এশিয়ান আরচারির প্রেসিডেন্ট চপল
ওয়ার্ল্ড আরচারি এশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল। ২৯-৯ ভোটের ব্যবধানে তিনি হারিয়েছেন টানা পাঁচবারের এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট দক্ষিণ কোরিয়ার থমাস হানকে।
আজ থেকে ঢাকায় শুরু হয়েছে এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপ। দুপুরের পর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে হয় এশিয়ান আরচারির কংগ্রেস ও নির্বাচন। ভোট গ্রহণ শুরু হয় বেলা তিনটা ১৫ মিনিট থেকে। শেষ হয় বিকেল ৪টায়। ওই নির্বাচনেই ২০০৫ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার ধনকুবের হুন্দাই মোটর গ্রুপের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ও সিইও থমাস হানকে বিশাল ব্যবধানে হারান বাংলাদেশ আরচারির প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক চপল।
বাংলাদেশের আরচারির প্রতিষ্ঠাতা কাজী রাজীব উদ্দীন চপল সংগঠক হিসেবে অভিজ্ঞ। বর্তমানে ওয়ার্ল্ড আরচারির ইলেকটোরাল বোর্ডের সদস্য, ওয়ার্ল্ড আচারি এশিয়ার সহ-সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। এশিয়ান আরচারির এবারের আসরের লোকাল অর্গানাইজিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল।
বায়োগ্রাফি
১৯৬৩ সালের ২০ আগস্ট আরামবাগে জন্ম নেওয়া কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপলের লেখালেখির অভ্যেসটা সেই বাল্যকাল থেকে। মতিঝিল আইডিয়াল হাইস্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র যখন, তখন মহল্লার দেয়াল পত্রিকায় ছড়া-কবিতা লিখে পেতেন আনন্দ। স্কুলের দেয়াল পত্রিকা ‘জাগৃতি’-তে নিয়মিত লেখা থাকত তার। উৎসাহী ক’বন্ধু মিলে গড়ে তুলেছিলেন ‘দন্ত্য স’ নামের একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান । আশির দশকে বইমেলায় ‘দন্ত্য স'-এর স্টলও দিয়েছিলেন তাঁরা। বাংলাদেশের খ্যাতনামা কবি শামসুর রাহমানের কবিতা সমগ্র ‘এক ফোঁটা কেমন অনল' পর্যন্ত প্রকাশ করেছে ‘দন্ত্য স'। পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে পারিবারিক প্রসাধনী শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মময় জীবন শুরু করলেও লেখালেখি-লেখা সম্পাদনা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারেন নি। খো-খো, আর্চারি ফেডারেশনের নির্বাহী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের মিডিয়া কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব অর্পিত হওয়ায় ম্যাগাজিন প্রকাশে সম্পাদকের ভূমিকাটা নিতে হয়েছে তাঁকে। দারুণ মলাট, দারুণ প্রচ্ছদ, দারুণ সব লেখা-ছবির ব্যবহারে মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন সব সময়। স্ত্রী এবং দুই সন্তান নিয়ে এখন বেশ ভালোই কাটছে কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপলের দিনকাল । স্ত্রী অধ্যাপক ডাক্তার ইসমত আরা হায়দার স্বনামধন্য চিকিৎসক । বড় ছেলে কাজী রাফিদ ইবনে রাজীব উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে পারিবারিক শিল্প প্রতিষ্ঠান দেখাশোনা করছেন। ছোট ছেলে কাজী আলিফ ওয়াহেদ একটি খ্যাতনামা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্র ।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: