[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

টানা দুই জয়েও বিশ্বকাপ অভিযান শেষ আফগানিস্তানের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০২ এএম

আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছিল। তবে শেষটাকে স্মরণীয় করে রাখল আফগানিস্তান। টানা দুই জয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করে ঘরে ফিরছে দলটি। আগের ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারানোর পর এবার কানাডাকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী সমাপ্তি টেনেছে তারা।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) চেন্নাইয়ে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তান গড়ে তোলে ঠিক ২০০ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই আফগানিস্তানের প্রথম ২০০ পারের ইনিংস। জবাবে কানাডা ২০ ওভারে ৮ উইকেটে করতে পারে মাত্র ১১৮ রান। ফলে ৮২ রানের বিশাল জয় পায় আফগানরা।

আফগানদের এই রেকর্ড ইনিংসের মূল কারিগর ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে কানাডার বোলারদের চাপে রাখেন তিনি। ৫৬ বলে ৯৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন ইব্রাহিম। ইনিংসে ছিল একাধিক বাউন্ডারি ও শক্তিশালী শটের প্রদর্শনী। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটিই কোনো আফগান ব্যাটসম্যানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস।

তার সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ, যিনি ৩০ রান করেন। মিডল অর্ডারে ঝড় তোলেন সেদিকউল্লাহ আতাল। মাত্র ৩২ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলে রানতাড়ার বাইরে নিয়ে যান ম্যাচটি। শেষ দিকে দ্রুত রান তোলায় আফগানিস্তান পৌঁছে যায় ২০০ রানের মাইলফলকে যা তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম।

রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে কানাডা। পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার আগেই ধাক্কা খায় তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। ৯ ওভারে ৪৮ রান তুলতেই হারায় ৫ উইকেট। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান যুবরাজ সামরা মাত্র ১৭ রান করে ফিরলে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে কানাডা।

অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী এদিন ছিলেন অনন্য। চার ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন তিনি যা তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং। অন্যপ্রান্তে অধিনায়ক রশিদ খান ১৯ রান খরচায় নেন ২ উইকেট। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে কানাডা কখনোই ম্যাচে ফিরতে পারেনি। দলটির পক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন হর্ষ ঠাকার, তবে সেটি ছিল নিছক লড়াই ধরে রাখার প্রচেষ্টা।

যদিও সেমিফাইনালের দৌড় থেকে অনেক আগেই ছিটকে যায় আফগানিস্তান, তবু শেষ দুই ম্যাচের জয় দলটির সম্ভাবনার জানান দিয়েছে জোরালোভাবে। বিশেষ করে ২০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ ও নবীর বিধ্বংসী বোলিং ভবিষ্যতের জন্য বড় প্রেরণা হয়ে থাকবে।

বিশ্বকাপ শেষ হলেও আফগানিস্তান প্রমাণ করল তারা আর ‘আন্ডারডগ’ নয়, বরং যেকোনো দলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ার সামর্থ্য রাখে।

 

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর