[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গেমপ্লিফাইয়ের ক্রীড়া সাংবাদিকতার কর্মশালায় অংশ নিয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ১১:১১ এএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিলন হোসেন এই কর্মশালায় যোগ দেওয়ার কারণ হিসেবে যেমন জানালেন, খেলাধুলার প্রতি তার দুর্নিবার ভালোবাসা।

বিশ্বের প্রথম ক্রীড়া বিষয়ক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গেমপ্লিফাই (gameplify.xyz)-এর ‘ক্রীড়া সাংবাদিকতার হাতেখড়ি: খেলার গল্প, খবরে প্রাণ’- শীর্ষক এই কর্মশালা মুখরিত হলো ক্রীড়া সাংবাদিকতা নিয়ে আগ্রহী ১৭০ জন তরুণ-তরুণীর উচ্ছ্বাসমুখর অংশগ্রহণে। নবীন মনে তাদের কত শত প্রশ্নের উঁকি! খেলাধুলার নানা দিক, বিরুদ্ধস্রোতে ক্রীড়া সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়ার উপায়, প্রাঞ্জল ও হৃদয়গ্রাহী একটি প্রতিবেদন তৈরি করার প্রয়োজনীয় রসদ কী, পত্রিকা, অনলাইন, টিভি-মোজে জার্নালিজমের ক্ষেত্রে নৈতিকতার মানদণ্ড কী-তাদের এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর দিলেন দেশের অভিজ্ঞ ক্রীড়া সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা। প্রবীন-নবীনের প্রশ্ন-উত্তর পর্ব, নানা গল্পে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) অডিটোরিয়াম শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রূপ নিল এক মিলন মেলায়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিলন হোসেন এই কর্মশালায় যোগ দেওয়ার কারণ হিসেবে যেমন জানালেন, খেলাধুলার প্রতি তার দুর্নিবার ভালোবাসা। উচ্ছ্বাসভরা কণ্ঠে তিনি বললেন, “ছোটবেলা থেকেই স্পোর্টস নিয়ে আমার আলাদা কৌতুহল আছে। আমি নিজেও খেলাধুলা করতে ভালোবাসি। আমি চাচ্ছিলাম ক্যাম্পাসের সাংবাদিকতার পাশাপাশি স্পোর্টসের নানা দিক, নিয়ম-কানুন, নৈতিক দিকগুলো শিখতে। কখনও যদি ক্রীড়া বিভাগে কাজ করার সুযোগ আসে, তাই এই কর্মশালায় এসেছি ক্রীড়া সাংবাদিকতার বেসিক বিষয়গুলো জানতে। অভিজ্ঞদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি।”

কর্মশালায় মোস্তফা মামুন ও নট আউট নোমান প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

শেখ বোরহানউদ্দিন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজ পড়ুয়া সায়মা আক্তার খেলাধুলা নিয়েই কাজ করছেন। নিজের জানাশোনার পরিধি আরও বাড়িয়ে নিতেই গেমপ্লিফাই (gameplify.xyz)-এর কর্মশালায় যোগ দিয়েছেন তিনি। বললেন, “আমি কিছুদিন যাবৎ খেলাধুলা নিয়ে কাজ করছি। কাজগুলো যেন আরও ভালোভাবে করতে পারি, এই লক্ষ্য নিয়ে আজ এখানে এসেছি। আমার কাছে মনে হয়, সাংবাদিকতার মধ্যে ক্রীড়া সাংবাদিকতা সবচেয়ে সুন্দর। এখানে স্বাধীনভাবে কাজ করা যায়, উপভোগ করা যায় এবং মেয়েদের জন্য এটা একটা নিরাপদ আঙিনা। এখানে আমি দেশের অনেক অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত ক্রীড়া সাংবাদিকদের কাছ থেকে খেলাধুলার মৌলিক বিষয়সহ আরও অনেক বিষয়ে জানতে পেরেছি, যেটা নিশ্চিতভাবেই ভবিষ্যতে আমার কাজে আসবে।”

 

ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিন ধরেই আছে, সম্প্রতি হামজা চৌধুরী, শোমিত সোমের মতো প্রবাসীরা বাংলাদেশের হয়ে খেলায় ফুটবল নিয়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের আগ্রহ ফিরেছে। ইউল্যাবের শিক্ষার্থী আল নুর তাই ক্রীড়া সাংবাদিকতার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন। দিন দিন দেশের খেলাধুলার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় ক্রীড়া সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। সেই স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজনীয় জ্ঞান আরোহনে (gameplify.xyz)-এর কর্মশালায় যোগ দিয়েছেন নুর। বললেন, “খেলাধুলা আমি একটু বেশিই পছন্দ করি। এখন আমি মাল্টিমিডিয়ায় কাজ করছি। তবে ক্রীড়া সাংবাদিক হতে চাই। এই প্রোগ্রামে আসার মূল উদ্দেশ্য হলো এখানে যদি আমি খেলাধুলার মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে শিখতে পারি, তাহলে আমার চলার পথটা সহজ হবে। বাংলাদেশের খেলাধুলা যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে, যেভাবে জনপ্রিয়তা বাড়ছে, চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে, আশা করছি সামনে আরও ভালো হবে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সাফল্য আসবে, সেক্ষেত্রে ক্রীড়া সাংবাদিকদের গুরুত্বও বাড়তে। আমি চাই ক্রীড়া সাংবাদিক হয়ে এই অগ্রযাত্রার সারথি হতে।”

 

স্বপ্ন নিয়ে (gameplify.xyz)-এর কর্মশালায় যোগ দেওয়া তরুণ-তরুণীদের দিক নির্দেশনা দিয়েছেন জনপ্রিয় পাক্ষিক ক্রীড়া জগতের সম্পাদক দুলাল মাহমুদ। ক্রীড়া সাংবাদিককতার লম্বা ইতিহাস, পত্রিকায় খেলাধুলা সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের ইতিহাস, গুরুত্বের দিক থেকে অতীত-বর্তমানের ফারাকসহ নানা বিষয় তিনি তুলে ধরেন। ক্রীড়া সাংবাদিকতায় আগ্রহীদের আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অলরাউন্ডার হওয়ার পরামর্শ দেন দুলাল। তিনি বলেন, “এখন শুধু লিখতে পারলে হবে না। বলতে হবে, সব পারতে হবে। সব জানতে হবে। নানা প্রযুক্তির সাথে AI-এসেছে, ফলে সবকিছু আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। প্রযুক্তির সাথে লড়তে হলে সবকিছু জানতে হবে। যেকোনো খেলার অতীতটা জানাটা গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে ভবিষ্যতের ধারাবাহিকতা রাখা কঠিন। আমাদের দূর্ভাগ্য হচ্ছে, আমাদের কোনো আর্কাইভ নেই। এ কারণে তথ্যের সংকটে ভুগি। এই সংকট দূর করতে আর্কাইভ করা প্রয়োজন এবং একই সঙ্গে সবকিছু জানার চেষ্টা থাকাও জরুরি।”

 

দেশ রুপান্তরের সাবেক সম্পাদক ও বিএসপিএর সাবেক সভাপতি মোস্তফা মামুন আগ্রহীদের মাঠের রিপোর্টিংয়ে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকার নেওয়ার ক্ষেত্রে শচীন টেন্ডুলকার, ওয়াসিম আকরাম, মুত্তিয়া মুরালিধরনের মতো ক্রিকেট কিংবদন্তির সাক্ষাৎকার নেওয়ার মজার ও কষ্টের স্মৃতি, অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। প্রতিবেদন লেখার ক্ষেত্রে সবসময় জটিল চিন্তা না করার পরামর্শও দেন মামুন।

 

“সবকিছু জটিল করে ভাবার প্রয়োজন নেই। সাধারণভাবে চিন্তা করতে হবে। একটা ম্যাচ বা যে কোনো ঘটনা নিয়ে আমরা বন্ধু বা কারো সাথে যেভাবে কথা বলি, সেভাবে তুলে ধরতে হবে তথ্যের সতত্যা নিশ্চিত করে। প্রিয় দল, প্রিয় খেলোয়াড় কখনও খারাপ করলে তোমাদের খারাপ লাগবে, কিন্তু পেশাদার মনোভাব নিয়ে তোমাদের সেটা লিখতে হবে।

 

চ্যানেল-২৪ এর ক্রীড়া সাংবাদিক রেজওয়ান উজ জামান রাজিব, নটআউটনোমানের নোমান মোহাম্মদ টেলিভিশন ও অনলাইন জার্নালিজমের নানা দিক তুলে ধরেন। 5W-1H (Who, What, When, Where, Why- How)-চিরায়ত এই নিয়ম আকঁড়ে ধরে থাকার পক্ষে নন নোমান। বৃত্ত ও প্রথা ভাঙার মানসিকতা তিনি দেখতে চান আগামী দিনের ক্রীড়া সাংবাদিকদের মধ্যে। শখ ও আবেগের মধ্যেকার পার্থক্য তুলে ধরে নোমান পরামর্শ দেন, কেবল আবেগ থাকলেই ক্রীড়া সাংবাদিকতার আঙিনায় পা রাখার। রাজিব তুলে ধরেন, টিভি/অনলাইন জার্নালিজমে সঠিক তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং এজন্য সাবধানী হওয়ার প্রয়োজনীয়। ‘ভিউ’ পাওয়ার আশায় ‘গ্রহনযোগ্যতা’ হারানো অর্থহীন উল্লেখ করে তিনি পরামর্শ দেন, যে কোনো স্প্রিপ্ট লেখার সময় তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিতে ক্রসচেক করার দিকে।

 

গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেন হৃদয়ে প্রশ্ন করেন ‘Paid Promotion’ –এর যৌক্তিকতা ও নৈতিকতা নিয়ে। সাংবাদিকতার নৈতিকতা মেনে, নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড় বা ফেডারেশনের পক্ষ না নিয়ে ‘Paid Promotion’-চললে সেক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না দেখার কথা বলেন নোমান মোহাম্মদ। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের এক প্রশ্নের জবাবে নোমান সবাইকে ‘যা পান পড়েন’-এই পরামর্শ দেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ক্রীড়া সাংবাদিক মাহবুবুর রহমানের স্ক্রিপ্ট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রেজওয়ান উজ জামান রাজীব দেন, “সময়ের প্রয়োজনে স্ক্রিপ্ট লেখার সময় নির্দয় হওয়া এবং তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছেঁটে ফেলার’ পরামর্শ।

কর্মশালায় স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন গেমপ্লিফাই (gameplify.xyz)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মশিউর রহমান। সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “এই ওয়ার্কশপে যোগ দেওয়ার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে মানুষ সবকিছুর সঙ্গেই একাত্ম হতে চায়। সুপারবোল থেকে ফিফা বিশ্বকাপ-সব জায়গাতেই মানুষ যুক্ত হতে চায়। গেমপ্লিফাই (gameplify.xyz) এই আগ্রহীদের জন্য একটা কর্যকরী প্ল্যাটফর্ম। ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ আরও অনেক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম রয়েছে, AI- এসেছে, কিন্তু এটা মানুষের বিশ্বস্ততা পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি। গেমপ্লিফাই (gameplify.xyz) বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করে যেতে আগ্রহী। এজন্য গেমপ্লিফাই (gameplify.xyz) আগামীতেও এ ধরণের কর্মশালা ও ট্রেনিং আয়োজন অব্যাহত রাখবে। সবার জন্য শুভকামনা।”

 

দিনব্যাপি আলোচনা শেষে কুইজ আয়োজন করা হয়। সেখানে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করে গেমপ্লিফাই (gameplify.xyz)। কর্মশালায় অংশগ্রহনকারীদের দেওয়া হয় সার্টিফিকেট। এরপর শেষ হয় অনুষ্ঠান। সত্যি বলতে, এটি শেষ নয় মোটেও, গেমপ্লিফাই (gameplify.xyz)-এর উদ্যোগের স্রেফ শুরু।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর