বিক্রয়কর্মী থেকে পাকিস্তান দলে, ভারতের ‘দুশ্চিন্তা’ কে এই উসমান
দুবাইয়ে বিক্রয়কর্মীর চাকরি করতে গিয়ে প্রায় হারিয়েই ফেলেছিলেন নিজের ক্রিকেট-স্বপ্ন। কিন্তু ভারতের কিংবদন্তি অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘এমএস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ বদলে দেয় পাকিস্তানের স্পিনার উসমান তারিকের জীবন।
চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম আসরেই আলোচনায় এই স্পিনার। তার অদ্ভুত বোলিং অ্যাকশন ইতোমধ্যে তৈরি করেছে ব্যাপক কৌতূহল। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভারতের বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছেন তিনি।প্রতিবেদন জিও নিউজের।
৩০ বছর বয়সী তারিক স্বীকার করেছেন, ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ধোনির বায়োপিকটি না দেখলে হয়তো আর ক্রিকেট খেলাই হতো না তার। বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের সংগ্রাম, প্রত্যাখ্যান আর শেষ পর্যন্ত সাফল্যের গল্প তাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিল।
নিজেকে ‘মিস্ট্রি স্পিনার’ হিসেবে গড়ে তুলতে দুবাই ছেড়ে তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন নানা জায়গায়। পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগা আগেই জানিয়েছেন, ভারতের বিপক্ষে তারিক হবেন দলের ‘এক্স-ফ্যাক্টর’।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়েছেন তারিক। রাওয়ালপিন্ডিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করেছিলেন হ্যাটট্রিক। বিশ্বকাপ অভিষেকে কলম্বোয় যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ২৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।
তারিকের অস্বাভাবিক বোলিং অ্যাকশন গত দুই বছরে দুবার অবৈধ হিসেবে রিপোর্ট করা হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের পরীক্ষাগারে তা বৈধ বলে প্রমাণিত হয়। বল ছাড়ার আগে তার বেশি বিরতি এবং স্লিং-শট ভঙ্গি রহস্য বাড়িয়ে দেয় আরও।
ইংল্যান্ডের টম ব্যান্টন সংযুক্ত আরব আমিরাত টি-টোয়েন্টি লিগে তার অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। বিশ্বকাপের আগে লাহোরে সিরিজ চলাকালে অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন তার রাউন্ড-আর্ম অ্যাকশন নকল করে নতুন করে বিতর্ক উসকে দেন। তবে ভারতের অভিজ্ঞ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং আম্পায়ার অনিল চৌধুরী তারিকের অ্যাকশনকে নিয়মসিদ্ধ বলে মত দেন।
বিক্রয়কর্মী থেকে জাতীয় দলে
দুবাই ছাড়ার পর এক বন্ধুর মাধ্যমে পাকিস্তানের ওপেনার ফখর জামানের সঙ্গে পরিচয় হয় তারিকের। ফখর তাকে নিয়ে যান খাইবার পাখতুনখোয়ায় স্থানীয় কোচ ওয়াজাহাতুল্লাহ ওয়াস্তির কাছে। সাবেক পাকিস্তান ক্রিকেটার ওয়াস্তি বলেন, ‘ছেলেটিকে দেখে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম। ওর অ্যাকশন ছিল একেবারে আলাদা। আমি শুধু বলেছিলাম, একটু দ্রুত বল করতে।’
ধোনির বায়োপিক প্রসঙ্গে তারিক বলেন, ‘আমি প্রায় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু একদিন এই সিনেমাটি দেখে মনে হলো, আমিও পারি।’
গত বছর ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ২০ উইকেট নিয়ে জাতীয় দলে জায়গা করে নেন তিনি। মজার ব্যাপার, নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকাকালেই জাতীয় দলে নির্বাচনের খবর পান তারিক। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন এটি মজা! পরে সত্যতা বুঝে বলেন, ‘মনে হয় আমার স্ত্রীই আমার জন্য সৌভাগ্য বয়ে এনেছেন।’
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: