[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৪ঠা জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কোচের ভুলে হেরে হতাশা, আক্ষেপ নিয়ে হংকং গেলেন হামজারা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:১০ পিএম

এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে সিঙ্গাপুরের পর হংকংয়ের কাছেও ম্যাচের শেষ দিকে হারের চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন ফুটবল সমর্থকরা। যদিও দায় নিয়েছেন স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা নিজেই। তারপরও বার বার কোচের এমন ভুলকে তার বিদায়ের দাবীকে আরও জোড়ালো করে তুলছে।


৩-১ থেকে ৩-৩। বৃহস্পতিবার ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামের প্রায় ২৫ হাজার দর্শক যখন জয় সমতুল্য ড্রয়ের আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফিরতে উদ্যোত হন, ঠিক সেই সময় ম্যাচ শেষের ৩০ সেকেন্ড আগে হংকং ম্যাচ জিতে যায় ৪-৩ গোলে। এ নিয়ে চরম হতাশ দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে সিঙ্গাপুরের পর হংকংয়ের কাছেও ম্যাচের শেষ দিকে হারের চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন ফুটবল সমর্থকরা। যদিও দায় নিয়েছেন স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা নিজেই। তারপরও বার বার কোচের এমন ভুলকে তার বিদায়ের দাবীকে আরও জোড়ালো করে তুলছে।


বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করা কোচ এখন কাবরেরাই। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে নিয়োগ পাওয়া এই কোচের মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে। সবশেষ নবায়ন হয়েছে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। অথচ তিন বছরেরও বেশি সময় কেটে গেলেও দলের পারফরম্যান্সে কোনো দৃশ্যমান উন্নতি নেই। কাবরেরা দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ৩৪টি ম্যাচ খেলেছে। যার মধ্যে জয় ৯টি, ড্র ৮টি এবং হার ১৭টিতে। এর বেশির ভাগ হারের গল্পই শেষ মুহূর্তে গোল হজমের। ঠিক যেমনটা ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতের হংকং চায়নার বিপক্ষে।


বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ার্সের তৃতীয় পর্বের ম্যাচটি ছিল কাবরেরার সাম্প্রতিক ব্যর্থতার আরেক প্রতিচ্ছবি। শুরুতে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। তাও ম্যাচের একদম শেষ সেকেন্ডে গোল হজম করে। খেলা শেষ হওয়ার মুহূর্তে নিজেদের ভুলেই গোল হজম করে জামাল ভূঁইয়ার দল। গ্যালারিতে তখন দর্শকদের মুখে হতাশা, ক্ষোভ আর অপমানের মিশ্র প্রতিক্রিয়া। নিশ্চিত ড্র হওয়া ম্যাচ এমনভাবে হারতে দেখে অনেকে কান্না চেপে রাখতে পারেননি। দর্শকদের হতাশার একটাই নিশানা- কোচ হাভিয়ের কাবরেরা।


বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ডিফেন্ডার কায়সার হামিদের চোখে ম্যাচের শুরু থেকে ছিল কোচের পরিকল্পনায় সমস্যা। তার কাছে মনে হয়েছে দলের মুল একাদশে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের না রাখাটা ছিল কোচের সবচেয়ে বড় ভুল। তিনি বলেন, ‘কাবরেরা বিদেশি কোচ, তার কাছে বাংলাদেশ হারলেই কি বা জিতলেই কি। এমনটা না হলে তো আর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জামাল ভূঁইয়া, শমিত সোম, ফাহামেদুল ইসলামের মত খেলোয়াড়দের শুরুর একাদশের বাহিরে রাখতো না।’


সাবেক এই ডিফেন্ডার মনে করেন এবার বাফুফের কোচ পরিবর্তের জন্য পরিকল্পনা করার প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘কোচ লম্বা সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে উন্নতি খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। বারবারই ফলফল আমাদের আশানুরূপ হচ্ছে না। আমি মনে করি যদি একজন কোচ বারবার ব্যর্থ হয় তার পরিবর্তন করা উচিত।’ জাতীয় দলের সাবেক ফরোয়ার্ড জাহিদ হাসান এমিলির কথা, ‘আমরা হংকংয়ের বিপক্ষে জিততে নেমেছিলাম। ওই সময় ৩-৩ গোলে সমতায় ফিরলে ফুটবলারদের সঙ্গে কোচের সেলিব্রেশনে না গিয়ে নিজে শান্ত থেকে উল্টো আরো এক গোল কিভাবে করা যায় সেটা পরিকল্পনা উচিত ছিল। সেখানে আমরা মনোযোগ হারিয়ে ফেলি ও ভুল করে গোল হজম করে ম্যাচে হারলাম।’


এটাই প্রথম নয়। গেল ১০ জুন জাতীয় স্টেডিয়ামে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের খেলায় সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচেও একই চিত্র ছিল—অকারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা, খেলোয়াড়দের অদলবদল, অচেনা কৌশল। সেই ম্যাচেও হারতে হয়েছিল এমনই ভুলের কারণে। তখন থেকেই কাবরেরাকে নিয়ে সমালোচনা বাড়ছিল, অনেকেই তার বরখাস্তের দাবি তুলেছিলেন। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেনি বাফুফে।


এখন প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশ ফুটবল কি সত্যিই এগোচ্ছে, নাকি এক স্প্যানিশ পরীক্ষাগারের অন্তহীন অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে? হামজা, শমিত, মোরসালিনের মতো তারকা খেলোয়াড়দের নিয়েও জয় থেকে কেনো দূরে বাংলাদেশ। প্রতিবারই কেনো শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে পয়েন্ট হারাতে হয় জামালদের, কেনো শিক্ষা নেয় না দল। দায়টা তাহলে কার, কোচ, খেলোয়াড়, নাকি পুরো সিস্টেমের?


এদিকে হংকং চায়নার কাছে হতাশার হারের ১২ ঘণ্টাও অতিবাহিত হয়নি। এর মধ্যেই শুক্রবার দুপুরে হামজা, জামালদের হংকংয়ের ফ্লাইট ধরতে হয়েছে। মঙ্গলবার এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ফিরতি পর্বের ম্যাচ খেলার জন্য হংকংয়ের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার সময় বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ম্যাচে নিজের ও বদলি চার ফুটবলারের পারফরম্যান্স নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমি, সামিত, ফাহামিদুল ও জায়ান যখন একসঙ্গে ওয়ার্ম-আপ শুরু করেছি, তখন ওদেরকে বলেছি আমরা যখন নামব, তখন ম্যাচের গতিপথ বদলাতে হবে। আমাদের চারজনের ইমপ্যাক্ট ভালো ছিল। চারজনই শুরুর একাদশে খেলতে চাই। সব মিলিয়ে আমরা ভালো খেলেছি।'


অন্যদিকে বাংলাদেশের ফ্লাইট ছিল দুপুর দেড়টায়। ফ্লাইট ছাড়ার দেড় ঘণ্টা আগে হংকং চায়নার ভিসা হাতে পান ফাহামেদুল ইসলাম। ফাহমিদুল ইতালি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসার পর ফেডারেশন তার পাসপোর্ট ভিসার জন্য জমা দেয়। তাই ফাহমিদুলের ভিসা পেতে খানিকটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানা গেছে। তাই বাংলাদেশ দলের সবাই পাসপোর্ট নিয়ে এয়ারপোর্ট রওনা হন কেবল ফাহমিদুল ছাড়া। তার পাসপোর্ট তখনও চীনা দূতাবাসে। শুক্রবার ছুটির দিনও চীনা দূতাবাস বাংলাদেশের ফুটবলারকে বিশেষ ব্যবস্থায় দ্রুত পাসপোর্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। বাফুফে স্টাফ সাড়ে এগারোটায় ফাহমিদুলের পাসপোর্ট সংগ্রহ করে বারোটার মধ্যে এয়ারপোর্টে পৌঁছান। জামাল ভূঁইয়ারা হোটেল ছাড়ার আগে সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর