তীরে এসে তরী ডুবিয়ে যার ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন রশিদরা
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবশেষ আসরে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে খেলেছিল আফগানিস্তান। এবারের আসরেও লড়াকু ক্রিকেট খেলে প্রতিপক্ষের সমীহ আদায় করে নিয়েছেন রশিদ খান, মোহাম্মদ নবীরা। তবে নিউজিল্যান্ডের পর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে আফগানদের গ্রুপ পর্ব থেকে কার্যত বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে।
সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে জয়ের দ্বারপ্রান্তেই পৌঁছে গিয়েছিল আফগানিস্তান। কিন্তু চরম নাটকীয়তায় মোড়ানো ম্যাচ ম্যাচ টাই, এরপর সুপার ওভারেও টাই, শেষপর্যন্ত দ্বিতীয় সুপার ওভারে হেরে আফগানদের পরের রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। এভাবে বাদ পড়ার ক্ষোভ খাবারের ওপর ঝেড়েছেন আফগান ক্রিকেটাররা।
বিশ্বকাপে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচ খেলতে এখন দিল্লিতে অবস্থান করছে আফগানিস্তান ক্রিকেট দল। অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বারবার ফিরে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের কথা। ডাবল সুপার ওভারের থ্রিলারে হারের শোক কীভাবে ভুললেন আফগানরা?
এমন প্রশ্নের জবাবে অধিনায়ক রশিদ হাসতে হাসতে বলেন, ‘আমরা আহমেদাবাদে ছিলাম। ম্যানেজারকে বললাম খাবার অর্ডার করতে—পেশাওয়ারি খাবার। ডাল বুখারা, ডাল মাখানি, আর তন্দুরি চিকেন আনতে বলেছিলাম, যেন রাগটা ওগুলোর ওপর ঝাড়তে পারি।’
আরও পড়ুন- নানা গুঞ্জন চলছে, আমি কোনো প্রস্তাব পাইনি: তামিম ইকবাল
সেই সমৃদ্ধ, মাখনভরা খাবারের টেবিলে বসেই আফগানিস্তানের ক্রিকেটাররা নিজেদের মনকে প্রবোধ মানিয়েছেন–এমন রোমাঞ্চকর ম্যাচে যা ঘটেছে, তার জন্য কাউকে দোষারোপ করা যাবে না; বরং নিজেদের অবদানের জন্য গর্বিত হওয়া উচিত।
রশিদ বলেন, 'কেউ যেন না বলে, সে এটা করেছে বা ওটা করেছে—এতে দলে নেতিবাচকতা আসে। কেউ আলাদা করে হারেনি, আমাদের দল হেরেছে। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। সুপার ওভারে যাওয়ার জন্য কখনও কোনো খেলোয়াড়কে দোষ দিই না। অধিনায়ক হিসেবে আমি এসব কথা শুনতে চাই না। খেলায় হারার চেয়েও আমাকে বেশি হতাশ করে যখন খেলোয়াড়দের দোষ দেয়া হয়। আমরা সবাই চেষ্টা করেছি।'
তবে এতে এই নয় যে রাশিদ পরাজয় ভুলে গেছেন। তিনি এটিকে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে মুম্বাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারের সঙ্গে তুলনা করেন। তার ভাষায়, 'সত্যি বলতে, এটা খুব কঠিন। কয়েকবার ম্যাচটা আমাদের হাতে ছিল, তারপর হঠাৎ ফসকে গেল—এটা খুব হতাশাজনক। মন থেকে সহজে যায় না। ২০২৩ বিশ্বকাপে ওয়াংখেড়েতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটা যেমন ভুলতে পারিনি, ২০২৪ বিশ্বকাপে তাদের হারানোর পর ধীরে ধীরে সেটা মাথা থেকে বেরিয়েছিল।'
সেই রাতে দল কী করেছিল?
রশিদ জানান, 'ম্যাচের পর রাতে আমরা সবাই ম্যানেজারের রুমে জড়ো হয়েছিলাম। সবাইকে ডাকা হয়েছিল। ভালো করে ডিনার করেছিলাম, ইতিবাচক কথা বলেছি, একে অপরকে সমর্থন করেছি। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি খেলোয়াড়দের বলেছিলাম—এটাই সময় একসঙ্গে থাকার, মাথা উঁচু রাখার। আমরা যদি নিজেরাই নিজেদের হতাশ না করি, তাহলে বড় কিছু অর্জন করতে পারব। কিন্তু যদি ভেঙে পড়ি, তাহলে এক-দুই বছর পিছিয়ে যাব—যা আমরা চাই না। তাই আমরা শিখি, সামনে এগোই, মাথা উঁচু রাখি এবং চেষ্টা চালিয়ে যাই। ফল পাইনি, কিন্তু চেষ্টাটা ছিল—এটাই সবচেয়ে তৃপ্তির।'
তবে আপাতত আফগানিস্তানকে গ্রুপ পর্বেই বিদায় নেওয়ার সমীকরণের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারার পর এখন তাদের সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও কানাডার বিপক্ষে জয় পেতেই হবে। পাশাপাশি চাইবে ইউএই যেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে এবং কানাডা যেন নিউজিল্যান্ডকে হারায়। তাতেও শেষ ভরসা থাকবে নেট রান রেটে। অর্থাৎ বড় কোনো অঘটন না ঘটলে ২০২৪ সালের সেমিফাইনালিস্টরা এবার পরের রাউন্ডে উঠতে পারবে না, যা রাশিদের কাছে কষ্টদায়ক।
তিনি বলেন, 'গত এক-দেড় বছরে আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি এই ফলের জন্য, কিন্তু সব সময় ফল আপনার পক্ষে যাবে না। ১০০ বার সাফল্য পেলে মানুষ সেই একবারের ব্যর্থতাই বেশি আলোচনা করে, আগের ভালো ফল ভুলে যায়—এটাই বেশি চ্যালেঞ্জিং।'
তিনি আরও বলেন, 'সেই মান ধরে রাখা কঠিন, কিন্তু মজারও। আলাদা কিছু করতে হয় না, নিজের দক্ষতা আনতে হয়। আর দক্ষতা আসে অনুশীলন থেকে। যত বেশি কঠোর পরিশ্রম করবেন, খেলায় তত বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকবে। চাপ আছে, তবে উপভোগ্যও।'
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: