যার আত্মত্যাগের কারণে ভারত দলে জায়গা হয়েছিল শচীনের
ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার শুধু ব্যাটিং নৈপুণ্যেই নয়, মাঠের ভেতর-বাইরে তার বিনয়ী আচরণের জন্যও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। খেলার সময় থেকে শুরু করে অবসরের পর বিভিন্ন মুহূর্তে তার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব অসংখ্য ভক্তের কাছেই অনুপ্রেরণা।
ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার শুধু ব্যাটিং নৈপুণ্যেই নয়, মাঠের ভেতর-বাইরে তার বিনয়ী আচরণের জন্যও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। খেলার সময় থেকে শুরু করে অবসরের পর বিভিন্ন মুহূর্তে তার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব অসংখ্য ভক্তের কাছেই অনুপ্রেরণা। এবার এক অনুষ্ঠানে টেন্ডুলকার নিজেই জানালেন, কীভাবে তিনি এক সাবেক সতীর্থকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছিলেন। স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি তুলে ধরলেন গুরশরণ সিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান, যা তার ভারত দলে নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
ইরানি কাপের একটি ম্যাচে ‘রেস্ট অব ইন্ডিয়া’র হয়ে খেলছিলেন টেন্ডুলকার। তখন তার ব্যক্তিগত স্কোর ৮৫, দলও নয় উইকেট হারিয়ে ফেলেছে। এ অবস্থায় দলের ভাইস–ক্যাপ্টেন গুরশরণ সিং রাজ সিং দুঙ্গারপুরের অনুরোধে ভাঙা হাত নিয়েই ব্যাট করতে নামেন। তথ্য এনডিটিভির।
শচীন বলেন, ‘ওটা ছিল আমার ভারত দলে ঢোকার জন্য ট্রায়াল ম্যাচ। গুরশরণ ব্যাট করতে নামার কথা ছিল না, কিন্তু রাজ সিংয়ের কথা শুনে তিনি নেমে গেলেন এবং শেষ পর্যন্ত আমাকে সেঞ্চুরি করতে সাহায্য করলেন। এরপরই আমি ভারত দলে নির্বাচিত হই। পরে গুরশরণও জাতীয় দলে জায়গা পান। তার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই; ভাঙা হাতে ব্যাট করতে নামা ছিল বিরাট ত্যাগ। তার মানসিকতা আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল।’
টেন্ডুলকার আরও জানান, ‘সে সময় অবসরপ্রাপ্ত ক্রিকেটারদের জন্য ‘বেনিফিট ম্যাচ’ আয়োজন করা হতো। আমি তখন ওকে বলেছিলাম, ‘‘গুশি, একদিন না একদিন তুমি অবসর নেবে। তখন যদি তোমার বেনিফিট ম্যাচ হয়, আমি অবশ্যই খেলতে আসব, এটা আমার কথা।’’ পরে তার ম্যাচে খেলতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।’
গুরশরণ যখন বেনিফিট ম্যাচ খেলতে যাচ্ছিলেন, তখন টেন্ডুলকারকে ফোন করেন। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি টেন্ডুলকার।
শচীন বলেন, ‘ওকে বলেছিলাম, ‘‘গুশি, ১৯৯০ সালে নিউজিল্যান্ডে তোমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে তোমার বেনিফিট ম্যাচে খেলব। ১৫ বছর পর হলেও তুমি যখন ম্যাচ আয়োজন করছ, আমি অবশ্যই আসব। এটিই আমার কথা।’”
তিনি আরও বলেন, ‘এই স্মৃতিগুলো আজও আমাকে আবেগী করে। আর আজ গর্ব করে বলতে পারি—যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা রেখেছি।’
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: