‘পাকিস্তান বিশ্বকাপ না খেললে পথে বসে যাবে সম্প্রচারকারীরা’
আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি শিগগিরই দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি)
সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়েছিলেন নাকভি। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সম্প্রচারকারীরা পথে বসে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার বাসিত আলী। প্রতিবেদন হিন্দুস্তান টাইমসের।
এর আগে, নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি দলটিকে বাদ দিয়েই বিশ্বকাপ আয়োজনের ঘোষণা দেয়। আইসিসির এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছে না পিসিবি।
গত সপ্তাহে আইসিসির বোর্ড সভায় গ্রুপ ‘সি’-এর ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়ার বাংলাদেশের দাবির পক্ষে ভোট দেয় পিসিবি। তবে ১৪টি বোর্ড মূল সূচি বহাল রাখার পক্ষে মত দেয়। এরপর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেয় আইসিসি। বাংলাদেশ সরকার সবুজ সংকেত না দেয়ায় দুই দিন পর বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে গ্রুপ ‘সি’-তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আইসিসির এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার দিনই পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন নকভি। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি টুর্নামেন্ট বয়কটের নির্দেশ দেন, তাহলে পিসিবি সেটি বাস্তবায়ন করবে এবং প্রয়োজনে আইসিসি অন্য কোনো দলকে খুঁজে নিতে পারে।’
নকভির এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সাবেক পাকিস্তান ব্যাটার বাসিত আলী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোর রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে, কারণ ভারত–পাকিস্তান ম্যাচটি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক আকর্ষণ।
ইউটিউব শো ‘গেম প্ল্যান’-এ বাসিত আলী বলেন, ‘মহসিন নাকভি সংবাদ সম্মেলনে যা বলেছেন, তাতে পুরো বিশ্ব কেঁপে উঠেছে। তিনি বলেছেন, অংশগ্রহণের বিষয়ে আমরা সরকারকে জিজ্ঞেস করব। তার ওই মন্তব্য এখন আইসিসির জন্য সহজ নয়। পাকিস্তানের উচিত বিশ্বকাপ বয়কট না করা, কারণ আমাদের তো ভারতে খেলতে হচ্ছে না। কিন্তু যদি সরকার বলে বাংলাদেশর পাশে দাঁড়াতে হবে, তখন কী হবে?’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপে না খেলে, তাহলে সম্প্রচারকারীরা পথে বসে যাবে। পাকিস্তান সরে দাঁড়ালে তাদের জায়গায় কোন দল খেলবে? আর সেই দলের বিপক্ষে ভারতের ম্যাচ কি ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের মতো দর্শক টানবে?’
গ্রুপ ‘এ’-তে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে রয়েছে নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: