[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৪ঠা জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

এশিয়ান শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপ

ব্রোঞ্জ জিতে ফটোশুট মানু ভাকেরের, অথচ বাংলাদেশ অংশই নেয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৯ আগষ্ট ২০২৫ ১৮:০৮ পিএম

এশিয়ান গেমসের পর বড় টুর্নামেন্ট ধরা হয় এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপকে। সেই হিসাবে ১৬ আগষ্ট থেকে কাজখস্তানের শিমকেন্টে শুরু হওয়া এশিয়ান শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপও ছিল শুটারদের জন্য বড় প্রতিযোগিতা। যেখানে ভারত অংশ নিয়ে ইতোমধ্যে ব্রোঞ্জ জিতেছে। সেখানে অংশই নেয়নি বাংলাদেশ। হায়, কি দশা দেশের শুটিংয়ের।

এশিয়ান শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তল ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতেছেন মানু ভাকের। এটা হচ্ছে ভারতের নবম পদক। একই ইভেন্টে পদক জিততে পারেননি ভারতের সুরুচি সিং ও পলক। তাঁরা ফাইনালে প্রবেশ করতে পারেননি। অলিম্পিকে জোড়া পদকের পর এই দ্বিতীয়বার মানু পদক জিতলেন। অন্যদিকে মানু ভাকের, সুরুচি সিং ও পলক মেয়েদের টিম ইভেন্টে তৃতীয় স্থানে শেষ করে। ১৭৩০ পয়েন্ট পায় তারা।

 

মানুর ইভেন্টে সোনা জেতেন চিনের কুইয়াঙ্ক মা, তাঁর স্কোর ২৪৩.২। রুপা জেতেন কোরিয়ার জিন ইয়াং, তিনি পান ২৪১.৬ পয়েন্ট।

 

অলিম্পিকে সাফল্যের পর থেকে মানু ভাকের ফর্মে রয়েছেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মানু লিমা লেগে ১০ মিটার এয়ার পিস্তল ইভেন্টে রুপা জিতেছিলেন। তবে তিনি মিউনিখ বিশ্বকাপে পোডিয়াম ফিনিশ করতে পারেননি। ২৫ মিটার পিস্তল ইভেন্টে ষষ্ঠ স্থানে শেষ করেছিলেন।

 

ভারতের পুরুষ দল ১০ মিটার এয়ার পিস্তল ইভেন্টে রুপা জেতে। এই দলে ছিলেন আনমোল জৈন (৫৮০), আদিত্য মালরা (৫৭৯) ও এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী সৌরভ চৌধুরী (৫৭৬)। এদের মধ্যে আনমোল ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক জিততে পারেননি।

 

পুরুষদের ব্যক্তিগত ১০ মিটার এয়ার পিস্তল ইভেন্টে আনমোল ফাইনালে সপ্তম স্থানে শেষ করেন। বাকি দুই শ্যুটার আদিত্য ও সৌরভ যথাক্রমে ১৩ ও ২১ তম স্থানে শেষ করেন।

 

সিনিয়র, জুনিয়র ও ইয়ুথ ক্যাটিগরিতে ভারত ১৮২ জন শুটারকে নামিয়েছিল। এটা এশিয়ান শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের সবচেয়ে বড় টিম ছিল। মোট ৫৮ ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেন ভারতীয় শুটাররা। যারমধ্যে ৪৬টা ব্যক্তিগত বিভাগ, ১২টা মিক্সড টিম বিভাগ ছিল। সিনিয়র দল জেতে ছয়টা সোনা ও পাঁচটা ব্রোঞ্জ।


ভারতের এই পদক জয়ের খবর পরে হতাশ হতে হবে বাংলাদেশকে। আগে এশিয়ান শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপের ফি বার অংশ নিলেও এবার এই টুর্নামেন্টে অংশই নিতে পারেননি লাল সবুজের শুটাররা। নতুন কমিটি, গুলি নেই, রাইফেল নেই, অর্থ সংকট- এসব নেই নেইয়ের মধ্যেই একটা বছর কেটে গেছে দেশের শুটারদের। ফলে শংকা জেগেছে আগামী সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমস ও এশিয়ান গেমস নিয়ে। পদক হারানোর শংকায় থাকতে হবে আগামী বছর অনুষ্ঠেয় গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসেও। যেখান থেকে এ পর্যন্ত পাঁচটি পদক এসেছে বাংলাদেশের।

১৯৯০ সালে অকল্যান্ড কমনওয়েলথ গেমসে ১০ মিটার এয়ার পিস্তল দলগতে আবদুস সাত্তার ও আতিকুর রহমান স্বর্ণ ও ৫০ ফ্রি পিস্তল পেয়ারে এই দুজন ব্রোঞ্জ জেতেন। ২০০২ সালে ম্যানচেষ্টার কমনওয়েলথ গেমসে দেশকে স্বর্ণ পদক এনে দেন আসিফ হোসেন খান। ২০১৪ গ্লাসগো কমওনয়েলথ গেমসে আবদুল্লাহেল বাকী, চার বছর পর গোল্ডকোস্ট কমওনয়েলথ গেমসে সেই বাকী ও শাকিল আহমেদ দুটি রুপা এনে দেন।

এ বিষয়ে সাবেক স্বর্ণজয়ী শুটার ও ফেডারেশনের সাবেক কোচ শারমিন আক্তার রতœা বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য খুবই হতাশাজনক খবর যে, আমরা এবার এশিয়ান শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নিতে পারিনি। অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অংশই নিতে পারিনি আমরা। দেশের শুটিং এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে কোন গেমসেই আর আমরা পদকের মুখ দেখতে পাব না। ব্রাত্য হয়ে যাব আমরা।’

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর