জাতীয় স্টেডিয়াম নিয়ে রশি টানাটানি ফুটবল-আরচারির
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও চাইছেন এই ম্যাঠে ফুটবল আয়োজন করতে। তাইতো আরচারি ফেডারেশনকে বিকল্প ভাবার কথা বলেছেন তিনি। শনিবার জাতীয় স্টেডিয়ামে কুটনৈতিকদের সঙ্গে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনি আরচারিকে বিকল্প হিসেবে কমলাপুর স্টেডিয়াম ও আর্মি স্টেডিয়ামের প্রস্তাব দেন।
প্রায় ৩১ দেশের এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়শিপের খেলা ৮ নভেম্বর থেকে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হওয়ার কথা। দেশি বিদেশি প্রায় চারশ’ আরচারের এই প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার কথা ১৪ নভেম্বর। মাস তিনেক আগেই এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছ থেকে জাতীয় স্টেডিয়াম বরাদ্দও নিয়েছিল ফেডারেশন। এর চারদিন পরেই এই ভেন্যুতে ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে হোম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। তবে তার আগে ১৩ই নভেম্বর আরচারির টুর্নামেন্টের মধ্যেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজন করতে চায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও চাইছেন এই ম্যাঠে ফুটবল আয়োজন করতে। তাইতো আরচারি ফেডারেশনকে বিকল্প ভাবার কথা বলেছেন তিনি। শনিবার জাতীয় স্টেডিয়ামে কুটনৈতিকদের সঙ্গে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনি আরচারিকে বিকল্প হিসেবে কমলাপুর স্টেডিয়াম ও আর্মি স্টেডিয়ামের প্রস্তাব দেন।
তবে জাতীয় স্টেডিয়ামেই এই আয়োজন করতে চায় আরচারি ফেডারেশন। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ বলেন, ‘এশিয়ান আরচারি ফেডারেশন থেকে আমাদের এই ভেন্যু ইতোমধ্যে স্বীকৃতি। এই ভেন্যুকে কেন্দ্র করেই আমরা আবাসন, নিরাপত্তা ও অন্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছি। বাফুফে যদি আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ম্যাচ আয়োজন করতে পারে করবে। কিন্তু আমাদের এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপের সময়সূচি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।’
উপদেষ্টার কথা প্রেক্ষিতে আরচারি ফেডারেশনের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘যদি কমলাপুর কিংবা আর্মি স্টেডিয়ামে আসরটি সরিযে নিতে হয় সেক্ষেত্রে ওয়ার্ল্ড আরচারির অনুমতি নিতে হবে। যা এতো অল্প সময়ে সম্ভব নয়। তাছাড়া কমলাপুর স্টেডিয়ামের যে পরিবেশ তাতে ওয়ার্ল্ড আরচারি পরিদর্শনে গেলে অনুমতিই মিলবে না। আর আর্মি স্টেডিয়ামে চারশ অ্যাথলেটের সংকুলন হবে না।’
সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজনটি করতে না পারলে ভবিষ্যৎে আন্তর্জতাতিক আসর আয়োজননের অনুমতি নাও পেতে পারে বাংলাদেশ। বিষয়টি জানিয়ে আরচারি ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজিব উদ্দিন আহমেদ চপল বলেন,‘ যেহেতু ভোটাভুটিতে চীনকে হারিয়ে আমরা এশিয়ান আরচারি আয়োজক হয়েছি। সেখানে আয়োজনটি এখানে করতে না পারলে দেশের সম্মানের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের অবস্থানও নড়বড়ে হবে। তাই আমাদেও বিশেষ অনুরোধ অন্তত ১২ নভেম্বর সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ভেন্যুটি আমাদের দেয়া হয়। যাতে আমরা অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত এই ভেন্যুতে করতে পারি। পরে আন্তর্জাতিক নিয়ম মোতাবেক সেমিফাইনাল ও ফাইনাল অন্য ভেন্যুতে আয়োজন করবো।’
এবার এশিয়ান আরচারির সভাপতি পদে লড়ছেন কাজী রাজিব উদ্দিন আহমেদ চপল। ভেন্যু জটিলতায় যদি এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপ এখান থেকে সরে যায় তাহলে কংগ্রেস ও নির্বাচনও বাংলাদেশ থেকে অনত্র চলে যাবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সভাপতি হওয়ার সুযোগও হাতছাড়া হয়ে যাবে।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: