ক্রিকেটারদের ভোগান্তিতে বিসিবির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সাকিব
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও কার্যক্রম নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন সাকিব আল হাসান।
বিশেষ করে খেলোয়াড়দের দুর্ভোগ, বোর্ডের ভূমিকা এবং চলমান অস্থিরতা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। একটি জাতীয় পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে টাইগার সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্রিকেটাররাই।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সাকিব দেশের ক্রিকেটের বর্তমান হ-য-ব-র-ল অবস্থা নিয়ে নিজের ক্ষোভ, হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘একটা জিনিস আমি বুঝি, এখানে একমাত্র ভুক্তভোগী হলো খেলোয়াড়রা, অন্য কেউ সাফার করছে না। খেলোয়াড়দের কষ্টটা কারো বোঝার ইচ্ছা আছে বলে আমার মনে হয় না। সবাই আসলে যার যার ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে ব্যস্ত এবং খেলোয়াড়দের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।’
দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রাণ ধরা হয় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগকে (ডিপিএল)। তবে বোর্ড ও ক্লাবগুলোর মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধে বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে এই লিগ। ক্রিকেটের এই অচলাবস্থা নিয়েও মুখ খুলেছেন সাকিব। দ্যতিনি জানিয়েছেন, ক্রিকেট প্রশাসনে এখন কেবল 'ক্ষমতা দখলের লড়াই' চলছে, যেখানে খেলোয়াড়দের ব্যবহার করা হচ্ছে দাবার ঘুঁটি হিসেবে।
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ক্লাব যদি খেলতে না চায়, বিসিবি কী করবে? বিসিবি তাদের ম্যানেজ করতে পারছে না, এটা বিসিবির ব্যর্থতা। খেলোয়াড়দের আসলে তো কিছু করার নাই। ধরেন আমি ক্লাবের মালিক, আমি বললাম খেলব না—এখন আপনি কী করবেন? আপনি বিসিবি হলে বড়জোর অনুরোধ করবেন। যারাই যেটা করছে, তারা ক্ষমতা ধরার জন্য করছে। এর বাইরে তো কিছু না।’
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে ডিপিএল না হওয়ার প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হতে পারে—এমন প্রশ্নে সাকিবের উত্তর ছিল বেশ বাস্তববাদী। তিনি মনে করেন, প্রস্তুতির চেয়েও বড় সংকট খেলোয়াড়দের ব্যক্তিজীবনে। সাকিব বলেন, '১৫টি ম্যাচ খেলা একজন খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতার জন্য অনেক বড় বিষয়। ঢাকা লিগ আমাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলবে কি ফেলবে না তার চেয়ে বড় হলো প্রতিটা খেলোয়াড়ের জীবনে প্রভাব পড়ছে। এটা সব থেকে বড়। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ও আর্থিক জীবনের ওপর এর প্রভাব।'
বিসিবি ও ক্লাবগুলোর বর্তমান সম্পর্কের তিক্ততা নিরসনে খুব একটা আশার আলো দেখছেন না এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার। তার ভাষায়, ‘আসলে এক হাতে তো তালি বাজে না, সব দিক থেকেই হচ্ছে। খেলা শুরুর আন্তরিকতা না থাকলে আমি লিগ হওয়ার সুযোগ দেখি না। এখন সম্পর্কের জায়গা এমন অবস্থায় এসেছে যে মনে হয় না সহজ পথে কিছু হবে। আইনি পথে যদি হয়।’
পরিচালকদের পদত্যাগের হিড়িক নিয়ে মুখ খুললেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল
বোর্ডের সঙ্গে নিজের যোগাযোগ নিয়েও কথা বলেন সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি জানান, সরাসরি ব্যক্তিগতভাবে নয়, বরং প্রতিষ্ঠান হিসেবেই বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এ ব্যাপারে সাকিব বলেন, ‘আমি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির সঙ্গে না, বিসিবি প্রতিষ্ঠান হিসেবে যোগাযোগ রাখছি। কে আছে বা কে আসবে, সেটা বিষয় না। আমি পদ অনুযায়ী যার সঙ্গে কথা বলা দরকার, তার সঙ্গেই কথা বলছি।’
প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বাইরে থাকা সাকিবের ফেরার পথে প্রধান বাধা আইনি জটিলতাকে। এ সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রেও বিসিবির আরও সক্রিয় ভূমিকা থাকলে বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান হতে পারত বলে মনে করেন সাকিব। সাকিব যোগ করেন, ‘যদি আইনি বিষয়গুলো বিসিবির মাধ্যমে হতো, তাহলে হয়তো দ্রুত সমাধান সম্ভব ছিল। তবে যেহেতু এটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়, তাই আমাকেই করতে হচ্ছে।’
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: