[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নিষিদ্ধের ঝুঁকিতে পাকিস্তান, শাস্তি এড়াতে ২০১৮ সালের ঘটনা সামনে আনছে পিসিবি!

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:০২ পিএম

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী সপ্তাহে কলম্বোতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সরকারি নির্দেশ কার্যকর হলে পাকিস্তানকে গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে। সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি ও আয়োজক সম্প্রচারকারী সংস্থার মামলার পাশাপাশি টুর্নামেন্ট থেকেই পাকিস্তানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আইসিসি।

তবে আইসিসি টুর্নামেন্টে নির্দিষ্ট ম্যাচ থেকে দল সরে দাঁড়ানোর ঘটনা এই প্রথম নয়। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত কারণে সরকারি নির্দেশ মেনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ খেলেনি অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একইভাবে ২০০৩ বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন করেছিল ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। আবার রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ে।

এই সব ঘটনার কোনোটিতেই আইসিসি সংশ্লিষ্ট দলগুলোর ওপর শাস্তি আরোপ করেনি। এই নজিরের বিষয়টি পাকিস্তান ভালোভাবেই জানে। ডন পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আইসিসিকে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ২০১৮ সালে বিসিসিআইয়ের বিরুদ্ধে করা আগের বিরোধের প্রসঙ্গ টেনে আনতে পারে, যা তখন আইসিসির ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটিতেও (ডিআরসি) গিয়েছিল। খবর হিন্দুস্তান টাইমসহ ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর।

ওই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৪ সালের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ঘিরে। যেখানে ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে ছয়টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের কথা ছিল। সেই সমঝোতা অনুযায়ী পিসিবি আইসিসির ‘বিগ থ্রি’ রাজস্ব মডেলকে (যার ফলে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড আইসিসির আয়ের বড় অংশ পায়) সমর্থন করেছিল। তবে পরবর্তীতে ভারত সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।

২০১৮ সালের সেই শুনানির সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র জানায়, ‘শুনানির সময় পিসিবি বিসিসিআইকে জিজ্ঞেস করেছিল, কেন তারা পাকিস্তান সফর করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। প্রথমে বিসিসিআই বলে, তাদের কোনও ব্যাখ্যা দেয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। পরে তারা দাবি করে, ভারত সরকার সফরের অনুমতি দেয়নি।’

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আইসিসির ভেতরে বিসিসিআইয়ের প্রভাব থাকায় আবারও পাকিস্তানের বিপক্ষে রায় দিতে পারে। যার ফলে নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের দ্বারস্থ হতে প্রস্তুত বলেও জানা গেছে।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর