[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

১৪ বছর পর বিব্রতকর রেকর্ডের সঙ্গী পেল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০২ এএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি বিব্রতকর রেকর্ডে ১৪ বছর ধরে একাই ছিল বাংলাদেশের নাম। অবশেষে সেই একাকিত্ব ভাঙল। চলতি বিশ্বকাপে ওমানের টানা পরাজয়ের ফলে এখন আর একা নয় বাংলাদেশ; বিশ্বকাপে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ হারের তালিকায় তাদের সঙ্গী হয়েছে ওমান।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) শ্রীলঙ্কার পাল্লেকেলেতে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে যায় ওমান। এই হারেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের টানা পরাজয়ের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ এ। চলতি আসরে গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচেই হেরেছে দলটি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আগের আসরের ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা। সব মিলিয়ে বিশ্বমঞ্চে টানা ১০ হার যে রেকর্ড এতদিন একাই বয়ে বেড়াচ্ছিল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের এই নেতিবাচক ধারার শুরু ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। সেই আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এরপর সুপার এইটসহ টানা চার ম্যাচে হেরে যায় তারা। পরবর্তী তিন আসরের প্রতিটিতেই গ্রুপ পর্বে দুটি করে ম্যাচ হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়। ফলে ২০০৭ থেকে ২০১২ পর্যন্ত টানা ১০ ম্যাচ হারের বিব্রতকর রেকর্ড গড়ে বসে টাইগাররা।

দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে এই রেকর্ডে বাংলাদেশের কোনো সঙ্গী ছিল না। অবশেষে সেই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে ওমান। তাদের পরাজয়ের ধারার সূচনা ২০২১ আসর থেকে। সে বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাপুয়া নিউ গিনিকে হারালেও বাংলাদেশের কাছে পরাজিত হয় ওমান। পরে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও জিততে না পারায় বিদায় নিতে হয় প্রথম পর্ব থেকেই। সেই ব্যর্থতার রেশ টেনে ২০২৪ আসরেও জয়শূন্য ছিল দলটি।

চলতি বিশ্বকাপেও ওমানের ভাগ্য ফেরেনি। অস্ট্রেলিয়ার আগে তারা হেরেছে শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। চার ম্যাচেই পরাজয়, আর তাতেই টানা ১০ হারের কাতারে নাম লিখিয়েছে দলটি। ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে এখন তাদের নাম জড়িয়ে গেছে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিসংখ্যানে।

বিশ্বকাপে টানা পরাজয়ের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নামিবিয়া, আয়ারল্যান্ড ও পাপুয়া নিউ গিনি যাদের হারের সংখ্যা কিছুটা কম হলেও ধারাবাহিক ব্যর্থতার তালিকায় তারাও পিছিয়ে নেই। তবে ১০ ম্যাচের দীর্ঘ পরাজয়ের মিছিল ভাঙতে না পারার রেকর্ড আপাতত বাংলাদেশ ও ওমানের দখলেই।

একসময় যে রেকর্ড ছিল কেবল বাংলাদেশের জন্য বিব্রতকর স্মৃতি, এখন সেটি ভাগাভাগি। তবে পরিসংখ্যানের এই সমতা সান্ত্বনা দিলেও, বাস্তবে উন্নতির জন্য মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা সেটাই প্রমাণ করে বিশ্বকাপের ইতিহাস।

 

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর