সাকলাইন-রিপনের জাদুতে প্লে-অফে রাজশাহী
ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১৩১ রানে থামিয়ে জয়ের অর্ধেক কাজ করে রেখেছিলেন রিপন মণ্ডল ও আবদুল গাফফার সাকলাইন। ব্যাট হাতে বাকি কাজ সারলেন তানজিদ হাসান তামিম। রাজধানীর ফ্রাঞ্চাইজির বিপক্ষে ৭ উইকেটের এ জয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের (বিপিএল) শীর্ষে এখন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। একই সঙ্গে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে নাজমুল হোসেন শান্তরা।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আজ সন্ধ্যার ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের মুখোমুখির আগে ৭ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট ছিল রাজশাহীর। সমান পয়েন্ট ছিল চট্টগ্রাম রয়্যালস ও সিলেট টাইটান্সের। শ্রেয়তর রান রেটে এগিয়ে থাকায় শীর্ষে ছিল চট্টগ্রাম এবং দুইয়ে সিলেট। দুই ফ্রাঞ্চাইজিকে টপকে এক নম্বরে উঠে এলো রাজশাহী। ৮ ম্যাচে ৬ জয়ে দলটির পয়েন্ট ১২। নেট রান রেট ০.৩৬৭।
রাজশাহীর এই জয়ে শীর্ষে থাকা তিন দলের প্লে-অফ অনেকটা নিশ্চিত! রাজশাহীর হাতে অবশিষ্ট দুই ম্যাচ। দুইয়ে থাকা চট্টগ্রামের তিনটি ম্যাচ এবং একটি ম্যাচ বাকি সিলেটের। রংপুর রাইডার্স, ঢাকা ক্যাপিটালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের দুটি করে ম্যাচ বাকি।
পয়েন্টে অনেক পিছিয়ে ঢাকা ক্যাপিটালস ও বিপিএলে প্রথমবার অংশ নেওয়া নোয়াখালী এক্সপ্রেস। দুই দলের পয়েন্ট ৪। এক্ষেত্রে শেষ চার নিশ্চিত করতে পরের দুই ম্যাচে নূন্যতম একটিতে জিততে হবে রংপুরকে। তাতে সাবেক চ্যাম্পিয়নদের পয়েন্ট দাঁড়াবে ১০। থাকবে না শঙ্কা।
এদিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৩১ রান করে ঢাকা। শেষ ওভারেই আসল ভেলকি দেখান রিপন মণ্ডল। শেষ তিন বলে তিন উইকেট তুলে নেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এই পেসার। চলতি বিপিএলে এর আগে হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েছিলেন নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মেহেদি হাসান রানা (সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে) ও রংপুর রাইডার্সের মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুন (নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে)। সব মিলিয়ে বিপিএল ইতিহাসে ১১তম হ্যাটট্রিক করেছেন রিপন৷
১৯তম ওভারের চতুর্থ বলে সাব্বির রহমানকে ফেরান রিপন। পরের বলে জিমি নিশামের হাতে ক্যাচ দেন জিয়াউর রহমান শরিফি। আর হ্যাটট্রিক বল ফেরাতে পারেননি তাইজুল ইসলাম। তাঁকে বোল্ড করে আনন্দে মাতেন রিপন।
কোটার ৪ ওভারে ৩০ রান খরচায় তিন উইকেট নেন রিপন। যদিও রাজশাহীর সর্বোচ্চ উইকেট সাকলাইনের। এই ফার্স্ট বোলার ৪ ওভারে ২৪ রান খরচায় নেন ৪ উইকেট। স্পিনার রুবেল হোসেন নেন দুটি উইকেট।
আগে ব্যাটিং করা ঢাকার শুরুটা ছিল আশাজাগানীয়া। আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নিয়ে উসমান খান বেশ দাপটের সঙ্গেই রাজশাহীর বোলারদের মোকাবিলা করেন। তবে দলীয় ৫৪ রানে দলকে বিপদে ফেলেন উসমান। ব্যক্তিগত ৪১ রানে ফেরেন তিনি। সাকলাইনের বলে বোল্ড হয়ে ফেরার আগে রীতিমতো ঝড় বইয়ে দেন পাকিস্তানের এই উইকেটকিপার ব্যাটার।
প্রথম উইকেট পতনের পর মাত্র ৬ রান যোগ হতেই আরও দুই ব্যাটারকে হারায় ঢাকা। অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ও অলরাউন্ডার নাসির হোসেনদের চেষ্টা ছিল বৈকি, তবে ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং বিড়ম্বনা বাড়িয়েছে বেশ। মিঠুন ১৬ বলে ১৩ রান করে ফেরেন। নাসিরের রান ছিল ২৭ বলে ২৪। শেষ দিকে রিপন একাই তোপ দাগান। সর্বোপরি ১৩১ রানে থামতে হয় ঢাকাকে।
টেবিল টপারের মিশনে রান তাড়ায় রাজশাহীর হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন মোহাম্মদ ওয়াসিম ও তানজিদ হাসান। উদ্বোধনী জুটি ৩৮ রানে ভাঙলেও মনোবল ভাঙেনি তানজিদ হাসানের। ২০২৫-২৬ বিপিএলে তুলে নেন নিজের প্রথম অর্ধশতক। এর আগে সর্বোচ্চ ২৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই ওপেনার।
ওয়ান ম্যান আর্মি শো ছিল তানজিদের। চার-ছক্কার পসরা সাজান বাঁ-হাতি এই ব্যাটার। ইমাদ ওয়াসিমের বলে বোল্ড হয়ে ফেরার ৪৩ বলে করেন ৭৬ রান। ১৭৬ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট চালান তিনি। ছিল ৭টি চার এবং ৫টি বাউন্ডারি।
তানজিদ ফেরার পর অসুবিধায় পড়তে হয়নি রাজশাহীকে। সুন্দর ইতি টেনে দেন মুশফিকুর রহিম ও জিমি নিশাম। বাংলাদেশি উইকেটকিপার ব্যাটার ১২ রান এবং অস্ট্রেলিয়ান পেস অলরাউন্ডার ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।
ঢাকার হয়ে ইমাদ, সাইফ হাসান ও নাসির একটি করে উইকেট নেন।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: