[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৪ঠা জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সালমান-নকভীদের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেছিলেন সূর্যকুমার, ভারতে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:০৯ পিএম

পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগাও দাবি করেছেন, মাঠের বাইরে অন্তত দু’বার তার সঙ্গে সূর্যকুমার করমর্দন করেছেন। ফাইনাল শেষে সংবাদ সম্মেলনে সালমান আগা জানান, সূর্য তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে করমর্দন করেছিলেন। কিন্তু যখনই ক্যামেরার সামনে এসেছিলেন, তখন আর হাত মেলাননি। তিনি মনে করছেন, সূর্যকুমার কেবল নির্দেশনামতো কাজ করেছেন।

 

সদ্য শেষ হওয়া এশিয়া কাপে তিনবার মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান। মহাদেশীয় আসরে গ্রুপ পর্ব, সুপার ফোরের পর ফাইনাল- তিন ম্যাচেই জয় পেলেও টস এবং ম্যাচের পর পাকিস্তানিদের সঙ্গে করমর্দন করেননি ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও অন্য ক্রিকেটাররা।

সর্বশেষ ফাইনালের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানান ভারতীয় ক্রিকেটাররা । এ নিয়ে তৈরি হয় চরম নাটকীয়তা। শেষ পর্যন্ত ভারতের ক্রিকেটাররা কল্পিত ট্রফি কল্পনা করে বিজয় উদযাপন করেন।

গত এপ্রিলে কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ভারতের ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এটা নিয়ে পরে দুই দেশ যুদ্ধে জড়িয়েছিল; ভারত আক্রমণ করে অপারেশন সিন্দুর নামে, পাকিস্তান হামলার নাম দেয় বুনিয়ানুম মারসুস। এরপর ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ।

ওই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক বিরোধই এশিয়া কাপে টেনে এনেছেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটের মাঠেও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের অগ্নি বাতাস বইয়ে দিয়েছেন সূর্যকুমার যাদবরা। ভারত পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানায়, শেষ পর্যন্ত মেলায়ওনি।


তবে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতের জয় ছাপিয়ে গেছে রাজনৈতিক বিতর্ক। এই বিতর্কে যোগ দিয়েছে ভারতের বিরোধী দলগুলোও। তারা ভারতীয় ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ এনে অধিনায়ক সূর্যকুমারকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন।

শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা ও সংসদ সদস্য সঞ্জয় রাউত ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে কটাক্ষ করে বলেন, তার আচরণে দ্বিচারিতা স্পষ্ট। রাউত একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যাদবকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রধান মহসিন নাকভির সঙ্গে করমর্দন ও ছবি তুলতে দেখা গেছে।

রাউতের অভিযোগ, ‘১৫ দিন আগে তিনি পাকিস্তানের মন্ত্রীর (মহসিন নাকভি) সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, ‘ছবি তুলেছেন। এখন দেশবাসীর সামনে দেশপ্রেমের নাটক দেখানো হচ্ছে। যদি সত্যিই দেশপ্রেম থাকত, তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামাই উচিত ছিল না।’

ফাইনালের আগের দিনও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজন নিয়ে কড়া আপত্তি জানিয়েছিলেন রাউত। তার ভাষায়, ‘এটি কোনো বড় ম্যাচ নয়। এমন পরিস্থিতিতে ভারত-পাকিস্তান খেলা খুবই দুঃখজনক। নাগরিকরা যখন পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক চায় না, তখন কেন ক্রিকেট খেলা হবে? যখন অর্থই প্রাধান্য পায়, তখন জাতীয়তাবাদ হারিয়ে যায়।’

এদিকে, আম আদমি পার্টির (আপ) সিনিয়র নেতা সৌরভ ভরদ্বাজও একই ভিডিও শেয়ার করে ভারতের খেলোয়াড়দের ওপর ‘প্রচারণা চালানোর’ অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ‘টুর্নামেন্টের শুরুতে পাকিস্তানের মন্ত্রীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে ছবি তুললেন, আর দেশে ফিরেই তৈরি হলো নতুন নাটক। আসলে খেলোয়াড়দের একটি স্ক্রিপ্ট তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগাও দাবি করেছেন, মাঠের বাইরে অন্তত দু’বার তার সঙ্গে সূর্যকুমার করমর্দন করেছেন। ফাইনাল শেষে সংবাদ সম্মেলনে সালমান আগা জানান, সূর্য তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে করমর্দন করেছিলেন। কিন্তু যখনই ক্যামেরার সামনে এসেছিলেন, তখন আর হাত মেলাননি। তিনি মনে করছেন, সূর্যকুমার কেবল নির্দেশনামতো কাজ করেছেন।

একবার নয়, দু’বার ভারত অধিনায়ক তার সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন জানিয়ে সালমান বলেন, ‘প্রতিযোগিতার শুরুতে একবার সে আমার সঙ্গে একান্তে করমর্দন করেছিল।’ দ্বিতীয় ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পরে ম্যাচ রেফারির সঙ্গে বৈঠকের সময় আমাদের দেখা হয়েছিল। তখনও হাত মিলিয়েছিল।’

এখানেই না থেমে সালমান বলেন, ‘কিন্তু যখনই ওরা ক্যামেরার সামনে চলে আসে, তখন আর আমাদের সঙ্গে হাত মেলায় না। আমি নিশ্চিত ওকে যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোই মেনে চলছে। যদি এটা ওর একার উপর নির্ভর করত, তা হলে নিশ্চয়ই আমার সঙ্গে করমর্দন করত।’

ভারতের সমালোচনা করে সালমান আরও বলেন, ‘ভারত আমাদের সঙ্গে হাত মেলায়নি, মাহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নেয়নি। ওরা আমাদের সঙ্গে যা করেছে, তাতে শুধু আমাদের অসম্মান করেনি, পুরো ক্রিকেটকে অসম্মান করেছে। এগুলো দেখে বাকি দলগুলো যদি এসব করতে শুরু করে? কোথায় শেষ হবে এ সব? ক্রিকেটারদের তো রোল মডেল হওয়া উচিত। মাঠে এগুলো হতে দেখলে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা কী শিখবে? এ বার যা হয়েছে, খুব খারাপ।’

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর