জাতীয় সুইমিংয়ে সামিউলের একদিন
জাতীয় সাঁতারে রেকর্ড ভাঙ্গা গড়ায় মেতে উঠেছেন নৌবাহিনীর তরুণ সাঁতারু রাফিউল ইসলাম। দিনজুড়ে অনুষ্ঠিত ১৩টি ইভেন্টের মধ্যে রাফি অংশ নেন চারটিতে, আর প্রতিটিতেই সোনা জয়ের পাশাপাশি গড়েন নতুন জাতীয় রেকর্ড।
জাতীয় সাঁতারে রেকর্ড ভাঙ্গা গড়ায় মেতে উঠেছেন নৌবাহিনীর তরুণ সাঁতারু রাফিউল ইসলাম। দিনজুড়ে অনুষ্ঠিত ১৩টি ইভেন্টের মধ্যে রাফি অংশ নেন চারটিতে, আর প্রতিটিতেই সোনা জয়ের পাশাপাশি গড়েন নতুন জাতীয় রেকর্ড। এর মধ্যে দুটি রেকর্ড ছিল তার নিজেরই পুরনো সময় ভেঙে দেওয়া। পুলে নামা মানেই যেন স্বর্ণের নিশ্চয়তা— রাফির ক্ষেত্রে কথাটা আক্ষরিক অর্থেই সত্যি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
“আজকে নিজের দুইটা রেকর্ড ভেঙেছি, দলগত মিলিয়ে মোট পাঁচটা রেকর্ড করেছি— যার মধ্যে চারটা ব্যক্তিগত,” প্রতিযোগিতা শেষে হাসিমুখে বললেন রাফি। “প্রথম দিনেও দুইটা রেকর্ড করেছিলাম, একটা দলগত আরেকটা ব্যক্তিগত।”
এই আসরে তার সামনে ছিল বাড়তি চ্যালেঞ্জ। নতুন কোচ, নতুন অনুশীলন পদ্ধতি— সবকিছু যেন তাকে আরও তীক্ষ্ণ করে তুলেছে।
“আগে গোল্ড জিতেছি খুব সহজে, কিন্তু রেকর্ড গড়িনি,” বললেন রাফি। “এবার নতুন বিদেশি কোচ সাঈদ ম্যাকডির অধীনে অনুশীলন করছি। উনি অনেক কষ্ট করিয়েছেন, তাই ফলও এসেছে। আমার মনে হয়, আমি যে ইভেন্টেই নেমেছি, তাতেই রেকর্ড হয়েছে। এখন লক্ষ্য সাফ গেমসে পদক।”
দেশের মাটিতে নিজেকে বারবার সেরা প্রমাণ করলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাফি এখনো পুরোপুরি ছাপ ফেলতে পারেননি। তবু ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে ওয়াইল্ড কার্ডে অংশ নেওয়াই ছিল তার জীবনের এক বড় অর্জন। যদিও সেখানে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি, কিন্তু সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ওপেনে ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে স্বর্ণ জিতে সেই আক্ষেপ কিছুটা ঘুচেছে।
“মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, থাইল্যান্ড, ডেনমার্ক, রাশিয়ার সাঁতারুরা ছিল,” জানালেন রাফি। “ওই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে স্বর্ণ জেতা— এটা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
সময় কমিয়ে আনার দিক থেকেও নিজেকে ছাপিয়ে যাচ্ছেন তিনি। “২০২২ সালে আমার ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকের টাইম ছিল ০০.২৮, এখন সেটা নামিয়ে এনেছি ০০.২৫-এ,” জানালেন আত্মবিশ্বাসী রাফি। “সাফ গেমসে ভারতের সেরা সাঁতারুর টাইমও ২৫ সেকেন্ড। এখন আমরা প্রায় সমানে সমান। একটু অনুশীলন বাড়াতে পারলে ব্যবধানটা ঘুচবে।”
তবে এই সাফল্যের মাঝেও রাফির কণ্ঠে ঝরে পড়ল এক গভীর আক্ষেপ— বাংলাদেশের সাঁতারে এখনো ইলেকট্রিক টাইমিংয়ের ব্যবহার নেই। “বিদেশে সব জায়গায় ইলেকট্রিক টাইমিং হয়,” বললেন তিনি। “ওটা শুধু নির্ভুল সময়ই দেয় না, বরং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও বাড়ায়। হ্যান্ড টাইমিংয়ে করা রেকর্ডগুলো অনেক সময় স্বীকৃতি পায় না। ফলে স্কলারশিপের সুযোগ হারাতে হয় আমাদের মতো অনেক সাঁতারুকে।”
দিন শেষে হিসেবটা বলছে, রাফির হাত ধরেই সাঁতারে উঠেছে এক নতুন সূর্য। দ্বিতীয় দিনে তিনটি নতুন জাতীয় রেকর্ডসহ পুরো আসরে এখন পর্যন্ত ১২টি ইভেন্টে নতুন জাতীয় রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
দ্বিতীয় দিনের শেষে পদক তালিকায় শীর্ষে নৌবাহিনী— ২০টি স্বর্ণ, ১৩টি রৌপ্য ও ৭টি ব্রোঞ্জ তাদের ঝুলিতে। সেনাবাহিনী পেয়েছে ৫ স্বর্ণ, ১১ রৌপ্য ও ১৭ ব্রোঞ্জ; বিকেএসপি আছে ২ স্বর্ণ, ৩ রৌপ্য ও ৩ ব্রোঞ্জ নিয়ে।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: