ক্রিকেটার নাসুম আহম্মেদ: প্রতিভা আর জীবন সংগ্রামের মূর্ত প্রতিক...
সমাজের সুবিধাবঞ্চিত সমাজ থেকে উঠে আসা নাসুমই আজ বিশ্বমঞ্চে সেরা হয়েছেন। এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ী ম্যাচে সেরা নির্বাচিত হয়েচেন।
বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের অন্যতম একজন ক্রিকেটার নাসুম আহম্মেদ। নাসুম প্রতিভা আর জীবন সংগ্রামের এক সফল খেলোয়াড়ের মূর্ত প্রতিক। সে সমাজের বঞ্চিত জনগোষ্ঠী থেকে উঠে আসা সকল সংগ্রামী মানেষের কাছে একজন সফল মানুষ বিশেষ করে সফল খেলোয়াড়ের একটা উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বাঁহাতি স্পিনার নাসুমের জন্ম ৫ ডিসেম্বর ১৯৯৪ সালে সিলেটের জালাবাবাদ আবাসিক এলাকায়। তার পৈত্রিক নিবাস সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিরনের মর্দাপুর গ্রামে হলেও জন্ম থেকে বেড়ে উঠা এমন কি ক্রিকেটার হওয়া সব কিছুই সিলেটকে ঘিরে।
সে হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান হলেও একটি সুন্দর পারিবারিক সম্পর্ক ও পরিবেশে বড় হয়েছে। বাবার আক্কাস আলী অক্লান্ত পরিশ্রম করে, কখনো রিকশা চালিয়ে, কখনো সবজি বিক্রি করে আবার কখনো রঙের কাজ করে ছেলেকে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার সুযোগ করে দিয়ে জাতীয় দলে পৌঁছে দিয়েছেন। নাসুম তার অক্লান্ত পরিশ্রম, অদম্য ইচ্ছে শক্তি আর প্রবল মেধার জোরে নিজের একটা অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। সে একজন সফল মানুষের উদাহরণ।
তাদের পরিবারের স্বাভাবিক সম্পর্কে টানাপোড়ন শুরু হয় ২০২০ সালে নাসুম আহম্মেদের মার মৃত্যুর পর। তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ের পর সিলেট নগরীর একটা হাউজিং এস্টেটে আট হাজার টাকা বেতনের নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করে পৃথকভাবে বসবাস শুরু করেন। স্বাভাবিক ভাবেই তিনি প্রথম পক্ষের সন্তানের দিকে নজর দিতে পারেন নি। তারপর এক সময় থেকে নাসুর স্ত্রীসহ থাকে ঢাকায় থাকা শুরু করে। তবে সে তার একমাত্র বোনকে নিজের কাছে রেখে দেখাশোনাসহ দায়দায়িত্ব পালন করেছে।কেহ কেহ বাবা-ছেলের এই ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করলেও বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি খুবই স্বাভাবিকই বটে। এতে আক্কাস আলী সাহেবের কোনো আক্ষেপও নেই। তিনি বলেন, "আমি একজন বাবা হিসেবে শুধু চাই নাসুম বড় কিছু হোক। নিজের জন্য আলাদা কিছু চাইনি, চাই না।" তবে নাসুম আহম্মেদ সংসার চালানোর জন্যে বাবাকে প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট টাকা দিয়ে থাকে।
ক্রিকেটার নাসুম আহম্মেদের জীবনের গল্পটা এই ভাবে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্য হ'ল, আমাদের দেশের হাজার হাজার প্রতিভাধর বঞ্চিত তরুন-তরনীদের বিশেষ করে স্কোয়াশসহ অন্যান্য খেলোয়াড়দের সামনে অক্লান্ত পরিশ্রম আর চেষ্টা করে সফলতার একটা উদাহরণ তুলে ধরা। আমি নিশ্চিত সুযোগ আর সহযোগিতা পেলে আমাদের সমাজের সাধারণ শ্রেনী থেকে হাজার হাজার নাসুম আহম্মেদের জন্ম হবে এবং বাংলাদেশ বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্রীড়া জগৎকে বিশ্বে সন্মানের সাথে তুলে ধরতে পারবে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জিএম কামরুল ইসলাম
সাধারন সম্পাদক
বাংলাদেশ স্কোয়াশ র্যাকেটস ফেডারেশন
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: