[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নিজেদের ফাঁদেই ধরাশায়ী শ্রীলঙ্কা, সমতায় ইংল্যান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:০১ এএম

ধীরগতির পিচে প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডকে স্পিন বিষে কাবু করে শ্রীলঙ্কা। এবার দ্বিতীয় ম্যাচে নিজেদের পাতা ফাঁদেই কুপোকাত হলো লঙ্কানরা। ইংলিশ ছয় স্পিনারের ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে সিরিজ নিশ্চিতের সুযোগ হারালো স্বাগতিকরা।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে প্রথম ম্যাচে হারের পর দারুণভাবে ঘুরে দাড়ালো ইংল্যান্ড। কলম্বোতে আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৫ উইকেটে জিতেছে ইংল্যান্ড। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে স্লো পিচে ৪৯.৩ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ২১৯ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। জবাবে ২২ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় সফরকারী ইংলিশরা। বল হাতে দুই উইকেট নেওয়ার পর ৯০ বলে ৭৫ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন জো রুট।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই ম্যাচে মোট আট বোলার ব্যবহার করেছে ইংল্যান্ড। শুকনো ও ধীরগতির পিচের সুযোগ পুরো কাজে লাগাতে এরমধ্যে ছয় স্পিনার দিয়ে লঙ্কানদের নাচিয়ে ছাড়ে সফরকারীরা। আগের ম্যাচের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে ৫০ ওভারের মধ্যে ৪০.৩ ওভারই স্পিনারদের দিয়ে করার অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ইতিহাসে যা রেকর্ডই।

এই জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফিরল ইংল্যান্ড। আগামী মঙ্গলবার একই ভেনুতেই হবে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ।

শ্রীলঙ্কাকে অল্পতে বেধে ফেলার পর ভালো মুরু পায়নি ইংল্যান্ড। দলীয় ২০ রানে ফেরেন রেহান আহমেদ। ১৮ বলে ১৩ করেন এই ওপেনার। তবে এরপর বেন ডাকেট-জো রুটের জুটি জয়ের ভিত গড়ে দেয়। তাদের ৬৮ রানের জুটি শেষ হয় ৫২ বলে ৩৯ করা ডাকেট আউট হলে। ৯ রান যোগ হতেই আরেকটি উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ৬ রান করে জ্যাকব ব্যাথল আউট হন আসিথা ফার্নান্দোর বলে ক্যাচ তুলে।

তবে ইংল্যান্ডকে বিপদে পড়তে দেননি শক্ত হাতে হাল ধরা রুট। সময়ের অন্যতম সেরা এই ব্যাটার অধিনায়ক ব্রুককে নিয়ে ৮১ রানের জুটি। দলীয় ১৭৮ রানে রুট আউট হওয়ার পর দ্রুত ফেরেন ব্রুকও। ইংল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক খেলেন ৭৫ বলে ৪২ রানের ইনিংস। এরপর জয়ের জন্য বাকি কাজটুকু সারেন জস বাটলার ও উইল জ্যাকস। ২১ বলে ৩৩ করে অপরাজিত ছিলেন বাটলার, আর জ্যাকস ৮ বলে ৮।

এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কার শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি। দলীয় ১৬ রানে আউট হন কামিল মিশারা। ১২ বলে ৫ করে জেমি ওভার্টনের বলে ক্যাচ তুলে ফেরেন লঙ্কান ওপেনার। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে পাথুম নিসাঙ্কা-কুশল মেন্ডিসের জুটিতে ৪২ রান। ৩৭ বলে ২৬ রান করা নিসাঙ্কাকে ড্রেসিংরুমের পথ দেখান আদিল রাশিদ। স্কোরবোর্ডে ১০ রান যোগ হতেই তৃতীয় উইকেট খোঁয়ায় স্বাগতিকরা। ২৬ রান করা মেন্ডিস রান আউটে কাটা পড়েন।

ভালো শুরু পেয়েছিলেন মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা। তবে উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন তারা। ইনিংসে সবচেয়ে বড় জুটি গড়েন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা-চরিত আসালাঙ্কা। চতুর্থ উইকেটে তাদের ৬৬ রানের জুটি শেষ হয় ডি সিলভা আউট হলে। লিয়াম ডওসনের প্রথম শিকার হওয়ার আগে ডানহাতি ব্যাটার করেন ৫৯ বলে ৪০ রান।

শ্রীলঙ্কার যখন পঞ্চম উইকেটের পতন ঘটে, ৩৫.৩ ওভারে তাদের রান ১৫১। এরপর ধুঁকতে ধুঁকতে কোনোমতে দুইশো পার করে তাদের সংগ্রহ। ইনিংসে সর্বোচ্চ রান আসে অধিনায়ক আসালাঙ্কার (৬৪ বলে ৪৫) ব্যাট থেকে। এছাড়া পাভান রথনায়াকে ২৯ দুনিথ ওয়েলেলেগে করেন ২০ রান।

 

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর