এশিয়ান বীচ গেমসে ব্রোঞ্জ জিতে ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান বাংলাদেশের
চীনের সানিয়া শহরে অনুষ্ঠিত এশিয়ান বীচ গেমসের নারী কাবাডি ইভেন্টে সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে গেলেও দীর্ঘ ১৪ বছর পর পদক জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে ওঠার সুবাদে নিয়ম অনুযায়ী ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ২০১২ সালের পর এই আসরে কাবাডিতে এটিই বাংলাদেশের প্রথম পদক।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সানিয়ায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে শক্তিশালী ভারত দলের বিপক্ষে শুরু থেকেই লড়াইয়ের চেষ্টা করে বাংলাদেশের মেয়েরা। ম্যাচের প্রথমার্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় পিছিয়ে থাকলেও ব্যবধান নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয় দল। বিরতিতে যাওয়ার সময় স্কোর ছিল ২২-১৫, যা ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছিল বাংলাদেশের সামনে।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি দল। রক্ষণভাগে ছন্দ হারিয়ে ফেলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারতীয় রেইডাররা একের পর এক পয়েন্ট তুলতে থাকে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যবধানও বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ৫০-৩১ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে হেরে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয় বাংলাদেশের।
সেমিফাইনালে পরাজয় সত্ত্বেও পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। গ্রুপ পর্বে থাইল্যান্ড ও চাইনিজ তাইপেকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী সূচনা করে দলটি। তবে গ্রুপের শেষ ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ৩৮-৩৬ পয়েন্টে হেরে রানার্সআপ হয় বাংলাদেশ।
গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউট পর্বে পৌঁছানোর মাধ্যমেই নিশ্চিত হয়ে যায় পদক। সেই ধারাবাহিকতায় সেমিফাইনালে খেলেই ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্ট শেষে র্যাংকিংয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে দলটি।
এর আগে ২০১২ সালে চীনের হাইয়াংয়ে অনুষ্ঠিত আসরে সর্বশেষ ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিল বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল। এরপর দুই আসরে অংশ নিলেও কোনো পদক পায়নি তারা। এবার কাবাডি ইভেন্টে ফিরে এসে আবারও পদক জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাল বাংলাদেশের মেয়েরা।
দিনের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য সুখকর ছিল না। সকালে নেপালের বিপক্ষে গ্রুপ সেরা হওয়ার ম্যাচে হারতে হয় দলকে। পরে সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে একপেশে লড়াইয়ে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে দিন শেষ করে বাংলাদেশ। তবু সব মিলিয়ে ১৪ বছর পর আন্তর্জাতিক এই আসরে পদক পুনরুদ্ধার দেশের নারী ক্রীড়াঙ্গনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
একই দিনে অন্য ইভেন্টগুলোতেও বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। ছেলেদের পাঁচ কিলোমিটার সাঁতারে ফয়সাল আহমেদ ১ ঘণ্টা ৩ মিনিট ২৭.৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে ২৮ জনের মধ্যে ২৩তম হন। আর ছেলেদের হ্যান্ডবলে প্রিলিমিনারি রাউন্ডে ওমান ও মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচেই হেরে যায় বাংলাদেশ।
সব মিলিয়ে সেমিফাইনালে হারের আক্ষেপ থাকলেও ১৪ বছর পর পদক জয়ই এই মুহূর্তে বাংলাদেশের নারী কাবাডি দলের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: