদেশে আদম পাচারের কথা বলে অর্থ আÍসাৎ করায় এই আক্রমণের শিকার হন তিনি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ছেড়ে ভাগ্যের অন্বেষনে ২০১৭ সালে কাবাডিতে আসেন নেওয়াজ সোহাগ। অ্যাডটাচ নামের একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার মাধ্যমে তার আসা। ২০১৮ সালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের তৎকালীন পরমেশ্বর ডিআইজি হাবিবুর রহমানের নতুন কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদক হয়ে ফেডারেশনে ঢুকে পড়েন সোহাগ। বছরে আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটি নির্ধারিত দিবসে অনুদান দেওয়া এবং সামনে থেকে কাজ করতে দেখা যায় সোহাগকে। এছাড়া হাবিবুর রহমানের ছাত্রছায়ায় আওয়ামী লীগের একজন ডোনার হয়ে ওঠেন সোহাগ। কিন্তু ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাতারাতি ভোল পালটে ফেলেন তিনি।

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক আমিনুল ইসলামের আনুকূল্যে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হওয়া সত্ত্বেও কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পদে জায়গা পান সোহাগ। ওই দুই কর্মকর্তা নিজ এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় ক্রীড়াঙ্গনে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন তিনি। প্রকৃত খেলোয়াড় ও সংগঠকদের বাদ দেন কমিটি থেকে। নিজের পছন্দের রেফারিদের কাজ দিলেও বাকিদের ঢুকতে দিতেন না ফেডারেশনে। কাবাডিতে একপ্রকার রাম-রাজত্ব কায়েম করেন সোহাগ।

শুধু তাই নয়, খেলা ছাড়াও নানা বাণিজ্য শুরু করেন বলে সোহাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। শনিবার জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে সেই বাণিজ্যের শিকার একদল লোক সোহাগকে গালাগাল করে। অভিযোগে জানা যায়, জার্মানি নেওয়ার কথা বলে একটি গ্র“পের কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা অগ্রিম নেন সোহাগ। প্রতারিত হয়ে সেই গ্র“পটিই জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে তাকে মারতে উদ্যত হয়। পরে অন্যের গাড়িতে পালিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন সোহাগ। কিন্তু এই হামলার পেছনে দায়ী বলে কাবাডির সাবেক সংগঠকদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন সোহাগ।

এ বিষয়ে সংগঠক আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, ‘আমরা জেনেছি, জার্মানিতে নেওয়ার কথা বলে একটি গ্র“পের কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন সোহাগ। ওই গ্র“পটিই সুযোগ বুঝে সোহাগের ওপর চড়াও হয়েছিল। অথচ সংগঠকদের ওপর এই দায় চাপাতে চাইছেন তিনি।’ এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সোহাগ বলেন, ‘আমি কোনো আদম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। তাই কারও কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।’ প্রকৃত সংগঠকরা প্রত্যাশা করছেন, খুব শিগগিরই এই ফ্যাসিস্ট সোহাগের পতন ঘটাবেন নির্বাচিত সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সুদিনে ফিরবে কাবাডি অঙ্গনে।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর