[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পদক জিতে ফিলিস্তিনে পতাকা উড়াতে চাই: রাশা ইয়াহিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:১১ পিএম

বাংলাদেশের জনগণের এই অকুন্ঠ সমর্থনের কথা জানেন রাশা। প্রথমবার বাংলাদেশে এসে ভীষণ মুগ্ধ তিনি, ‘এই প্রথম বাংলাদেশে এসেছি এবং বিমানবন্দর থেকে শুরু করে এখানকার সবাই ভীষণ আন্তরিকতা নিয়ে আমাদের স্বাগত জানিয়েছে। এমনকি, বিমানবন্দর থেকে হোটেলে আসা পর্যন্ত সবাই ছিল ভীষণ আন্তরিক। সবাই খুশি এবং সবাই আমাদের স্বাগত জানাচ্ছেন, সহযোগিতা করছেন।’


চোখে রোদ চশমা। মাথায় কালো হিজাবের উপর সাদা হ্যাট। পেছনের তির রাখা ব্যাগের সঙ্গে লাগানো ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা। অনুশীলনে যেন অন্য রকম আভা ছড়াচ্ছিল রাশা ইয়াহিয়া আহমেদের চেহারায়। তবে একটি দুখি দুখি ভাবও ছিল। যা সবার জানা। ফিলিস্তিনে দখলদার ইসরাইলের ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র যেন চেহারায় ফুটে উঠছিল এশিয়ান আরচারিতে খেলতে আসা এই আরচারের। তারপরও বৃহস্পতিবার সকালে পল্টনের আউটার স্টেডিয়ামে গভীর মনোযোগে অনুশীলন করছিলেন ফিলিস্তিনের এই আর্চার। ৮-১৪ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপ। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে কোনও আন্তর্জাতিক আরচারি প্রতিযোগিতায় খেলতে এসেছেন ফিলিস্তিনের আরচার।


বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার ফিলিস্তিনিদের মুক্তিসংগ্রামের একনিষ্ঠ সমর্থক। ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন বাংলাদেশের জনগণ। অনেকে ইসরায়েল ও গাজা যুদ্ধকে সমর্থন করে-এমন প্রতিষ্ঠানের পণ্য বর্জন করছেন। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের জনগণের এই অকুন্ঠ সমর্থনের কথা জানেন রাশা। প্রথমবার বাংলাদেশে এসে ভীষণ মুগ্ধ তিনি, ‘এই প্রথম বাংলাদেশে এসেছি এবং বিমানবন্দর থেকে শুরু করে এখানকার সবাই ভীষণ আন্তরিকতা নিয়ে আমাদের স্বাগত জানিয়েছে। এমনকি, বিমানবন্দর থেকে হোটেলে আসা পর্যন্ত সবাই ছিল ভীষণ আন্তরিক। সবাই খুশি এবং সবাই আমাদের স্বাগত জানাচ্ছেন, সহযোগিতা করছেন।’


গাজায় জন্ম হলেও রাশা পড়াশোনা করেছেন ওমানে। মাসকটের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তোর ডিগ্রি নিয়েছেন। বর্তমানে আরব আমিরাতে একটি প্রতিষ্ঠানের স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসিসটেন্ট ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত আছেন। মাত্র বছর তিনেক আগে আর্চারিতে হাতে খড়ি রাশার। নিজের ক্যারিয়ার নিয়েও ভীষণ উচ্ছ্বসিত, ‘তিন বছর আগে থেকে আমি আরচারি শুরু করেছি। এখানে আসার আগে আমি অনেক আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশ নিয়েছি। দক্ষিণ কোরিয়া, কাতারসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি, যেগুলো ছিল খুবই উচুঁ পর্যায়ের আয়োজন। তারা আমাদের সবধনের সহযোগিতা করেছে, এমনকি সবকিছু দিয়েছে, এত গোছালো যে কোনো কিছু চাওয়ার দরকার পড়েনি। যথাসময়ে যানবাহন এসেছে, অনুশীলনের সুবিধা মিলছে, মাঠ মিলছে, এখানকার প্রস্তুতি খুবই সুন্দর, সবকিছুই আন্তর্জাতিক মানের।’
রাশা নারী রিকার্ভ এককে অংশ নেবেন। এই দলের বাকি তিন পুরুষ সদস্য আলী আলাহামাদ খালেদ, আওয়াদ সামি ও বাদওয়ান ওসায়েদ খেলবেন কম্পাউন্ড ইভেন্টে। ঢাকায় পদক জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে ফিলিস্তিন। সবার হয়ে রাশা সেটাই বললেন, ‘এখানে আমরা একটা দল হয়ে এসেছি। আমাদের আকাঙ্খা শুধু এখানে আসা নয়, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নয়, এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। ভালো পারফর্ম করা। এবং লড়াই করে সেরাদের পেছনে ফেলার লক্ষ্য নিয়েই আমরা এসেছি।’


দেশের বাইরে অবস্থান করলেও প্রিয় মাতৃভূমির জন্য সব সময় মন কাঁদে রাশার, ‘গাজা আমার শহর। সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি ভালো নয়, তারপরও আমরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি, পতাকা উঁচিয়ে ধরি, তখন আমরা ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিত্ব করি। এজন্য আমাদেরকে সবাই সাধুবাদ জানাই।’ তিনি যোগ করেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি ফিলিস্তিনে বাস করি না। ফিলিস্তিনের বাইরে থাকি। তাই সেখানে আমার প্রস্তুতি নেওয়ার কিছু সুযোগ আছে। নিজেকে প্রস্তুত করতে পারি টুর্নামেন্টগুলোর জন্য। তবে ফিলিস্তিন ফেডারেশন সবসময় আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে, এই দুরবস্থার মধ্যেও আমাদেরকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করে।’
মাঠে ও মাঠের বাইরে ফিলিস্তিনের জনগণের মতোই লড়াই করেন রাশা। তিনি বলেন, ‘আপনি নিজের দেশে প্রস্তুতি নিতে পারছে না, কিন্তু দেশের হয়ে খেলছেন। এই আবেগ অনেক বড় বিষয়। আমাদের জন্য এটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এবং এটা আমার জন্য আসলেই খুই আবেগের মহূর্ত যখন আমি এই ইউনিফর্মটা পরি, যখন তীর-ধনুক নিয়ে এই পতাকাটা বহন করি দেশের বাইরে- এটার অর্থ আমার কাছে অনেক কিছু। এটা সবসময় আমার সঙ্গে থাকে। একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে আমি খেলাটা উপভোগ করি, কিন্তু ফিলিস্তিনকে প্রতিনিধিত্ব করার অনুভূতি কোনোভাবে পরিমাপ করা সম্ভব নয়।’


বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন ও ভালোবাসায় আপ্লুত রাশা বলেন, ‘একটা বিষয় বলতে ভালো লাগবে, একজন ফিলিস্তিনি হিসেবে আমরা জানি এবং অনুভব করছি বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন। যখন এখানে এসেছি, আমি অনুভব করতে পারছি, সবাই আমাদেরকে নিজেদের করে নিয়েছে। এমনকি যারা বাইরের মানুষ, তারাও আসছে, আমাদের সমর্থন করছে। এটা আমাদেরকে আপ্লুত করছে এবং আশা করি, একদিন ইনশাল্লাহ আমরা বাংলাদেশের মানুষকে ফিলিস্তিনে স্বাগত জানাব, সেখানে মিলিত হব।’

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর