পারল না বাংলাদেশ, এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তান
হাত ছোঁয়া দূরত্বেই ছিল এশিয়া কাপের স্বপ্নের ফাইনাল। লক্ষ্যটাও খুব বেশি ছিল না। মাত্র ১৩৬ রানের। কিন্তু সেটাও পারল না বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে এশিয়া কাপের ফাইনালে তুলে দিল। আগামী রোববার দুবাইয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে লড়বে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি পাকিস্তান ও ভারত। । এক আসরে তৃতীয়বারের মতো মুখোমুখি হবে এই দুই পড়শী দেশ।
দুবাইয়ের উইকেটে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণের সামনে কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও হাতের নাগালেই ছিল বলা চলে। শুধু দেখেশুনে খেললেই জয় সুনিশ্চিত ছিল। এমন ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটাররা যেন দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ে কে কাকে ছাড়াবেন সে প্রতিযোগিতায় নামলেন।
উইকেট হারানোর মিছিলে শেষ দিকে সবার ভরসা ছিল শামীমকে নিয়ে। অথচ শাহিন আফ্রিদির করা বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে হুসেইন তালাতকে ক্যাচিং প্র্যাকটিস করালেন এই ব্যাটার। এরপরই কার্যত সব আশা শেষ হয়ে যায়। যদিও শেষ ওভারে রিশাদ কিছুটা ঝলক দেখিয়েছেন। তবে সেটিও তার সতীর্থ ব্যাটারদের ব্যর্থতা ঢাকতে যথেষ্ট হলো না।
পাকিস্তানের ছুঁড়ে দেওয়া ১৩৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ইনিংস থেমেছে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২৪ রানে।
এর আগে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নেমে দুবাইয়ের উইকেটে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে থামিয়েছে ১৩৫ রানে।
ডবশ্রাম কাটিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে দলে ফিরেই প্রথম ওভারে আঘাত হানেন তাসকিন। ইনফর্ম শাহেবজাদা ফারহানকে ফিরিয়ে দেন ৪ রানে। পরের ওভারেই সাইম আয়ুবকে মিড-অনে ক্যাচ করান মেহেদী। এশিয়া কাপে এটি তার ছয় ইনিংসে চতুর্থ ডাক। মোট ৪৫ টি-টোয়েন্টি ইনিংসে এ তার নবম ডাক- পাকিস্তানের হয়ে ফরম্যাটে কেবল উমরান আকমলই বেশি ডাক (১০) পেয়েছেন।
পাওয়ারপ্লেতে প্রান্ত আগলে ছিলেন ফখর জামান। ১৮ বলে করেন মাত্র ১২ রান। কিন্তু সপ্তম ওভারেই রিশাদের বলে ওয়াইড লং-অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২০ বলে ১৩ রানে। নিজের পরের ওভারেই রিশাদ গুগলি ছুড়ে সাজঘরে ফেরান হুসাইন তালাতকে। নবম ওভারে পাকিস্তানের স্কোর তখন ৩৩/৪। ধুঁকতে থাকা দলটি ৪৯ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে আরও বিপদে পড়ে! মোস্তাফিজের বলে ফেরেন সালমান (১৯)।
তার পর দুটি ক্যাচ নেওয়ার পর বল হাতে জ্বলে ওঠেন রিশাদ। ১২তম ওভারে দু’বার সুযোগ মিস হলেও শাহীন আফ্রিদিকে ফেরাতে পারেননি। ১৩তম ওভারে ইনিংসের প্রথম ছক্কা হাঁকান আফ্রিদি। পরের ওভারে আরেকটি মারার পর তাসকিনের ফুলটস খেলতে গিয়ে ধরা পড়েন কিপারের হাতে।
৭১ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর স্কোরটা হয়তো বেশিদূর যেত না কিন্তু শেষ দিকে ক্যামিও ইনিংস খেলেন মোহাম্মদ হারিস (২৩ বলে ৩১) ও মোহাম্মদ নওয়াজ (১৫ বলে ২৫)। ৩৮ রান যোগ করেন তারা। তাদের বিদায়ের পর শেষ ওভারে ১১ রান তুলেই পাকিস্তান পার হয় ১৩০।
তাসকিন ২৮ রানে নেন ৩ উইকেট। ১৮ রানে দুটি নেন রিশাদ হোসেন। ২৮ রানে দুটি নেন মেহেদী হাসানও। ৩৩ রানে একটি নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৩৫/৮ (রউফ ৩*, ফাহিম ১৪*; ফারহান ৪, সাইম ০, ফখর ১৩, হুসেইন ৩, সালমান ১৯, শাহীন ১৯, হারিস ৩১, মোহাম্মদ নওয়াজ ২৫)
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১২৪/৯ ( মোস্তাফিজ ৬*, রিশাদ ১৬* ; পারভেজ ০, হৃদয় ৫, সাইফ ১৮, মেহেদী ১১, সোহান ১৬, জাকের ৫, শামীম ৩০, তানজিম ১০, তাসকিন ৪)
ফল: পাকিস্তান ১১ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শাহীন শাহ আফ্রিদি।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: